কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জোরদার হচ্ছে অভিযান

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • ইরাকের আনবারের ঘাঁটিতে অতিরিক্ত মার্কিন সৈন্য প্রেরণ

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ৩শ’র বেশি মার্কিন সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধা ও স্থানীয় উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থিত ইরাকী বাহিনীর মধ্যে লড়াই ক্রমে তীব্র হয়ে ওঠার পটভূমিতে জোরদার করা হয়েছে ঘাঁটিটির নিরাপত্তা। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

আনবার প্রদেশের আইন আল আসাদের সামরিক ঘাঁটির কাছে জঙ্গীরা অবস্থান নিয়ে আছে। গত কয়েক সপ্তাহে ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা দফায় দফায় হামলাও চালিয়েছে। অন্যদিকে গত মাসের শেষার্ধে মার্কিন বাহিনী ঘাঁটির আশপাশে ১৩বার আক্রমণ চালিয়েছে। এসব আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ঠিকই তবে জঙ্গীরা যে হারে গোলা ও রকেট আক্রমণ করে যাচ্ছে তার ফলে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিনীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বার বার বলে এসেছেন, তিনি ইরাকে স্থলসৈন্য পাাঠাবেন না, তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনকে এখন সেই পথে অগ্রসর হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটা কঠিন হয়ে উঠেছে যে রাতের আঁধারে হেলিকপ্টারে আইন আল আসাদ ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠাতে হয়েছে। এর একটি উদ্দেশ্য অনেকটা নীরবে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের আইএসবিরোধী সামরিক তৎপরতাকে বেগবান করা। আরেকটি উদ্দেশ্য ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাজধানী বাগদাদের খুব কাছেই এর অবস্থান। ইরাক সরকারকে সহায়তা করার যে পরিকল্পনা ওবামা প্রশাসন নিয়েছে তারই অংশ হিসাবে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা খুব শীঘ্রই ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার করা হবে। এদের প্রধানত বাগদাদ ও উত্তরের কিরকুক প্রদেশের রাজধানী ইরবিলে মোতায়েন রাখা হবে। তবে ইরাকী বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সৈন্যদের একটা অংশকে সম্প্রতি আনবার প্রদেশে পাঠানো হয়েছে।

আইএস যাতে রাজধানীর দিকে অগ্রসর হতে না পারে সেজন্য বাগদাদের আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। ২০০৩-১১ সালের যুদ্ধে যেখানে ইরাকে ছিল ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি সৈন্য সে তুলনায় বর্তমান সৈন্যসংখ্যা খুবই নগণ্য। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল প্যাট্রিক রাইডার বলেছেন, ‘ইরাক এখনও একটি বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে রয়ে গেছে। এসব বিপদের ঝুঁকি সম্পর্কে আমরা অবহিত আছি। ঝুঁকি প্রশমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আমরা গ্রহণ করে যাব।’ ইরাকের অভ্যন্তরে মার্কিন স্থল অভিযান সম্প্রসারিত করতে বলছেন মার্কিন কমান্ডাররা।

বর্তমানে ইরাকে থাকা মার্কিন সৈন্যদের ইরাকী সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়া অন্য কোন কাজ করতে হচ্ছে না। ইরাকের চারটি ঘাঁটির চার দেয়ালের মধ্যে এখন এই সৈন্যদের দিন কাটছে। ঘাঁটিগুলোর অবস্থান একটি আনবারের আইন আল আসাদে, একটি ফাল্লুজায় এবং অপর দুটি পশ্চিমাঞ্চলীয় হিত শহরে। এর মধ্যে আল আসাদ ঘাঁটির অবস্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এর আশপাশের এলাকা এখন আইএসের প্রভাবাধীন। এটি এখন ইরাকে জঙ্গী বিরোধী লড়াইয়ে প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। যদিও আনবার প্রদেশের কিছু এলাকা এখন আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন কিন্তু পুরো প্রদেশ বিশেষ করে আইন আল আসাদ এখনও তাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। ঘাঁটিটি তাদের দখলে এলে তারা তখন বাগদাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে। এছাড়া এর অবস্থানের কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ জঙ্গীদের হাতে চলে গেলে তারা সহজেই সিরিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫

০৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: