কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

তোমার জামা অন্যরকম

জাহিদ হায়দার

ধারাবাহিকের বাইরে গিয়ে

যখন তুমি সংখ্যালঘু,

ধারাবাহিকের ভেতর ধারায়

তখনও তুমি সংখ্যালঘু।

উজান আর ভাটির সাথে

বৈষম্যের পক্ষপাতে,

ক্ষতি আমার হতেই পারে;

কিন্তু তোমার তৈরি ভেলা

যেতে পারে বিঘ্নবিহীন।

প্রসঙ্গটা অন্যরকম,

করলে হিসাব সঙ্গ পাবে,

এবং তখন একই ধরম;

প্রেমিক আছে অল্প ক’জন,

গল্প তাদের অনেক পাতা;

নয় যে তারা সংখ্যাগুরু।

দুর্দম

গোলাম কিবরিয়া পিনুু

যুদ্ধের সময় যে ছিল সাহসী-

সে এখনো অনিশ্চিত যাত্রায় হাঁটতে পারে না

শৌর্যশালী সে তখনই হয়েছে!

খেতাব পরিয়ে দিয়ে

তাঁকে কেনা যাবে না!

বালিয়াড়ি দেখলেও-

মুখ গুঁজে সেখানে অধঃপতিত অবস্থায়

সে কখনো থাকতে পারে না!

শীতপিঠা শীতে পরিহার করে

সে-ও অস্ত্র হাতে নিয়েছিল।

দুর্দম হাওয়া নিয়ে ছুটতে ছুটতে

কখনো প্রতারক হয়ে উঠেনি-

সে-কারণে এখনো সে কপট হতে পারে না।

নিজেকে এখনো খুলে রেখেছে আগের মতন

জমাখরচের হিসেব না রেখেই-

নিচের তলার সিঁড়ির নিচে দুর্দশায় পড়ে গেলেও

নিজেকে রেখেছে এখনো যুদ্ধের অভ্যন্তরে।

অনাহারি

অরুণ সেন

চারদিক উড়ে গৃহ-পালিত নীরবতা

বালিহাঁসের উপমায় পেজা-মেঘ, ছিন্ন পালক

অথবা তাহার আঙ্গিনা ভরা নৈঃশব্দ-বক

জানি না বিপরীত চাষ কোনো এতো

নিরন্ন চাষার হাড়ে গৃহের বীজ বোনে আর

নির্জনতার মাঠে আপন হৃদয় কেটে গড়ে প্রীতির মিনার

অনাহারি স্মৃতির বন্দুক হাতে পাখি শিকারি আসে প্রতিবার

হত্যার আগে

সৈকত হাবিব

হত্যাকারীরা যখন এলো, আমি ‘রোদ রোদ’ বলে চিৎকার করছিলাম। প্রকৃত প্রস্তাবে, তখন রাত ছিল না; ছিল দিন, রোদও ছিল- বলল অন্যরা। কিন্তু আমি শুধু দেখছিলাম অন্ধকার; মগ্ন আঁধারে ছেয়ে আছে আমাদের বিশ্বগ্রাম। তীব্র চেঁচাচ্ছিলাম আমি, ফেটে যাচ্ছিল আমার হৃদপিণ্ড। চারপাশে ভিড় করে এলো মানুষ। তারা ‘পাগল পাগল’ বলে তুলল শোরগোল, কেউ কেউ দিলো সুড়সুড়ি। তাতে নিস্পৃহ আমি, কেবলই চেঁচাচ্ছি। তিতিবিরক্ত হয়ে অতঃপর এলেন যখন ভদ্র কতিপয়, শান্ত করতে আমাকে, তাদের বললাম, ‘আমাকে হত্যা করার আগে আমার অনুভবকে হত্যা করা হোক।’

সঙ্গে সঙ্গে তারা পাথরবৎ স্থির হয়ে গেল।

দিলকুশা

বদরুল হায়দার

মনের জানালা খুলে নির্ভুল সম্পর্কটুকু কেড়ে নিলে।

মতিঝিলে সূচকের দর পতনের তহবিলে তুমি

দিলের দরিয়া ঢালো। আমি শেয়ার বাজারে

বেঁচে থাকার আলো জ্বেলে হই এলোমেলো।

ঘুম তাড়নায় জেগে উঠে আনন্দের ঢেউমালা। আমি

প্রেমের অবাধ্য তালা খুলে আদি ও আসল ষোলকলা।

গৌরবের উৎকণ্ঠায় নিশ্চিত ফলাফল চলে কামনা রহিত।

আমি পলিবাহিত সুখের জলে ভেসে মহাসর্বনাশা

দৃশ্যাবলীর আকাশে ফোটাই বসন্ত।

ভালোবাসার আষাঢ়ে আবেগের কাছে শতবার

পরাজিত হয়েছি গোপনে। তুমি হৃদপিণ্ডে

সুগন্ধি মাখানো তীর মেখে সন্ধি করো নিবন্ধিত মনে।

দিলকুশা তুমি ব্যবসার আশেপাশে নগদ হিসাবে সোনালী দিনের স্বপ্নদেখো।

ভুলে যাবে সবই

কাজী লাবণ্য

একদিন হয়তোবা ভুলে যাবে সবই

মুছে দেবে জীবনের যত জলছবি

সাগরের কাছে আর রাখবে না দায়

বলবে না কিছু আর কোন জলসায়।

একদিন হয়তোবা জীবনের সুর

পাখিদের মতো আর হবে না মধুর

কাশবন হয়ে যাবে মেঘের আদল

শ্রাবণেও থাকবে না সুখের বাদল।

একদিন হয়তোবা অবারিত ঢেউ

বয়ে যাবে আনমনে দেখবে না কেউ

এই মন হারাবে যে মনের বাগান

হবে না হৃদয়ে আর প্রেম উত্থান।

একদিন সবকিছু হয়ে যাবে ম্লান

রয়ে যাবে স্মৃতিময় মায়া আখ্যান।

ধারাপাত

মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক

রোদেলা দিনের রুদ্র রূপ এখন ঘুমায় এক

অন্ধকার সূর্যের গহীনে। হাঁটি হাঁটি স্তব্ধ পায়ে

সারসেরা হয়েছে উধাও। সতিনের কালো ঘরে-

সংকীর্ণ সংসারে নেই অবিরাম চাঁদের আসর।

প্রতিদিন সূর্যোদয়ে সূর্য দেখে সন্ধ্যার আঁধার।

বৃক্ষের জীবাশ্মে নেই জীবনের সুর। অবিরাম

উত্তাল সাগরে ওড়ে প্রশ্নবদ্ধ সমর্পিত কেউ।

মহাকাল-মহাদেশ মুহ্যমান নিশ্চিত মৃত্যুতে।

মন্দির অঙ্গনে পুরোহিত প্রজ্ঞার প্রাচুর্য মেলে

শুরু করে জুয়াখেলা, এ খেলায় জিত নেই কারো।

পরাজিত ক্ষণে স্বর্গ এসে সঙ্গীতের সুরধ্বনি

শুনিয়ে আবার লুট করে বর্তমান- ভবিষ্যৎ।

স্বপ্নের রোদেলা দিন এখন নিতান্ত স্বপ্নহীন

এখন আঁধার এসে শেখায় নতুন ধারাপাত।

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

০২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: