কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শিল্পাচার্যের সংগ্রহের নকশিকাঁথার প্রদর্শনী

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

বাংলাদেশের চারুকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং শিল্প-সংস্কৃতির পুরোধা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশ ও দেশের বাইরে রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। এই অংশ হিসেবে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্-এর আয়োজনে শিল্পাচার্যের সংগ্রহ থেকে নির্বাচিত নকশিকাঁথার একটি বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টায় রাজধানীর ধানম-িস্থ বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়নুল আবেদিনের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেনÑ “মহামূল্যবান নকশিকাঁথার সংগ্রহ প্রদর্শনের জন্য অনুমতি প্রদান করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতি যে আস্থা স্থাপন করেছেন এর জন্য শিল্পাচার্যের পরিবারের কাছে- বিশেষ করে বেগম জাহানারা আবেদিন এবং মাইনুল আবেদিনের কাছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

প্রদর্শনীতে মোট নকশিকাঁথার সংখ্যা প্রায় ২২টি। প্রদর্শনী আগামী ১০ জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।

মূলত, মানুষ তার কল্পনা ও ধারণাপ্রসূত সৃজনশীল দৃশ্যগুলোকে নানা মাধ্যমে প্রকাশ করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। আমাদের দেশে ‘নকশিকাঁথা’ একটি অনন্যসাধারণ শিল্প-ঐতিহ্যের ধারক। সূচিকর্মের লোকজ ধারায় এর চর্চা অত্যন্ত আদরণীয় ও প্রশংসিত। শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে কারুশিল্পীদের অনবদ্য ভূমিকা ছিল আবহমান কাল থেকেই। সৃজনশীল মেধার অধিকারী গ্রামীণ কারুশিল্পীদের হাতের তৈরি নিদর্শনগুলো আজো আমাদের মুগ্ধ করে। আমাদের পূর্বপুরুষরা, বিশেষত পরিবারের নারীরা দিনের পর দিন সুই ও সুতার সহযোগে নিজস্ব কল্পনাকে বর্ণনা করেছে এই নকশিকাঁথার অবয়বে। সূচিশৈলীর কৌশলগত ব্যবহারে, রঙের বিন্যাসে, বর্ণময় আলোকিত ক্যানভাস নির্মাণ করেছেন মনের একান্ত অনুভবের সূক্ষ্মতম বোধ থেকে উৎসারিত সংগীতের মধুরতা দিয়ে। প্রতিটি নকশিকাঁথায় একেকজন কারুশিল্পী বিবৃত করেছেন তাঁর জীবনের বোধ। নানা ধরনের মোটিফ, তাগা, নকশিপাড় জমিনে নানা দিকে গতিময় সূক্ষ্মতম ফোঁড় দিয়ে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তুলেছেন কালজয়ী শিল্পকর্ম। দক্ষতার দৃশ্যমান সাক্ষ্য বহন করে সূচিকর্মগুলো। কখনো মূর্ত, কখনো বিমূর্ত প্রকাশে স্বপ্নের ছবিগুলো নকশিকাঁথার অবয়বে অঙ্কিত হয়েছে বারবার। কারুশিল্পীদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সবকিছুই যেন রূপান্তরিত হয়েছিল নকশিকাঁথার সমস্ত শরীরে। কখনো রঙে, কখনো অলংকরণে, কখনো সেলাইয়ের কৌশলে, আবার কখনোবা জ্যামিতিক বিন্যাসে। আপাত দৃষ্টিতে নকশিকাঁথার বিন্যাস প্রায় একই রকম মনে হলেও, প্রতিটি নকশিকাঁথাই অনন্য। সামঞ্জস্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যের এক বৈপরীত্য নকশিকাঁথাকে করেছে শিল্পোত্তীর্ণ। সময়কে ধরে রাখার যে বর্ণনামুখর আলংকারিক স্বপ্ন ফোঁড়ে ফোঁড়ে রচিত হয়েছেÑ তা আজো আমাদের বিস্ময়ে অবাক করে দেয়। অনুভবে দোলা দেয়, আমরা যে গৌরবের উত্তরাধিকার বহন করছি, তা কালের নিরিখে শ্রদ্ধা অর্জন করেছে বিশ্বময়। নকশিকাঁথা যদিও ব্যবহারিক প্রয়োজনে তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু তার গড়ন, ধরন, নিপুণতা ও বাক্সময়তা তাকে অনন্যসাধারণ করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন শিল্পাচার্যের পরিবারের সহযোগিতায় আয়োজন করছে বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং ইতালির আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা স্কিরার যৌথ প্রকাশনা গ্রেট মার্স্টাস অব বাংলাদেশ : জয়নুল আবেদিন শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সংগ্রহ থেকে নির্বাচিত নকশিকাঁথার একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। শতবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পাচার্যের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেঙ্গল গ্যালারি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন, বেঙ্গল পাবলিকেশন্স আবুল মনসুরের জয়নুল আবেদিন শীর্ষক গ্রন্থ এবং মাসিক পত্রিকা কালি ও কলম প্রকাশ করেছে জয়নুল আবেদিন শতবর্ষ সংখ্যা।

ঝুমকি বসু

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

০২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: