মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফ্যাশনে স্বপ্নিল অভিযাত্রা

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫
  • রেজা ফারুক

অন্তহীন স্বপ্ন নিয়ে অভিযাত্রা সুচিত হলো নতুন ইংরেজী বছর ২০১৫ সালের। স্বপ্নের বীজ রোপণের বিপুল তোড়জোড়ের মাঝেও একটা শঙ্কার কাঁটা যেন খচ্্খচ্্ করে বুকের মধ্যে বিঁধে যেতে চায়। আর এই কাঁটাটি হলো রাজনৈতিক অস্থিরতার কাঁটা।

যদিও ফেলে আসা বছরটি (২০১৪) ছিল মোটামুটি রাজনৈতিক কর্মসূচীবিহীন একটি বছর। ফলে ফ্যাশন ধারায় কিছুটা স্বস্তির ভাব ছিল লক্ষ্যণীয়। কিন্তু বছর শেষে এসে আবার রাজনৈতিক অঙ্গন হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় রয়েছে। যদি এই আশঙ্কা সত্যি হয় এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচী তাহলে অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতের মতো ফ্যাশন খাতেও পড়বে এর নেতিবাচক প্রভাব। এই সংশয়ের মধ্যে থেকে স্বপ্ন রচনার পথেই এগিয়ে যেতে চায় ২০১৫ সালের ফ্যাশন ভুবন।

ফ্যাশন মূলত সাংস্কৃতিক আবহের ইতিবাচক এক মূল্যবোধকে লালন করে এগিয়ে যায়। আর এই মূল্যবোধের প্রধান উপকরণটি হলো দেশজ সংস্কৃতিকে পোশাকে উৎকীর্ণ করেÑ দেশীয় ফেব্রিক্সকে বিপুলভাবে পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে একটি সম্মিলিত অর্থ ফান্ড সঞ্চালনের রেখায় দাঁড়িয়ে লাভবান হওয়া। সেইসঙ্গে দেশীয় অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখা। নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচীই হলো যার প্রধান অন্তরায়। কিন্তু তারপরেও থেমে নেই ২০১৫ সালকে বরণ করে নেয়ার জাঁকজমক আয়োজন। আর এই আয়োজনের ভেতর দিয়েই ফ্যাশন ধারার সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্র এগিয়ে যাবে অফুরন্ত। শিল্পময়, ছন্দোবদ্ধ অঙ্গীকার নিয়ে। আর এই অঙ্গীকারে, অন্যতম উপাদান হলো আবহমান বাঙালী সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

এ দুটি মৌলিক বিষয়কে উপজীব্য করেই বিগত প্রায় তিন দশক ধরে একটা নান্দনিক পরিম-ল সৃষ্টি করে ফ্যাশন ট্রেডের পথ চলার সূচনা ঘটেছিল এবং আজও সেটা অব্যাহত রয়েছে। আর সেই চলমান পথেই ফ্যাশন ভুবন শিল্প হিসেবে একটা অবস্থান ইতোমধ্যে তৈরি করে নিয়েছে।

যেহেতু ফ্যাশন ধারার মূল ক্রেতা হলো তরুণ প্রজন্ম। তাই তাদের রুচি, পছন্দকে সমুন্নত রেখেই ২০১৫ সালের ফ্যাশন ধারাটি আধুনিকতার উৎকর্ষকে ফর্মে ধারণ করে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে হবে।

সব থেকে বড় কথা হলো যে, এক সময় ফ্যাশনেবল পোশাক কালেকশনের ক্ষেত্রটি ছিল শুধু রাজধানী কিংবা নগরকেন্দ্রিক। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেটি আজ সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার সীমা ছাড়িযে উপজেলা পর্যায়েও ফ্যাশনেবল ড্রেসের চাহিদা বেড়েছে পূর্বাপেক্ষা বহুগুণ। সব ধরনের ড্রেসই নগর সীমা অতিক্রম করে দেশব্যাপী বিস্তৃত ক্রেতার নাগালে চলে গেছে। বস্তুত প্রস্তুতিটাও সে রকমভাবেই পাইনিয়র আউটলেটগুলোর পাশাপাশি সিম্পল আউটলেটগুলোকেও সেভাবেই গ্রহণ করতে হবে। তাহলে বিপুল ক্রেতাগোষ্ঠী দেশীয় ফেব্রিক্সের পোশাক ক্রয়ে হবেন উদ্বুদ্ধ। ২০১৫ সালটি যেন সেই আঙ্গিকেই বিরচিত হয় সেদিকে বুটিকশপের উদ্যোক্তা এবং ডিজাইনারদের গভীরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আর এই ফ্যাশন শিল্পাটা মূলত নগর জীবন কেন্দ্রিক। নগরের কর্মব্যস্ত মানুষ যখন গ্রাম বাংলার আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ঋতুচক্র, বাঙালীয়ানা, বাঙালী সত্তার ছন্দ-তাল খেই হারিয়ে ফেলতে বসে। ঠিক তখনই ফ্যাশন ধারার ঐতিহ্য সংরক্ষণমূলক পোশাক পরিচ্ছেদ মনে করিয়ে দেয় যে এটা বসন্তকাল। এটা গ্রীষ্ম বর্ষা, শরত, হেমন্ত কিংবা শীত। অথবা ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবস। বাবা কিংবা মা দিবস, বন্ধু দিবস, ভ্যালেন্টাইন ডে এবং সর্বোপরি ঈদ, পূজা, ক্রিসমাসসহ সর্বপ্রকার উৎসবী আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয় ফ্যাশন হাউসের অনুপম ডিজাইনকৃত পোশাকে, আর এতে করেই বুঝে নেয়া যায় কতগুলো বিষয়কে উপজীব্য করে এই পথচলা। কত মানুষের নিপুণ আর শৈল্পিক হাতের স্পর্শে নন্দিত আজ এ শিল্প। শুধু ফ্যাশন হাউসই যে আজ ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামী অভিযাত্রী তা নয়। এছাড়াও রয়েছে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য জামদানি শাড়িশিল্প, আছে টাঙ্গাইল শাড়ির বিশাল বাজার। মিরপুরের কাতান-বেনারশিও।

তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন নিয়েই বাঁচে। আগামীর এই স্বপ্ন-ফ্যাশন ভুবনের প্রতিটি স্পন্দনে এক নতুন আশার সুর মূর্ছনা বাজারে এমন প্রত্যাশাই ফ্যাশন সংশ্লিষ্ট সকলের।

ছবি : আরিফ আহমেদ, কেবি সোহাগ

মডেল : মিম, নুসরাত, পাপন, অনিক, ডলার ও জেসিন

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

০২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: