কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পুস্তক প্রকাশনা ও বইমেলা

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫
  • আহমাদ মাযহার

দীর্ঘকাল ধরেই বাংলা একাডেমির বইমেলা বাংলাদেশের সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বইমেলা আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা না হলেও বইমেলার আয়োজন এখন বাংলা একাডেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ অমর একুশে বইমেলার বাইরে নগরবাসীর মধ্যে পুস্তক বিপণনের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতা-উত্তরকালে পুস্তক প্রকাশনায় নাই নাই করেও যতটা উন্নতি হয়েছে, যে পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ হয়েছে, সে তুলনায় বই বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

একটা সময় ছিল, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও ভিপিপি ব্যবস্থায় ডাকে দেশের এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বই পৌঁছে যেত। এই উপায়টি যেমন ছিল সহজ, তেমনি ছিল ব্যয়সাশ্রয়ীও। আজকাল এই ব্যবস্থা আর একেবারেই কার্যকর নেই। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বই পাঠানোর প্রক্রিয়া বেশ ব্যয়বহুল। ফলে বাংলাবাজার থেকে সরাসরি বই সংগ্রহ করা ছাড়া ক্রেতাদের পক্ষে আর প্রায় কোনো উপায়ই নেই। তবে হ্যাঁ, দুই-একজন জনপ্রিয় লেখক এই হিসাবের বাইরে পড়বেন। বিচিত্র বিষয়ে যেসব বই আজকাল প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে পাঠকরা কমই জানতে পারেন। জ্ঞানার্থীদের অনেকেই আর জানতেই পারেন না কোন বই কোথায় পাওয়া যাবে। পাড়ার বইয়ের দোকানে স্কুলপাঠ্য বই ছাড়া বিক্রির জন্য রাখতে দেখা যায় না অতি জনপ্রিয় দু-একজন লেখকের বই। এছাড়া সাধারণ বইসন্ধানীদের কাছে বই পৌঁছানোর আর কোনো উপায় নেই। আমার ধারণা, অমর একুশের অনুভূতির সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক যুক্ত হওয়ায় বইপ্রেমীরা ধীরে ধীরে ব্যাপকভাবে বইমেলামুখী হয়ে উঠেছেন। এই অবস্থা গড়ে উঠেছে আমাদের এক ধরনের সাংস্কৃতিক স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্য দিয়ে। সে জন্যই বাংলা একাডেমির মেলা থেকে কেবল বই ক্রয়ই উদ্দেশ্য থাকে না মেলায় আগত মানুষদের। বই দেখা-কেনার অতিরিক্ত একটা উৎসবমুখরতা, একটা দেশপ্রেমের চেতনা এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বলে এই মেলাকে নিছক একটা বই বিক্রির ব্যবসায়িক মেলা ভাবা একেবারেই ঠিক হবে না। সে-কারণেই একুশের চেতনাগত ভাবমূর্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বইই থাকতে হবে এই মেলায়।

দেখা যায় যে নগরবাসী, কেবল নগরবাসীই-বা বলি কেন, একুশের চেতনাগত কারণে সারা দেশের মানুষেরই প্রত্যাশা থাকে মেলায় আসার। লক্ষ্য নতুন নতুন বই দেখা, সামর্থ্য হলে কেনা। সাধারণ মানুষের এই রকম প্রত্যাশা থেকেই বইমেলা বর্তমান অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে। যেসব বিশেষত্বপূর্ণ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সারাবছর কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না, তারাও এই মেলায় তাদের স্টল নিয়ে আসে। পেশাদার প্রকাশকদের প্রকাশনা ছাড়াও অনেক নবীন লেখকের বই নিজ উদ্যোগে বা বন্ধু-বান্ধবের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে অনেক ভাল বইও থাকে। ফলে বাংলা একাডেমির এই বইমেলা সারা বছরের সৃজন ও মনন-আকাক্সক্ষার মেলা হয়ে ওঠে। এর ফলেই ক্রেতারা বিচিত্র বইয়ের খোঁজ পান এই মেলায়! এসব মিলিয়েই পুস্তক বিপণনে বাংলা একাডেমির বইমেলার ভূমিকা এমন প্রবল হয়ে উঠেছে। বইয়ের দোকানের সংখ্যা যেমন অপ্রতুল তার চেয়ে অপ্রতুল প্রয়োজনীয় বইটির খোঁজ পাওয়া! এই মেলাতে সর্বোচ্চসংখ্যক প্রকাশক তাদের নতুন-পুরনো বই নিয়ে আসে। ফলে সত্যিকারের পাঠককের কাছে বাংলা একাডেমির বইমেলার কোন বিকল্প নেই!

প্রায় সূচনালগ্ন থেকে প্রতিবছরই বইমেলায় আসার সুবাদে লক্ষ্য করেছি যে বাংলাদেশের বই বিপণনে এই মেলার ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ একাধিক। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বাংলা একাডেমির বইমেলার দিকে বেশ নজর দেয়। পত্রিকাগুলো হ্রাসকৃত মূল্যে বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। প্রতিদিন যে বইগুলো আসছে তার সংবাদ প্রচার করে। আশির দশকের একেবারে প্রথমদিকে বইমেলা ছিল বেশ ছিমছাম ও খোলামেলা। গুটিকয় স্টল বসত। আসত স্বল্পসংখ্যক মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে বই উল্টেপাল্টে দেখে বই পছন্দ করতে পারত। এখন মেলায় আসা মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে অনেক। বেড়েছে স্টলের সংখ্যা। স্থানগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ এখন আর যথেষ্ট হয় না। একে অন্যত্র সরানোর দাবিও অনেকে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রয়োজনে অন্যত্র, অন্য সময় একটা বড় বইমেলা হয়তো কখনো আয়োজিত হতেও পারে; কিন্তু একুশের গ্রন্থমেলাকে এখান থেকে সরানোর উপায় নেই। জায়গা হচ্ছে না বলে যেমন শহীদ মিনারকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে থেকে সরানো যায় না, তেমনি অমর একুশের গ্রন্থমেলাকেও বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ থেকে সরানো যাবে না।

আশির দশকের গোড়ার দিকে সে সময়কার হিসেবে মেলায় নিশ্চয়ই বই বিক্রি হতো, কিন্তু বিক্রিটাই বড় ব্যাপার ছিল না। কয়েক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি বেশ বদলে যেতে থাকল। ১৯৮৪ সাল থেকে পেয়ে গেল বেশ একটা বিশাল রূপ। ক্রমেই মনে হতে লাগল যে বিপণনের আকাক্সক্ষা এতে প্রবল হয়ে উঠছে। যতই সময় যেতে লাগল প্রকাশকদের মধ্যে ততই এর বিপণন-আকাক্সক্ষা যেন এর অন্য দিকগুলোকে উপেক্ষা করে হয়ে উঠতে লাগল লাগামছাড়া। স্টল সংখ্যা অহেতুক বেড়ে ওঠার এটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় কারণ। এভাবেই ক্রমেই ক্ষুণœ হতে লাগল অমর একুশের বইমেলার মর্মগত ভাবমূর্তি। বইমেলার প্রকৃত সংকট আমার মনে হয় এটাই। প্রকৃতপক্ষে অমর একুশের ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নীতিতে এখানে স্টল দেয়া হবেÑ এমন নীতি হলে জায়গার অনটন এতটা প্রকট মনে হতো না! গত কয়েক বছর ধরে দেখছি প্রকাশনার সংখ্যা সামান্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক এনজিওকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। যেসব এনজিও সৃজনশীল বা মননশীল বই প্রকাশ করে বইমেলায় তাদের জন্য স্টল বরাদ্দে আপত্তি থাকতে পারে না, কিন্তু বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেয়ার কী যুক্তি থাকতে পারে! বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা মেলার স্পন্সর হতে পারে কিন্তু মেলার লক্ষ্যকে হুমকির মুখে ফেলে তাদের স্টল বরাদ্দ দেয়ার কোন যুক্তি থাকতে পারে না। গত বছরের মেলার প্রধান স্থানে একটি স্টল দেখা গিয়েছিল একটি ব্যাংকের, যা একদিকে স্থান নষ্ট করেছে; অন্যদিকে বইমেলার মর্মগত ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ করেছে। মিডিয়াগুলোর মধ্যে এমন স্টলও দেখা গেছে, যাদের বইমেলায় কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। যদি সেবা দেয়ার স্বার্থে ব্যাংক রাখার প্রয়োজনও হয় তা হলেও বইয়ের স্টলের স্থানের ক্ষতি করে তার অবস্থান হতে পারে না। কাগজের দোকানের যথার্থ কী ভূমিকা থাকতে পারে বইমেলায়? মিডিয়াসেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য কোন একটি ইন্টারনেট সেবাদাতাকে স্টল দেয়া যেতে পারে, কিন্তু তার স্থান মেলার মূল জায়গায় হতে পারে না। গত বছর বিবিসির একটি স্টল ছিল, বইমেলায় বিবিসির ভূমিকা কি? যদি বিক্রি হবে এমন দু-একটা প্রকাশনা বিবিসির থাকত তা হলেও একটা কথা ছিল। যে স্টলগুলোয় নিজেদের বিক্রয়যোগ্য বই নেই সেসব স্টলের কর্মীরা বইমেলার নীতি বহির্ভূত অনেক বই বিক্রির জন্য রাখার অবকাশ পেয়ে যান। বইমেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অবকাশ এভাবেই সৃষ্টি হয়।

বাংলা একাডেমি এই বইমেলার আয়োজক হলেও দেশের প্রধান পুস্তক প্রকাশনা সংস্থা এর অংশগ্রহণকারী। ফলে বইমেলার আয়োজনে প্রকাশকদের সঙ্গে নিতে হবেই বাংলা একাডেমিকে। সে কারণেই নীতিমালা প্রণয়নে তাদের অংশগ্রহণও থাকবে। কিন্তু দেখা যায়, এই কমিটিতে প্রকাশক প্রতিনিধিরা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ বড় করে দেখছেন বা ভবিষ্যতের কোনো সুবিধার পথ তৈরি করে নিচ্ছেন। দীর্ঘকালের পর্যবেক্ষণে আমার মনে এই প্রীতি জন্মেছে যে ক্ষমতাবান প্রকাশকরা নিজেরাই অনেকে এই মেলায় একুশের মর্মগত ভাবমূর্তি রক্ষা করার ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক নন। যথেষ্ট আন্তরিক নন এর সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীলদের অনেকেই। কিন্তু তাঁরাই নানা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বকে করতলগত করে রাখছেন নিজেদের। এসবের চাপে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সংগতভাবে যেমন মেলা ব্যবস্থাপনা করতে পারে না, তেমনি ধরে রাখতে পারে না এর ভাবমূর্তিও। তা না হলে তাদের দ্বারা গৃহীত নীতির ব্যত্যয় তাদের দ্বারাই হয়ে থাকে কেন? ব্যত্যয় যে ঘটবেই সে কথা তারা আগে থেকেই জানে; তা সত্ত্বেও এমন নীতি তারা গ্রহণ করে কেন! আর সে সুযোগে অনুপ্রবেশ ঘটে নানা অসংগতির। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবে এর নীতিমালা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলেও নীতিভঙ্গের পেছনে সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও কম নয়! কিন্তু দায় পড়ে কেবল ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর। যদি সংকীর্ণ স্বার্থকে বড় করা থেকে অন্যরা বিরত থাকে তা হলে রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের বলদর্পিতা এমনিতেই কমে যাবে। এই ধরনের নীতিভঙ্গ যখন সমাজের সবচেয়ে উন্নত স্তর থেকে ঘটে তখনই এই ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়!

গত কয়েক বছর ধরে দেখছি, প্রথমে যত সংখ্যক স্টল বরাদ্দ দেয়া হয় তার থেকে স্টলসংখ্যা এক দুই করে বাড়তে থাকে! বাড়তে বাড়তে প্রায় স্টল না পাওয়ার মতো কেউ আর বাকি থাকে না! অথচ নীতির সীমাবদ্ধতার কারণে যে প্রকাশনার একাধিক ইউনিট পাওয়া উচিত সে পাচ্ছে না। তারপর এমন নীতি প্রণয়ন হয় যাতে নিষ্ক্রিয় প্রকাশকও একদা প্রকাশ করতেন বলে বড় স্টল পেয়ে যাচ্ছেন। যেসব প্রকাশক সম্প্রতি প্রকাশনা শুরু করলেও বেশি সক্রিয় এবং ভাল মানের প্রকাশনা করছেন তাঁরা ছোট আকারের স্টল পাচ্ছেন বা স্টলই পাচ্ছেন না। নীতির আওতায় আসে না বলে কোন কোন প্রকাশকের ভাগে স্টলই জোটে না! এই অবস্থা দেখছি গত কয়েক বছর ধরে। সাম্প্রতিককালে তরুণ উদ্যমী কয়েক প্রকাশক বেশ সক্রিয় আছেন। তাঁরা বইয়ের সংখ্যায়, বিষয় বৈচিত্র্যে, প্রকাশনা মানে পুরনো ঐতিহ্যবাহী প্রকাশকদের অনেকের চেয়ে ভাল এবং বেশি বই প্রকাশ করা সত্ত্বেও বড় স্টল পান না এই বলদর্পী ক্ষমতার সঙ্গে পেরে ওঠেন না বলে। একুশের ভাবমূর্তির স্বার্থে তাঁদের স্টল পাওয়া উচিত এ কথা আয়োজক প্রতিনিধিদের অনেককে বলতে শুনেছি। এ কথাও বলতে শুনেছি যে তাঁরা তা অনুভব করেও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন না বলদর্পী প্রকাশক-বৃত্তের চক্রব্যুহের কারণে। এতে করে বইমেলার স্বাভাবিক সৌন্দর্য রক্ষা করা কি যাচ্ছে? অথচ নীতি যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, সততার সঙ্গে করা হয় তা হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বেই! যেমন বিগত বইমেলায় দৃষ্টান্ত দিতে পারি। নিয়ম করা হয়েছিল, যেসব প্রকাশক পূর্ববর্তী সময়ে প্রকাশিত তাঁদের সব প্রকাশনা জাতীয় আর্কাইভে জমা দেবেন না তাঁরা স্টল পাবেন না। এই নিয়ম করার পর থেকে এই সংক্রান্ত আইনের বাস্তবায়ন ঘটতে শুরু করেছে, এত দিন এর কোনো প্রয়োগই ছিল না সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাবে। লক্ষ্য করেছি, আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির জগতের মানুষদের কেউ কেউ নিজের অবস্থান ভুলে মেলা কমিটির কাছে অন্যায় আবদার নিয়ে আসেন বা প্রভাব খাটাতে চেষ্টা করেন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের বলদর্পিতাও মেলার ভাবমূর্তি প্রায়ই ক্ষুণœ করে। বইমেলা আয়োজনে এসব অন্তরালের ঘটনা মেলার মর্যাদাকে নিচে নামিয়ে আনে। বইমেলায় এমন অনেক স্টল থাকে, যেসব স্টলের উপস্থিতি অনিবার্য তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে। কিন্তু দেখা যায় যে স্টলগুলো পাওয়ার পর আর এর ভাবমূর্তির দিকে সেসব প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন দৃষ্টি রাখে না বা রাখার সামর্থ্য তাদের নেই। এই কাজগুলো ঘটে আমাদের দেশের কোন কোন খ্যাতিমান মানুষের বিবেকহীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই।

সব কিছুর ওপরে স্থান দিতে হবে শুভবুদ্ধিকে। কারণ একটি ভাল নীতিকেও কলুষিত করে ফেলা যায় অশুভ ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকার করলে। বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় শুভবুদ্ধিকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে। বাঙালীর জাতীয় চেতনার সেই প্রেরণাকেই জাগিয়ে তুলতে হবে বাংলা একাডেমি আয়োজিত বইমেলার সাফল্যের জন্য। কারণ বাংলা একাডেমির বইমেলা কেবল বই বিক্রির মেলাই নয়, বাঙালীর মননগত শক্তির মিলনমেলাও।

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

০২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: