রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৫ জানুয়ারি নাশকতা চালাতে ঢাকায় অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে!

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫
৫ জানুয়ারি নাশকতা চালাতে ঢাকায় অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে!
  • অস্ত্র ও গুলিসহ পেশাদার খুনী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকায় রাজনৈতিক হত্যা ও নাশকতা চালাতে অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুত করা হচ্ছে। প্রথম টার্গেটে রয়েছেন যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা। ওই যুবলীগ নেতাকে হত্যা করতে একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বিদেশী পিস্তলসহ এক পেশাদার খুনী মিশনে নেমেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে একহাজার রাউন্ড তাজা বুলেট, স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক বিদেশী দুটি রিভলবার ও একটি পিস্তলসহ এক পেশাদার খুনী ও অবৈধ অস্ত্র চোরাকারবারি গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদগুলো আগামী ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতা চালাতে মজুদ করা হয়েছিল বলেও তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মোঃ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন কদমতলী ব্রিজ সংলগ্ন পূর্ব বাসাবো এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ১/১১ নম্বর পূর্ব বাসাবো মোবাইল সার্ভিসিং ইঞ্জিনিয়ার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের অফিস থেকে উদ্ধার হয় অস্ত্র-গোলাবারুদগুলো। গ্রেফতার করা হয় মোঃ সাইফুল্লাহ খাঁনকে (৪০)।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি মুখপাত্র ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর ও মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মনিরুল ইসলাম সাইফুল্লাহ খাঁনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানান, জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদগুলো রাজনৈতিক নেতা হত্যা, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- সৃষ্টির উদ্দেশে ঢাকায় মজুত করা হয়েছিল। ডিবি কর্তৃক এ ধরনের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র এবং এত তাজা বুলেট উদ্ধারের ঘটনা কমই ঘটেছে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র তিনটি ব্রাজিল ও যুগোসøাভিয়ায় তৈরি। খুবই অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়। এ ধরনের অস্ত্রের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করার ঘটনাটিও রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রের চালানটির সঙ্গে বড়মাপের অস্ত্র চোরাকারবারিরা জড়িত। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, রাজনৈতিক হত্যার মধ্যে যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা রয়েছেন হত্যাকারীদের টার্গেটে। কন্ট্রাক্ট কিলিং ছাড়াও পরিকল্পিত নাশকতা চালাতে অস্ত্র-গোলাবারুদগুলো মজুত করা হয়েছিল। অস্ত্র-গোলাবারুদগুলো কয়েক দিন আগেই দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে আসামির কাছে পৌঁছে। এরমধ্যে ২টি অস্ত্র তারা হস্তান্তর করেছে। একটি অস্ত্র এক রাজনৈতিক দলের নেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ওই ক্রেতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আরেকটি অস্ত্র একজন পেশাদার খুনীর কাছে বিক্রি বা টার্গেটকৃত যুবলীগ নেতাকে হত্যা করতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই অস্ত্রটি উদ্ধারে এবং খুনীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ওই পেশাদার খুনী টার্গেটকৃত যুবলীগ নেতাকে হত্যার উদ্দেশেই অস্ত্রটি কিনতে পারে বা তার কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। গ্রেফতারকৃত আসামি পেশাদার খুনী, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র চোরাকারবারি। আগামী ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতা চালাতে এত মারাত্মক ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের বুলেট মজুত করা হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তদন্ত চলছে। যাদের ইন্ধনে অস্ত্র-গোলাবারুদগুলো ঢাকায় মজুত করা হয়েছিল তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, গ্রেফতারকৃত সাইফুল্লাহ খাঁন এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর মতিঝিল, পুরানা পল্টন, মতিঝিল এজিবি কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় রীতিমত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন এলাকাবাসী। বহু মিছিল মিটিং বিক্ষোভ হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে সাইফুল্লাহ খাঁন অন্তত ২৮টি মামলার আসামি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একটি বিশেষ বাহিনী সৃষ্টির পর তিনি পালিয়ে সৌদি আরব চলে যায়। তার অনুপস্থিতিতে তারই আরেক ভাই ছাত্রদল নেতা শান্ত (ডাকনাম) মতিঝিল, ফকিরাপুলসহ আশপাশের এলাকায় বড় ভাইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে। সম্প্রতি সাইফ্ল্লুাহ দেশে ফেরে। ফিরেই পুরনো অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সক্রিয় করে তোলে অস্ত্র চোরাচালান ব্যবসা। বড় মাপের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশে এবং পেশাদার খুনীদের চাহিদা মোতাবেক মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি শুরু করে।

গত ২৬ ডিসেম্বর হিলি সীমান্ত দিয়ে আসে একটি বড় অস্ত্রের চালান। চালানটিতে আসে তিনটি পিস্তল ও দুটি রিভলভার আর ১ হাজার ১৭ রাউন্ড বিভিন্ন বোরের তাজা বুলেট। চালানের মধ্যে গত ২৮ ডিসেম্বর ৮ রাউন্ড তাজা বুলেটসহ একটি রিভলভার ২ লাখ টাকায় এক ছাত্রদল নেতার কাছে বিক্রি করেন সাইফ্ল্লুাহ। যদিও এটি আগাম অর্ডার দেয়া ছিল। আরেকটি পিস্তল টার্গেটকৃত যুবলীগ নেতাকে হত্যা করতে এক পেশাদার খুনীকে ৯ রাউন্ড বুলেটসহ দেয়া হয়েছে। হত্যা মিশন নিয়ে মাঠে রয়েছে সেই পেশাদার খুনী। অস্ত্র-গোলাবারুদগুলোর মূল ক্রেতা ছিল কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা। আগামী ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বড় ধরনের নাশকতা চালাতে অস্ত্র গোলাবারুদগুলো মজুত করা হয়েছিল।

প্রকাশিত : ২ জানুয়ারী ২০১৫

০২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: