মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে শহীদুল হক ও বেনজীরের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা জানিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক। গুডবাই বলে বিদায় নিয়েছেন তার পূর্বসূরি হাসান মাহমদু খন্দকার। একইভাবে বিদায় নিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত নতুন কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া আজ বৃহস্পতিবার থেকে নবযাত্রা শুরু করবেন। ওদিকে এলিট ফোর্স র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমানও বুধবার অফিস করে গুডবাই জানিয়েছেন সবাইকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত বেনজীর আহমেদ অবশ্য বুধবার দায়িত্ব বুঝে নেননি। আগামী সোমবার তিনি বসবেন নতুন কর্মস্থল র্যাব সদর দফতরে। তারা তিনজনই জননিরাপত্তা ও দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নব প্রত্যয়ে আরও ঘোষণা করেছেন, আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে পুলিশ ও র্যাবকেও আধুনিকায়ন করতে হবে। যত বেশি লজিস্টিক সাপোর্ট পাওয়া যাবে তত বেশি দেশ ও জনগণের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ, র্যাব, পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল ছিল বছরের শেষ দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

জননিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশে স্বচ্ছতা থাকবে- আইজি ॥ নবনিযুক্ত আইজি একেএম শহীদুল হক বুধবার পুলিশ সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় বলেছেন, পুলিশ ও জনগণকে একে অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্বও দূর করতে হবে। পরস্পরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরত্ব ঘোচাতে পারলেই গণমুখী পুলিশী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। জননিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও শ্ঙ্খৃলা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই পুলিশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, অন্যায়ের জন্য অতীতে কোন পুলিশ সদস্যকে প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। এখনও এ ধরনের কোন ঘটনার জন্য জিরো টলারেন্স থাকবে।

এর আগে তারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন পূর্বতন আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। তিনি তার সময়ের ‘সব অর্জনের’ কৃতিত্ব দিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের।

উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন পুলিশ প্রধানের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে হাসান মাহমুদ বলেন, ‘যা কিছু অর্জন- তা সব তোমাদের। বাকি যা থাকল তা নতুন নেতৃত্ব এগিয়ে নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন না পেলে পুলিশের গত কয়েক বছরের সাফল্য সম্ভব হতো না। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আন্তরিকতা আমাদের উৎসাহ যুগিয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর ও ‘বিদায়ী বরণ ফ্যান ফেয়ার’ এরপর দীর্ঘদিনের কর্মস্থলে শেষবারের মতো সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন হাসান মাহমুদ।

নতুন আইজিপি শহীদুল হক লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে। ১৯৮৪ সালের বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৬ সালে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করে আসা এই পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএও করেছেন। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের পর ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে এসেছিলেন তিনি। সর্বশেষ অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

র্যাবকে আধুনিকায়ন করতে হবে ॥ র্যাব মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমানও বিদায়ী ভাষণে র্যাবকে আরও আধুনিকায়ন করার ওপর গুর্ত্বুারোপ করেন। দুপুর আড়াইটায় র্যাব সদর দফতরে বিদায় বেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, র্যাবের বর্তমান যে প্রযুক্তি রয়েছে সেটিকে আরও আধুনিক করা হলে র্যাব দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে। এছাড়া মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে র্যাব আরও সফলভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করেন মোখলেছুর রহমান।

তিনি বলেন, র্যাব আন্তরিকতার সঙ্গেই সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছে। এ তদন্তের বিষয়ে কোন ঘাটতি ছিল না। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে শত ভাগ সফল হয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, র্যাবের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়নি বরং বেড়েছে। মাত্র ১১ হাজার সদস্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে র্যাব। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে র্যাবের কোন দূরত্ব নেই।

বিদায়ী মহাপরিচালক জানান, তিনি প্রায় চার বছর র্যাবের ডিজি ছিলেন। তার সময়কালে র্যাবকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: