আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিরে দেখা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

জার্মানির বিশ্বকাপ জয়, টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, কিংস কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেখ জামালের ইতিহাস, জিম্বাবুইয়েকে ‘ডাবল ওয়াশ’, দেশের ফুটবলে নারী জাগরণ, জাতীয় ফুটবল দলের সাফল্য, আন্তর্জাতিক হকিতে শিরোপা জয়, মহিলা হ্যান্ডবল দলের পাকিস্তান বিজয়সহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। লিখেছেনÑ মজিবর রহমান

‘সময় এবং স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।’ ঘড়ির কাঁটা প্রতিনিয়ত টিক টিক করে জানিয়ে দিচ্ছে জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিটা সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, দিন, মাস, বছর। প্রকৃতির চিরন্তন এই ক্রমধারাবাহিকতায় দেখতে দেখতে চলে গেল আরও একটি বছর-২০১৪। শুরু হয়ে গেল আরেকটি বছর। বাতাসে শীতের আমেজ। নতুন বছরকে বরণ করার উৎসব।

বিদায়ী বছরে পেছন ফিরে তাকালে, সাফল্য-ব্যর্থতা, হাসি-কান্নার অনেক চিত্রই ভেসে উঠবে স্মৃতির আয়নায়। ক্রীড়াজগতও এর বাইরে নয়। খেলাধুলা হচ্ছে নির্মল আনন্দ উপভোগের সেরা মাধ্যম। কর্মব্যস্ততার মাঝেও পৃথিবীর প্রায় সব মানুষের চোখ খেলার মাঠের দিকে এক নজর হলেও উঁকি দিয়ে থাকে মনের খোরাক যোগাতে। এতে কেউ আনন্দে উদ্বেলিত হন। আবার অনেকের চোখে ঝরে অশ্রুধারা। রয়েছে স্বজন হারানোর বেদনাও। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ২০১৪ সালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিশ্ব কাঁপানো বিশ্বকাপ ফুটবল। আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে জার্মানির শিরোপা জয়। আর ফুটবলের দেশখ্যাত ব্রাজিলের বিবর্ণ চিত্র ঘরের মাঠে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার শিরোপা জয় ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে।

এছাড়া পেছন ফিরে তাকালে চোখে পড়বে অর্জন-বিসর্জনের আরও অনেক চমক, তাক লাগানো ঘটনা। বাংলাদেশের খেলাধুলার ক্ষেত্রটা খুব বড় না হলেও, আমরা অংশ নিয়ে থাকি আন্তর্জাতিক প্রায় সব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূূর্ণ আসরে। এরমধ্যে হিসাব-নিকাশের নিক্তিতে বিচার করতে গেলে অন্য সব বিষয়ের চেয়ে ফুটবলের পাল্লাটাই সবচেয়ে ভারি। বিশেষ করে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের নতুন ইতিহাস, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের অর্জন, আর এশিয়ান গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের আরও ওপরে জায়গা (১৬৫) করে নেয়া দেশের জন্য বিরাট গৌরবের। অতীত ব্যর্থতা কাটিয়ে ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্য ও জেগে ওঠা নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয়। প্রশংসার দাবি রাখে বাংলাদেশের হকিও।

ক্রিকেট নিয়ে এ দেশের মানুষের অনেক স্বপ্ন, প্রত্যাশা, আকাক্সক্ষা। জনপ্রিয়তায় এই মুহূর্তে শীর্ষে থাকা দেশের ক্রিকেট ধারাবাহিক ব্যর্থতার খোলস থেকে বেরিয়ে দায়মুক্তির জয় পায় ঘরের মাঠে জিম্বাবুইয়েকে ‘টেস্ট ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ’ করে। কথায় আছে, ’শেষ ভাল যার সব ভাল তার।’ সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে কতটুকু কার্যকর হয় নতুন বছরের শুরুতে তা প্রমাণ হয়ে যাবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে আয়োজিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে। তবে এক কথায়, ২০১৪ সাল ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের সাফল্য মোড়ানো বছর। ময়দানী লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফুটবলার সানজিদার এশিয়ার সেরা দশের তালিকায় সাত নম্বরে জায়গা পাওয়া কম গর্বের নয়।

২০১৪-ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সাফল্যের বছর পর্তুগীজ তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। ফিফা ব্যালন ডি’অর থেকে সর্বশেষ গার্ডিয়ান বর্ষসেরা পুরস্কার। এক বিশ্বকাপ বাদে আন্তর্জাতিক যত পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে প্রায় সবই গলায় ঝুলিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই সেরা তারকা ফুটবলার। ক্লাব ফুটবলে বছরটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। মর্যাদার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, স্প্যানিশ কোপা দেল রে, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ-সব শিরোপাই ঘরে তোলে স্পেনের বিশ্বনন্দিত এই দলটি। ব্রাজিল বিশ্বকাপ শেষে তারকা ফুটবলারদের অবসরের হিড়িক রেকর্ড গড়ে বিদায়ী বছরে যা অতিতে কখনও ঘটেনি।

বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীরা স্বপ্নের জাল বুনে থাকেন ক্রিকেটকে ঘিরে। গেল বছরের শুরুতেই নিজেদের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজে টি২০, ওয়ানডে ও টেস্টে হোয়াইটওয়াশের ক্ষত না শুকাতেই টি২০ বিশ্বকাপের চরম ব্যর্থতায় দর্শকের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। টি২০ বিশ্বকাপে হংকংয়ের মতো টিমের বিরুদ্ধে পরাজয় ছিল সবচেয়ে লজ্জার। এরপর অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের কাছে হার। ঘরের বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্টে হোয়াইটওয়াশ। ঠিক একইভাবে ভারত সফরে স্বাগতিক দলের বিরুদ্ধে ওয়ানতে (তিন ম্যাচ) হোয়াইটওয়াশ। লজ্জার এখানেই শেষ নয়। এশিয়া কাপে একটি ম্যাচেও জিততে না পারায় বাংলাদেশের ক্রিকেট চাপা পড়ে ধ্বংসস্তুপে। এই আসরে আফগানিস্তানান লজ্জার পাশাপাশি রয়েছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কাছে পরাজয়। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টা সরস আলোচনার খোরাক যোগায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। তবে বছরের প্রায় অন্তিমলগ্নে আবার জেগে ওঠে বাংলাদেশের ক্রিকেট। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন টেস্টে সফরকারী জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশের মাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে টাইগাররা। এতে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন সবাই। যদিও সমই ভাল বলতে পারবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্যে কি ঘটে।

ফুটবলে বাংলাদেশের সেরা অর্জন ক্লাব পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ভুটানের কিংস কাপ জয়। কৃতিত্বের দাবিদার শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। ফাইনালে ভারতের পুনে এফসিকে হারিয়ে (১-০) কিংস কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেখ জামাল ধানম-ি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ক্লাবের আসনে। ভুটানের ড্রুক ইউনাইটেড ক্লাবকে ৩-০ গোলে, থাইল্যান্ডের নাখোন রাতচাসিং মাজদার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র ও ভারতের মোহনবাগানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় শেখ জামাল ধানম-ি। আর সেমির লড়াইয়ে নেপালের মানাং মার্শিংয়াদী ক্লাবকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। অবশেষে সেই ইতিহাস সৃষ্টি করা অর্জন-সাফল্য। চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেখ জামাল বাংলাদেশের ফুটবল তথা জাতির মুখ উজ্জ্বল করে। একই বছর ভারতের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডে অংশ নিয়ে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশের গৌরব শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। যদিও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিলেন শেখ জামালের ফুটবলাররা। কিন্তু শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় ভারতীয় রেফারির বিতর্কিত বেরসিক বাঁশির কারণে। ফাইনালে শেখ জামালের প্রতিপক্ষ ছিল ভারতের মোহামেডান। ম্যাচের এক পর্যায়ে শেখ জামালের সুযোসন্ধানী গোলদাতা, প্লেমেকার হাইতির ফরোয়ার্ড সনি নর্দেকে কৌশলে লালা কার্ড দেখিয়ে বের করে না দিলে খেলার ফল অন্য রকম হতে পারত। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের ১২০ মিনিটের (অতিরিক্ত সময়সহ) লড়াই ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকার পর টাইব্রেকারে শেখ জামাল হেরে যায় ৪-৩ গোলে। এ নিয়ে কোলকাতার সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারে শিরোনাম হয়েছিল ‘রেফারি সন্তোষ কুমারের বদৌলতে শিরোপা মহামেডানের (মোহামেডান)’। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শেখ জামাল জয় করেছিল নেপালের পোখরা সাফাল গোল্ডকাপ।

সার্বিক বিচারে কালের গর্বে হারিয়ে যাওয়া ২০১৪ সালটি শেখ জামালের স্বর্ণালি সাফল্যের বছর। ঘরোয়া ফুটবলের দুটি শিরোপাই ঘরে তোলে ঐতিহ্যবাহী এই দলটি। এর মধ্যে ফেডারেশন কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (পেশাদার লীগ) শিরোপা জয়।

এছাড়া শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ ফুটবলের ফাইনালে ওঠে বাজিমাত করে দেশীয় ফুটবলের আরেক সমৃদ্ধ শক্তি শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। বড় মাপের এ ধরনের আসরে বাংলাদেশের কোন ক্লাবের ফাইনালে খেলা এটিই প্রথম। কোরিয়ার ইনচনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের ফুটবলে আফগাস্তানিকে হারিয়ে পরাজয়ের খোলস ভাঙ্গতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এশিয়ান গেমসে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সফরকারী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথমটিতে ড্র ও দ্বিতীয়টিতে ১-০ গোলে জয়ী হয় লাল-সবুজের এই দেশ।

ফুটবলে বাংলাদেশের নারী জাগরণের বছর ২০১৪। বিশ্ব ফুটবলের শাসক সংস্থা ফিফার বিধান অনুযায়ী পূর্ণসদস্য ২০৯টি (বর্তমান) দেশকেই পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা টিম থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০০৪ সালের এই আইনে বাংলাদেশে মহিলা ফুটবলের অভিষেক হয় পশ্চিমবঙ্গ দলকে এদেশে আমন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে। চারটি প্রদর্শনী ম্যাচের মধ্যে ২২ গোল খেয়ে শুরু বাংলাদেশের। এরপর সর্বশেষ ম্যাচেও বাংলাদেশের মেয়েরা ১২ গোলে হার মানে। বিগত প্রায় দশ বছরের পরিশ্রম ও সাধনায় বাংলাদেশের মেয়েরা আতুর ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছে। সেই পশ্চিমবঙ্গকে ইন্দো বাংলা, বাংলাদেশ গেমসে হারিয়ে শিরোপা জিতে মহিলা ফুটবলে বিপ্লবের সূচনা। বর্তমানে ভারত জাতীয় দলকেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিতে ঘাম ঝরাতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের মেয়েরা এখন তৃতীয় অবস্থানে। ঢাকায় সদ্যসমাপ্ত এএফসি অনুর্ধ-১৬ মহিলা ফুটবলে রীতিমত ঝড় তুলে বাংলাদেশ। বিগত আসরে ৬ গোল খাওয়া শক্তিশালী জর্দানকে হারিয়ে (১-০) মধুর প্রতিশোধ নেয় এদেশের মেয়েরা। ৬-১ গোলে জয়ের আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করে বঙ্গললনারা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে। চ্যাম্পিয়ন ইরানী মেয়েরা গত আসরে ৯ গোলে জয়ী হলেও এবার কাঠখড় পুড়িয়ে জয় (৩-০) নিশ্চিত করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। আর শেষ ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে পরাজয়টা ছিল সানজিদাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। অস্ট্রেলিয়ান রেফারির দেয়া লাল কার্ড ও পেনাল্টিতে একমাত্র গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ।

এরপর নবেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত মহিলা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়ে। আট জাতির এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা উড়িয়ে দেয় মালদ্বীপ ও আফগাস্তানিকে। আর ভারতের কাছে ন্যূনতম ব্যবধানে হেরে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিতে খেলা নিশ্চিত করে। আর সেমিফাইনালে পরিণত শক্তি নেপালের বিরুদ্ধে এক গোলের হার। অল্প সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হওয়া দুটি আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন ফরোয়ার্ড সানজিদা। যার পুরস্কার হিসেবে তিনি এখন এশিয়ার সেরা দশ মহিলা ফুটবলারের তালিকায় সপ্তম স্থানে। নিঃসন্দেহে বিশাল অর্জন। এ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোন মহিলা ফুটবলারের নাম নেই।

বাংলাদেশ মহিলা হ্যান্ডবল দলের অর্জনটাও ঈর্ষণীয়। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আইএইচএফ ট্রফিতে শিরোপা জয়। বিদেশের মাটিতে মহিলা হ্যান্ডবল দলের এটিই প্রথম শিরোপা। ফাইনালে তারা পরাজিত করে শক্তিশালী স্বাগতিক পাকিস্তানকে। সঙ্গতকারণে মহিলা ফুটবলারদের পাশাপাশি হ্যান্ডবলের মেয়েরাও দারুণ উচ্ছ্বসিত। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ হারায় নেপালকে। তার আগে আরও একটি ম্যাচে ইয়েমেনকে পরাজিত করে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দল।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এ মাসে আরও একটি বিজয় উপহার দেয় বাংলাদেশ হকি দল। ঘরের মাঠে এএইচএফ অনুর্ধ-২১ আন্তর্জাতিক হকিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ফাইনালে বাংলাদেশ ৪-০ গোলে পরাজিত করে ওমানকে। মর্যাদার এ আসরে বাংলাদেশের এটিই প্রথম শিরোপা। চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে হারিয়ে উদ্ভাসিত সূচনার পর থাইল্যান্ডকে ১০-০ গোলে, ওমানকে ৭-০ ও শ্রীলঙ্কাকেও ৭-০ গোলে পরাজিত করে সবুজ জমিনে লালসূর্য আঁকা পতাকার দল বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, শীর্ষ দল হিসেবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও দ্বিতীয় দল হিসেবে ওমান ফের মুখোমুখি হয় ফাইনালে। স্মরণযোগ্য, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘ ব্যর্থতার পর ২০১৪ সাল বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাসে উপহার দিয়েছে নজরকাড়া সাফল্য। উল্লিখিত সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে, যেন নতুন করে জেগে উঠছে বাংলাদেশের খেলাধুলা। বিদায়ী বছরে যা ক্রীড়ামোদীদের হৃদয়ে আনন্দের ফল্গুধারা বইয়ে দিয়ে আগামীর পথ চলাটা আরও স্বপ্নীল করে তুলেছে।

ইংরেজী বিদায়ী বছরের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’Ñ বিশ্বকাপ ফুটবল। আয়োজক দেশটির নাম ফুটবলের দেশখ্যাত ব্রাজিল। কিন্তু ভক্তদের কাঁদিয়ে গোটা আয়োজনটা ব্রাজিলিয়ানদের জন্য তামাদি হয় শিরোপা জিততে না পারায়। তার চেয়েও বড় বিষয় সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের আসহায় আত্মসমর্পণ। যা ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবরের ৮৪ বছরের ইতিহাসে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে লজ্জার। জার্মানির চতুর্থ বিশ্বকাপ জয় গত হয়ে যাওয়া বছরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

বিশ্বের জনপ্রিয় খেলার আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে টেনিস। প্রায় বছরব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়া বিভিন্ন আসরের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদার চার গ্র্যান্ডসøাম লড়াইয়ে ইউএস ওপেন জয় করেন স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রোয়েশিয়ার মারিন সিলিচ। ফ্রেঞ্চ ওপেনে রাশিয়ার মারিয়া শারাপোভা ও স্পেনের রাফায়েল নাদাল, উইম্বল্ডনে চেক প্রজাতন্তের পেত্রা কেভিতোভা ও সার্বিয়ার নোভাক জকোভিচ এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চীনের লি না ও সুইজারল্যান্ডের স্টাসøাস ওয়ারিঙ্কা।

২০১৪ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের শোকের বছর অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজেসের অকালমৃত্যুতে। ঘরোয়া ক্রিকেটে স্বদেশী পেসার শন এ্যাবোটের বল মাথায় আঘাত করলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে যান হিউজেস। একইভাবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কাঁদিয়েছে কৃতী সাবেক ক্রীড়াবীদ, প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার মঞ্জুর হাসান মিন্টুর মৃত্যু। ভারতে স্বপরিবারে বেড়াতে গিয়ে বাথরুমে আকস্মিক পা পিছলে পড়ে মাথায় প্রচ- আঘাত পেয়ে চির বিদায় নিয়েছেন সবার প্রিয় ‘মিন্টু ভাই’।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: