মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গণতন্ত্রে নবযাত্রার এক বছর

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫
  • উত্তম চক্রবর্তী

ভয়াল সহিংসতা ও শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে গণতন্ত্রে নবযাত্রার এক বছর পূর্ণ হলো। বিদায়ী বছরে নিশ্চিত অসাংবিধানিক শাসনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিল বাঙালী জাতি। মোটামুটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ রেখেই বিদায় নিল আলোচিত একটি বছর, ২০১৪ সাল।

৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় নির্বাচনকে ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশজুড়ে ভয়াল নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা, লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, দেশে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন আদৌ থাকবে কি-না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব আর শত উস্কানি, শাসানি ও জীবন-সম্পদহানির হুমকি সবকিছু অগ্রাহ্য করে দেশের মানুষ দশম জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছিল। নির্বাচিত সরকার শক্তহাতে ও দৃঢ়তার সঙ্গে সংঘাত-সহিংসতা দমন করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছিল। আক্রান্ত দিশাহারা, বিভ্রান্ত দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ।

ঠিক এক বছর আগে যে চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে বিদায়ী ২০১৪ সালটি শুরু হয়েছিল, নির্বাচন পরবর্তী গত এক বছর মোটামুটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণই ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। নির্বাচনে না এসে দু’কূল হারানো খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট পুরো একটি বছর কোন আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারেনি। বরং অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখোমুখি পড়েছে জোটটি। বিএনপি-জামায়াত ভেবেছিল, নির্বাচন হলেও তাদের সহিংস আন্দোলনের মুখে বিজয়ী সরকার একমাসও টিকতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। বছরজুড়েই সরকার পতনের হুঙ্কার দিলেও রাজপথে দেখা মেলেনি বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াতের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে শ্বাসরুদ্ধকর অস্থির পরিবেশ থেকে দেশকে উদ্ধার করে দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি, স্বস্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আর জনসমর্থন হারিয়ে বিএনপি বছর ধরেই মুখে হুমকি-ধমকি ছাড়া কার্যত রাজপথে নামতেই পারেনি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জামায়াতকে ফেলে দিয়েছে অস্তিত্বের সঙ্কটে। শক্তহাতে বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছে রাজনৈতিক দৃর্বৃত্তদের। তবে বিদায়ী বছরের সবচেয়ে রাজনৈতিক চমক হচ্ছে- জাতীয় সংসদে এবার বিএনপি-জামায়াতের কোন প্রতিনিধি নেই। বিএনপির পরিবর্তে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জাতীয় পার্টি, আর খালেদা জিয়ার পরিবর্তে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসেছেন জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ।

রাজনৈতিক অঙ্গনে কেমন গেল এই একটি বছর। এ নিয়ে এখন হিসাব মেলাতে ব্যস্ত সবগুলো রাজনৈতিক দলই। লাভ-লোকসানের হিসাব মেলাচ্ছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। কিন্তু এক বছরের সালতামামিতে সবার হিসাবের খাতায় উঠে এসেছে একটি তারিখ, তা হলো বিদায়ী বছরের শুরুর ৫ জানুয়ারি। কোনও কারণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ব্যর্থ হলে ২৪ জানুয়ারির পর যে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতো, তা অসাংবিধানিকভাবে পূরণ হওয়ার সম্ভাবনাই থাকত বেশি। হয়ত বা আবার পুনরুত্থান ঘটত এক/এগারোর। নির্বাচন বানচাল করে এমন অসাংবিধানিক সরকারই চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট এবং তথাকথিত কিছু সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। কিন্তু দশম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান যে সম্ভাবনাকে নস্যাত করে দিয়েছে। বিদায়ী বছরে সেটাই ছিল বড় সার্থকতা।

বছর ধরেই বিএনপি-জামায়াত জোট দশম জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম দেখিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবিতে পুরো বছরই ধরনা দিয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর কাছে। কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় একটি সরকার গঠনের জন্য যে ধরনের নির্বাচন হওয়া আবশ্যক, প্রবল প্রতিকূলতা ও ভয়াল সহিংসতার ভেতরেও তা হয়ে উঠতে পেরেছে, এটাই বড় কথা। নির্বাচন নিয়ে বছরের শুরুতে বিশ্বের যেসব দেশ নেতিবাচক কথা বলেছিল, মাত্র এক বছরেই বাংলাদেশের চমক দেয়ার মতো উন্নয়ন দেখে এখন তারাই বর্তমান সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

বছরজুড়েই হুঙ্কার, রাজপথে দেখা নেই বিএনপির

৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নেয়া যে মহাভুল ছিল, সময়ের ব্যবধানে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াসহ তাঁর দলের নেতারা এখন ভালই টের পাচ্ছেন। বিএনপি ছাড়া নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না- দলটির নেতারা এমনটা ভাবলেও, বরং তার উল্টোটাই হয়েছে। নির্বাচন ঠেকানোর নামে নৃশংসভাবে শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, দেশের সম্পদ বিনষ্ট, ভয়াল ও তা-ব প্রত্যক্ষ করার পর দেশের মানুষ সমর্থনের বদলে উল্টো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিরোধী দলের আসনটিও হারিয়ে বিগত একটি বছর বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুমকি দিয়েও রাজপথে নামতে পারেনি। জনসমর্থন না থাকা আর নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও সমর্থন না পাওয়ায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রাজপথে কোন ধরনের প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেননি।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে গাঁট ছড়াবাঁধা, জনধিকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান, হেফাজতে ইসলামকে উস্কে দিয়ে সহিংসতার মাধ্যকে ক্ষমতার পরিবর্তনের চেষ্টা, কাদের মোল্লার রায় বাস্তবায়নে পাকিস্তানী ভূমিকার বিরুদ্ধে দায়সারা প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষরা বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এক কাঁধে জামায়াত এবং অন্য কাঁধে হেফাজতকে নিয়ে তালেবানী শাসন প্রতিষ্ঠার বিএনপির পথ চলাকে ভালভাবে নেয়নি দেশের মানুষ। একদিকে দেশের মানুষের মুখ ঘুরিয়ে নেয়া এবং অন্যদিকে হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীদের কারণে অনেক চেষ্টা করেও সরকারের ওপর সামান্য চাপ সৃষ্টি করতেও ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।

তবে সারা বছরজুড়েই বিএনপি নেতাদের সরকার পতনের আল্টিমেটাম আর আন্দোলনের হুমকি-ধমকি শুনেছেন দেশের মানুষ। ভঙ্গুর সাংগঠনিক শক্তি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বিএনপির পক্ষে সরকার পতন কেন, রাজপথে সামান্য আন্দোলন গড়ে তোলাও যে সম্ভব নয়, সেটি শুধু দেশের মানুষ কেন দলটির নীতিনির্ধারকও অবগত।

স্বস্তিতে নেই শাসক দল আওয়ামী লীগ

বিদায়ী বছরে সুখে ছিল না শাসক দল আওয়ামী লীগও। বিদায়ী বছরে সরকারের সাফল বা অর্জনের কমতি ছিল না। একের পর এক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজয়, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সাফল্যে অর্জনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দেশীয় অর্থনীতি মজবুত, উপচেপড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। রাজপথেও নেই সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সংঘাত-সাংঘর্ষিক রাজনীতি। রাজনৈতিক প্রধান প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক অস্তিত্ব সঙ্কটের ফেলার কৃতিত্বও সরকারের ঝুলিতে।

এত সাফল্য অর্জনে স্বস্তিতেই থাকার কথা শাসক দল আওয়ামী লীগের। কিন্তু বাস্তবে তা উল্টো। বিদায়ী বছরে খুব একটা সুখে-স্বস্তিতে নেই শাসক দলটি। জটিলতা যেন পিছু ছাড়ছে না আওয়ামী লীগের। শুধুমাত্র দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল-সংঘাত আর গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা জ্যেষ্ঠ নেতাদের লাগামহীন বেফাঁস মন্তব্যের কারণে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা আসা আওয়ামী লীগকে বছরের বিভিন্ন সময়ে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।

আর মাত্র কয়েক দিন পরই টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের এক বছর পূর্তি হবে। এর মাধ্যমে কার্যত ৬ বছর ধরেই ক্ষমতায় রয়েছে দলটি। আর এ ছয় বছরে ক্ষমতাসীন সরকার একের পর এক অর্জন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন আদায় করতে পারলেও, কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত দল গোছানোর কাজে ব্যর্থ হয়েছে শাসক দলটি। যে কারণে এই ছয়টি বছরেই বিরোধী দলের পরিবর্তে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণেই অসংখ্যবার জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনপূর্ব বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা শক্তহাতে মোকাবেলার কৃতিত্ব রয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের। কিন্তু এই সংগঠনটিকে উত্তর ও দক্ষিণে দু’ভাগ করা হলেও বিগত একটি বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ।

তবে বিদায়ী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে শেষ পর্যন্ত কোমর বেঁধেই দল গুছানোর কাজে নেমে পড়েছে দলটি। গত ৫ বছর মেয়াদে হাতে গোনা ৭ জেলার সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলেও বিদায়ী বছরের মাত্র ৬ মাসে ৩৫টিরও বেশি জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙ্গা ও উজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রায় প্রতিদিনই কোন জেলা বা মহানগরের সম্মেলন হচ্ছে, ঘোষণা করা হচ্ছে নতুন কমিটি। ঘোষণা ছিল, ডিসেম্বরের মধ্যেই ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন শেষ করা হবে। শেষ পর্যন্ত না পারলেও জানুয়ারির মধ্যেই সকল জেলার সম্মেলনের কাজ শেষ হবে এমনটিই বলছেন দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা।

জাতীয় পার্টির সবকিছু পাওয়ার বছর

বিদায়ী ২০১৪ সাল যদি বিএনপির অনেক কিছু হারানোর বছর হয়, তবে বিদায়ী বছরটি জাতীয় পার্টির জন্য সবকিছু পাওয়ার বছর হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে। দলটির চেয়ারম্যান পতিত স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠলেও, তাঁর স্ত্রী রওশদ এরশাদের নেতৃত্বে দলটির বৃহৎ অংশ নির্বাচনে অংশ নেন। আর তাতেই ভাগ্য খুলে যায় জাতীয় পার্টির। বিএনপি নির্বাচন না করায় দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দলের আসনে বসেছে জাতীয় পার্টি। আর বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন রওশন এরশাদ। সরকারের মন্ত্রীও পেয়েছেন জাতীয় পার্টির তিনজন নেতা।

অনেক কিছু পেয়েও বিদায়ী বছরে জাতীয় পার্টিও যে খুব স্বস্তিতে ছিল, তা বলা যাবে না। ভোলপাল্টাতে পটু সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ভীমরতি, একেক সময় একেক উক্তি আর নিজের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-বিবাদে জড়িত হওয়ার কারণে বিদায়ী বছরে বেশ কয়েকবারই ভাঙ্গনের মুখে পড়েছিল দলটি। নিজে বিরোধী দলের নেতা হতে না পারার বেদনা থেকে এরশাদ বছরের শুরুতে মন্ত্রিসভা থেকে নিজ দলের নেতাদের পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। বরং উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদটি বাগিয়ে নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

জাতীয় পার্টির কাণ্ডারি কে- রওশন নাকি এরশাদ। এমন প্রশ্নে বছরজুড়েই বিভক্ত থেকেছেন জাতীয় পার্টির নেতারা। আর স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের কারণেই এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের উপনেতা নির্বাচন করতে পারেনি দলটি।

অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত

বিদায়ী বছরটি শুরুই হয়েছিল জামায়াত-শিবিরের ভয়াল তা-ব-সহিংসতা ও মানুষকে পুড়িয়ে নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যার মধ্য দিয়ে। মানুষের গায়ে পেট্টোল ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার পর সেখানে একাত্তরের ঘাতক দলটির উল্লাসনৃত্যও দেখেছে দেশবাসী। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সেই জামায়াত এখন অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখোমুখি। গত এক বছরে আন্দোলন করা তো দূরের কথা, প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়াতেই পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। বছর ধরেই আত্মগোপনে থেকে দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র করলেও, সরকারের কঠোরতার সামনে টিকতে পারেনি দলটি। বরং বছরজুড়েই দেশব্যাপী জামায়াত নিষিদ্ধের প্রচ- দাবির মুখে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন আত্মগোপনে থাকা দলটির নেতাকর্মীরা।

সভা-সেমিনার ও বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ বামদলগুলো

বিদায়ী বছরে রাজপথে তেমন কোন তৎপরতা ছিল না বহুধা বিভক্ত দেশের বামপন্থী দলগুলোর। তেল-গ্যাস ইস্যুতে সিপিবি ও বাসদ ঐক্যবদ্ধভাবে লংমার্চসহ কিছু কর্মসূচী পালন করলেও, বাকি দলগুলোও তেমন কোন তৎপরতাই দেখা যায়নি বিদায়ী বছরে। সভা-সেমিনার আর বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল বেশিরভাগ বাম দলের কর্মকাণ্ড।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: