রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে সøট লিজের প্রস্তাব অন

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ’ প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অরবিটাল সøট লিজের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ মিলিয়ন ডলার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রকল্পের আওতায় ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অরবিটাল সøট রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে সরাসরি (একটি উৎস থেকে) লিজ নেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সøটের জন্য ডিপিপিতে ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে, যা পুরোটাই সরকারী তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হলে প্রস্তুতকৃত বিজনেস প্লান অনুযায়ী বাণিজ্যিক সফলতা পাওয়া যাবে। সফল তরঙ্গ সমন্বয় সাপেক্ষে বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও এসটিএএনভুক্ত দেশসমূহের অংশ বিশেষ কভারেজের আওতায় আসবে। প্রাথমিক কারিগরি নির্দেশ অনুযায়ী স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। যার মধ্যে ১৬টি সি-ব্যান্ড ও ২৪টি কেইউ ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার থাকবে। ২০১৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ৭ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।

বৈঠক সূত্র জানান, লিজ মূল্যের ওপর নির্ধারিত ট্যাক্স ও ভ্যাট বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং রাশিয়ার জন্য ইন্টারস্পুটনিক দেবে। বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ভ্যাট ও ট্যাক্স অনুমোদিত ডিপিপির সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য বরাদ্দ ৯৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা থেকে সংস্থান করা হবে। মূল প্রকল্পের আওতায় অরবিটাল সøট লিজ গ্রহণ ছাড়াও স্যাটেলাইট নির্মাণ, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য লাউঞ্চ ভাড়া, দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানান, এটা চালু হলে তরঙ্গ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সার্কভুক্ত দেশসমূহ এবং ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ‘স্ট্যান’ভুক্ত দেশসমূহের অংশবিশেষ কভারেজের আওতায় আসবে। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে এবং এর মধ্যে ১৬টি সি-ব্যান্ড ও ২৪টি কিউ (কেইউ) ব্যান্ড ট্রান্সফরমার।

সূত্র জানান, দেশের টেলিযোগাযোগ, ব্রড কাস্টিং গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের চাহিদা বেড়ে চলেছে। কিন্তু নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ না থাকায় বহির্বিশ্বের বিভিন্ন স্যাটেলাইট অপারেটরের কাছ থেকে দেশের সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবদ প্রতি বছর ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং এ ব্যয় বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান টেরিস্ট্রোরিয়াল অবকাঠামোর বিকল্প হিসেবে একটি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎপেক্ষপণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: