মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বাগত ২০১৫ ॥ হ্যাপি নিউ ইয়ার

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫
স্বাগত ২০১৫ ॥ হ্যাপি নিউ ইয়ার
  • যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের প্রত্যাশা
  • জামায়াত-শিবিরমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ বিনির্মাণের শপথ
  • ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়

উত্তম চক্রবর্তী ॥ ‘আজি এ ঊষার পুণ্য লগনে, উদিছে নবীন সূর্য গগনে।’ সেই একই সূর্য, একইভাবে উঠছে পূর্বাকাশ আলো করে। তবু তার উদয় ভিন্নতর। আজকের দিনটিও আলাদা, কারণ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ বৃহস্পতিবার থেকে। কালপরিক্রমায় দ্বারোদঘাটন হলো প্রকৃতির নতুন নিয়মে নতুন বছর ২০১৫’র। চেতনায় জাগ্রত আবহমান সেই মাঙ্গলিক বোধ- অতীতের জীর্ণতা অতিক্রান্ত দিনমাসপঞ্জির হিসাব থাক বিস্তৃতির কালগর্ভে, প্রত্যাশায় বুক বাঁধি নতুন দিনের সূর্যালোকেÑ তবে উদ্ভাসন হোক সজীব-সবুজ নতুনতর সেই দিনের- যা মুছে দেবে অপ্রাপ্তির বেদনা; জাগাবে নতুন প্রত্যয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবার প্রেরণা। খ্রিস্টীয় ২০১৫ সালের প্রথম দিন আজ। আজ নববর্ষ। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার-২০১৫’।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে বহু ঘটনার সাক্ষী হয়ে মহাকালের অতল গর্ভে বুধবার সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে বিগত বছর ২০১৪। আবহমান সূর্য একটি পুরনো বছরকে কালস্রোতের উর্মিমালায় বিলীন করে আবার শুরু করল যাত্রা। স্বপ্ন আর দিনবদলের অপরিমেয় প্রত্যাশার রক্তিম আলোয় উদ্ভাসিত ইংরেজী নতুন বছর শুরু হলো। লাখো প্রত্যাশার ঝাঁপি খুলে এবং সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশায় আজ ভোরে কুয়াশায় ঢাকা পূর্বাকাশে উদয় হয়েছে নতুন বছরের লালসূর্য। জাতির অনেক আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ হওয়ার বছর। শুরু হলো অগ্রগমনের বছর। নতুন বছরকে স্বাগতম সুখ-সমৃদ্ধি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর ও অসাম্প্রদায়িক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রথম দিন আজ। প্রাচীন সূর্য বুধবার যে দিবসকে কালস্রোতে বিলীন করে পশ্চিমে অস্ত গেল, তা আজ ফেলে আসা দিন। থার্টিফার্স্টে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরমানন্দে ২০১৫ সালকে বরণ করেছে। আজ নতুন দিনের নতুন সূর্যালোকে স্নান করে সিক্ত হবে জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণী পেশার মানুষ। বিগত বছরের সব কালিমা ধুয়ে-মুছে নতুন কেতন ওড়াতে ওড়াতে এগিয়ে যাবে সময়, সভ্যতা, হিংসা-বিদ্বেষ-হানাহানিমুক্ত রাজনীতি, অর্থনীতি আর সংস্কৃতি। অনাবিল স্বপ্ন আর অফুরন্ত প্রাণোন্মাদনা নিয়ে নতুন সূর্যের আলোয় অগ্রসর হবে মানুষ। বিগত সময়ের সব ভুল শুধরে নেয়ার সময় এসেছে আজ।

স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার পথে ২০১৪ সালটি নতুন করে মিথ্যার কুহেলিকা ভেদ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক ধারায় এবং পুনর্জাগরণের নতুন সম্ভাবনার দ্বারোদ্ঘাটন রচনা করে দিয়ে গেছে, সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক মহাসড়কে। সূচিত হয়েছে তার যূথবদ্ধ যাত্রা। বাংলার প্রতিটি প্রান্তরে আজ অভিন্ন আওয়াজ- ‘দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, কলঙ্কমুক্ত হোক বাংলাদেশ।’ আর এ প্রচ- দাবি পূরণের প্রত্যাশা নিয়েই যাত্রা শুরু হলো নতুন একটি বছরের।

গতরাত ১২টার পর পরই সারাবিশ্বে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে নানা আনুষ্ঠানিকতায়। বর্ষবরণের আনন্দোৎসব করেছে সর্বস্তরের মানুষ। হিসাবের খাতায় ব্যর্থতার গ্লানি মুছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নতুন বছরে শান্তিকামী মানুষের প্রার্থনা ছিল- আর কোন সহিংসতা নয়, কোন হত্যা-খুন কিংবা হানাহানির রাজনীতি নয়। ২০১৫ হবে শান্তির বীজ বপনের সাল। অস্ত্র বা হানাহানির মহড়া হবে না, থেমে যাবে সব যুদ্ধ-সন্ত্রাস। সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকার নতুন বছরে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ উপহার দেবে জাতিকে।

তবে বাংলাদেশের মানুষের নতুন বছরের দুঃখ, একাত্তরের হানাদার ও যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের ডাকা হরতালের মধ্যেই নতুন বছরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হচ্ছে। তবে স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হাজার হাজার মানুষের ঢলে গত বছরের শেষ দিন বুধবার কোথাও জামায়াত-শিবিরের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। নববর্ষের প্রথম দিন বৃহস্পতিবারও হয়ত তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে নতুন বছরে জামায়াত-শিবিরমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন করে শপথ নেবে দেশের মানুষ। যুদ্ধাপরাধীদের একে একে বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরেকটি কলঙ্কমুক্ত হবে, এমন প্রত্যয় আজ কোটি কোটি বাঙালীর মনে।

এটি শুধু একটি নতুন বছরই নয়, বিদায়ী বছরের অনেক অমীমাংসিত ইস্যু নিষ্পত্তিরও বছর। অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সরকার। নতুন এ বছরে বেশকিছু জ্বলন্ত ইস্যুরও সমাধান করতে হবে ক্ষমতাসীন সরকারকে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী ধর্মভিত্তিক-সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আবারও বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে কিনা, নতুন বছরে এ কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হবে সরকারকে। তাই বিদায়ী বছরের মতো নতুন বছরেও স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের মাথা তুলে দাঁড়াবার সম্ভাবনা কম।

বিগত বছরের শুরুটা হয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের মৃত্যুদীর্ণ, আগুনে পোড়া, বোমায় বিধ্বস্ত, শোকাতুর। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে বিএনপি অভাবনীয় সহিংসতায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিএনপি-জামায়াতের তা-বের শিকার হয়েছে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। পুড়েছে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, লুটপাট চলেছে অবাধে। কিন্তু এত মানুষের প্রাণ নিয়েও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট।

কিন্তু বিদায়ী বছরের শেষ দিকে এসে হরতালের নামে আবারও মানুষ হত্যা শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। ২০১৩ সালের মতোই গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে রাজধানীতে একই পরিবারের ৫ জনকে। বিদায়ী বছরের শেষ দিন বুধবার এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার চলছে জামায়াতীদের ডাকা হরতাল। তাই দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে জামায়াত-শিবিরের নতুন করে তা-বের টেস্ট কেসে। নতুন বছরে সরকারের সামনে বিগত বছরের মতো এই যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত-শিবির এবং তাদের ক্ষমতার উৎস বিএনপির সহিংস রাজনীতি কিভাবে মোকাবেলা করে দেশের মানুষকে শান্তি ও উন্নয়নের পথে ধাবিত করবে সেই চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে।

বিদায়ী বছরের মতো নতুন বছরেও সারাদেশে মানুষের একটিই দাবি, আর তা হচ্ছে সময়ক্ষেপণ না করে যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার। বর্তমান সরকারেরও নতুন বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- দেশী-বিদেশী শত ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বেড়াজাল ছিন্ন ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ২০১৫ সালের মধ্যে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি আইন করে নিষিদ্ধ করা। দ্রব্যমূল্যের কশাঘাত থেকে মুক্তিও নতুন বছরের অন্যতম প্রত্যাশা। এছাড়া গ্যাস-পানি-বিদ্যুত সঙ্কটের সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গীবাদ দমন, সংঘাত-সহিংস রাজনীতির বদলে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার রাজনীতি, বেকারত্ব দূরীকরণ, বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতাবিরোধী অন্ধকারের শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিরোধ, অর্থনীতির আরও গতিসঞ্চার, সংসদকে কার্যকর করে নতুন বছরে একটি শান্তিময় সমৃদ্ধশালী দেশ উপহার দিতে ২০১৫ সাল সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই সামনে এসেছে।

বিদায়ী বছর দেশের অনেক ইতিহাসই পাল্টে দিয়েছে। ’৭৫ পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির এমন পুনর্জাগরণ এবং সত্যকে যে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় নাÑ তাও প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে গেছে বিদায়ী এ বছরটি। আর তাই শত প্রতিকূলতা ও সহিংসতা মোকাবেলা করে দেশের মানুষ সাহসের ওপর ভর করে ৫ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী দল আওয়ামী লীগকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এনেছে, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি-জামায়াতের গণতন্ত্রবিরোধী সহিংস রাজনীতিকে। আর এখন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যাতে আগামী প্রজন্ম যুগ যুগ ধরে লালন করতে পারেÑ নতুন বছরে সেই পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।

বিদায়ী বছরে দু’একটি বিচ্ছিন্ন হরতাল, কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল না। শুধু হুঙ্কার ছাড়া রাজপথে সামান্যতম আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। বিতর্কের ঝড় উঠেনি শেরেবাংলানগরে অবস্থিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্র চর্চার প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদে। সংসদ বর্জনের অতীত পঙ্কিল পথ থেকে বের হতে পেরেছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। সংসদীয় কর্মকা-ে বিরোধী দলের বছর জুড়েই প্রাণবন্ত উপস্থিতি বিদায়ী বছরে নতুন ইতিহাস রচনা করে গেছে।

দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি কৃষ্টি ভুলে মানুষ একটি বছর দেখেছে, শুনেছে এবং বোঝার চেষ্টা করেছে। তবে নতুন বছরে রাজনীতির মাঠ গরম করার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলের আসন হারানো বিএনপি। রক্তচক্ষু দেখাতে চাইছে সন্ত্রাসনির্ভর দল জামায়াতও। অতীত দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির বলয় থেকে বের না হওয়া কিংবা জাতির প্রত্যাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে বন্ধন অটুট রেখে বিএনপির আন্দোলনের প্রস্তুতিতে সচেতন দেশের মানুষ কতটুকু সম্পৃক্ত হবে, এ ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় থাকলেও নতুন বছরে তারা যে রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করবে তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর ঠেকাতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিগুলো নতুন করে দেশকে অস্থিতিশীল ও নাশকতা চালানোর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অশনি সঙ্কেত দিচ্ছে।

কিন্তু এ ব্যাপারে অনেকটাই সতর্ক অবস্থানে সরকার। বিগত একটি বছর অনেকটাই সাফল্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনায় আন্দোলনে মাঠে নামার সুযোগ পায়নি রাজনৈতিক প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াত। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের কলঙ্ক মুছে বাংলাদেশ আজ পরিচিত পাচ্ছে অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে বিশ্বের তালিকা থেকেও বাংলাদেশের নাম মুছে ফেলে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করতেও সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। আর জঙ্গীবাদ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ শক্ত হাতে দমনে দেশের গ-ি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির মিছিলে শামিল করে একে একে অর্জন করছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও বিরল সম্মান।

বিরোধী দলের আন্দোলনের হুঙ্কারের মুখে নতুন বছরে নতুন উদ্যোমে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যে ধারাবাহিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবীণের অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যনির্ভর শক্তিশালী করে গড়ে তুলছে সংগঠনকে। কিন্তু সরকারের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ- সরকার থেকে দলকে আলাদা সত্তায় ফিরিয়ে এনে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা। এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বছরের প্রথম থেকেই রাজপথ দখলের ঘোষণা দিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা। শুধু দল গোছানোই নয়, চৌদ্দ দলীয় জোটকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করারও উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। উগ্র জঙ্গীবাদকে শক্তহাতে মোকাবেলার চ্যালেঞ্জও সামনে নিয়ে নতুন বছরে নতুন পরিকল্পনায় মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ।

তবে বিদায়ী বছরে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবেই’ সেøাগানে অনেক অর্জন ছিনিয়ে আনতে পারলেও শুধু দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল-দ্বন্দ্ব আর প্রাণঘাতি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে সরকারকে। ছাত্রলীগকে সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের অনেক অর্জনই ম্লান করে দিয়েছে। আর দলের অনেক বাঘা বাঘা নেতা-মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের অতিকথন, বিতর্কিত মন্তব্যেও সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। তাই নতুন বছরে সরকারের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- শক্ত হাতে দলের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং নেতা-মন্ত্রীদের অতিকথন বন্ধ করা। আর এটি করতে পারলে নতুন বছরেও যে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে বড় কোন বাধার মুখে পড়তে হবে না, এমনটাই বিশ্বাস দলটির তৃণমূল নেতাদেরও।

তাই বিপুল প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ থেকে যাত্রা শুরু করল আরও একটি নতুন বছর। নতুন খ্রিস্টাব্দের সূচনামুহূর্ত নিয়ে উচ্ছ্বাস-উল্লাস বাঙালী সংস্কৃতির নিজস্ব কোন অঙ্গ না হলেও পাশ্চাত্য-প্রভাবে শহরাঞ্চলে এর ব্যাপ্তি ঘটেই চলেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যারা অংশ, তারা জীবিকার কঠোর সংগ্রামে, সমস্যার ভারে এতই ক্লিষ্ট বিড়ম্বিত যে, এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামানোর কোন অবকাশ নেই তাদের জীবনে।

তারপরও কালপরিক্রমায় নববর্ষ আসে, নতুন আশায়, স্বপ্নে উদ্দীপিত হয় মানুষ। ছরটি সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, মুছে যাবে ব্যর্থতার গ্লানি, এ রকম প্রত্যাশায় মানুষ উজ্জীবিত হয়। বৈশ্বিক পটভূমিতে খ্রিস্টীয় নববর্ষের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য উপেক্ষা করার মতো নয় মোটেও। সবার প্রত্যাশা নতুন বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেবে জাতিকে।

ইংরেজী নববর্ষের শুভলগ্নে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তাঁরা বাণীতে ইংরেজি নববর্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

গোধূলী বেলায় রক্তিম সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে হারিয়ে গেছে ঘটনাবহুল ২০১৪ সালটি। উদিত হয়েছে নতুন বছরের নতুন সূর্য। প্রত্যাশা কেবল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির দেশ গড়ার। ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলীয় জোট সরকারের কাছে এ প্রত্যাশা রেখেই আজ বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রা শুরু হলো নতুন বছরের। স্বাগত ২০১৫, বিদায় ২০১৪।

প্রকাশিত : ১ জানুয়ারী ২০১৫

০১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: