কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জার্মানি, রিয়াল মাদ্রিদ ও রোনাল্ডো

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • আন্তর্জাতিক ফুটবল
  • অতশী আলম

কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরও একটি ইংরেজী বছর। দিনলিপি ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে আসছে বছরের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ। এক্ষেত্রে দেশীয় ও বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, বিনোদন প্রভৃতি বিষয়ের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসছে ক্রীড়াঙ্গনও। ২০১৪ সালে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন আলোচনায় থেকেছে প্রায় সব সময়। এ বছরই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকাক্সিক্ষত আসর বিশ্বকাপ ফুটবল। দুই যুগ পর শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানি।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। শুধু তাই নয়, রেকর্ড ১০ম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয় করে ইউরোপ সেরা হয় গ্যালাক্টিকোরা। মোট চারটি শিরোপা জয় করে বছরটি নিজের করে নিয়েছে রিয়াল। কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে দলটি জয় করেছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, কোপা ডেল রে, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। তবে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যক্তিগত সাফল্যে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর বিশ্বকাপ ফুটবলে মোটেও ভাল করতে পারেননি। তাতে কি! ক্লাব দল রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৪ সালে যা করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ, অনবদ্য, অনন্য। চার-চারটি শিরোপা জিতেছেন, হয়েছেন ফিফা সেরা ফুটবলার। কিছুদিন আগে জিতেছেন ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপর শিরোপা। জানুয়ারির গোড়ার দিকেই হয়ত জিততে চলেছেন ফের ফিফা ব্যালন ডি’অর। একের পর এক সাফল্যে উদ্ভাসিত সি আর সেভেন নতুন বছর ২০১৫ সালেও ভাল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

২০১৪ সালে ফুটবলের সবচেয়ে বড় ঘটনা বিশ্বকাপ ফুটবল। ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসরের বিশতম যজ্ঞ। দুর্দান্ত প্রতাপ দেখিয়ে দুই যুগ পর ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব জয় করে জার্মানি। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে এ কৃতিত্ব দেখায় ইউরোপের পাওয়ার হাউসরা। জার্মানির চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ই গত হতে যাওয়া বছরে ফুটবলের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ বছরটা ব্রাজিলের জন্যও অম্লমধুর। সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটিরই সংস্পর্শ পেয়েছে রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পতনের শেষ সীমা থেকে বেরিয়ে এসে দেশটি নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাড়ি জমায়। কিন্তু ব্রাজিলের জন্য যে শিরোপা ছাড়া সব অর্জনই বৃথা। এবারও তাই হয়েছে। এটি আরও বেগবান হয়েছে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জার হারের পর। ১৯৫০ সালের পর এবার দ্বিতীয়বার নিজ দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ব্রাজিল। লক্ষ্য ছিল একটাইÑশিরোপা জয়। কিন্তু আরেকবার ব্রাজিলবাসীকে কাঁদতে হয়েছে না পাওয়ার বেদনায়। যে কারণে ব্রাজিলের জন্য নাটকীয় বছরটি ব্যর্থ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে আমেরিকা অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখায় জার্মানি। ১৯৯০ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বজয়ের মুকুট পড়ে জার্মানরা। এটি তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা। এর আগে ১৯৫৪, ১৯৭৪ ও ১৯৯০ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে জার্মানি। সেমিফাইনাল আর ফাইনাল ট্র্যাজেডির দল বলা হয়ে থাকে জার্মানিকে। ফুটবলের যে কোন আসরে সবসময়ই ফেবারিটের তকমা থাকে তাঁদের গায়ে। ফাইনাল আর সেমিতে হারের লম্বা মিছিলে যোগ না দিলে জার্মানদের বিশ্ব ফুটবলের সেরা দল আপনাকে বলতেই হতো। সেক্ষেত্রে ব্রাজিলের আগে তাদের নামটিই উচ্চারণ করতে হতো বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও জার্মানি সবচেয়ে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া দল। ব্রাজিল বিশ্বকাপেও শেষ চারে পৌঁছে ইউরোপের পাওয়ার হাউসরা বিশ্বরেকর্ড গড়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থবার সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়ে জোয়াকিম লোর দল। প্রথম কোনো দল হিসেবে নিজেদের গড়া ২০১০ সালের আসরে টানা হ্যাটট্রিক সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড ভাঙে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া দলটি। এরপর সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে নাস্তানাবুদ করে ফাইনালে পাড়ি জমান লাম, ক্লোস, মুলার, শোয়েনস্টেইগাররা। এরফলে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি ৮ বার ফাইনালে খেলার রেকর্ড গড়ে জার্মানি। মারাকানায় চূড়ান্ত মহারণে ফের আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবে ভেসেছে জার্মানরা। এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গী ইতালি। অন্যদিকে ব্যর্থতার ষোলকলা পূরণ করে ব্রাজিল। হল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় হারে চতুর্থ স্থান নিয়েই ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ যজ্ঞ শেষ করতে হয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। জার্মানির কাছে সেমিতে বিধ্বস্ত হয়ে ফাইনালের আগেই ছিটকে পড়ে ব্রাজিল। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে ব্যথা নিয়েই ব্রাজিলের অনুশীলন দেখতে আসেন নেইমার। সেখানে তিনি সতীর্থদের উৎসাহ যোগান। শুধু তাই নয়, স্বশরীরে মাঠে বসে খেলাও দেখেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না! উল্টো চোখের সামনে দলের ভরাডুবি দেখেন ব্রাজিলের নয়নের মণি। মূলত পিঠের আঘাতের কারণে নেইমার ছিটকে পড়ার কারণেই ব্রাজিলকে লজ্জায় ডুবতে হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জুয়ান ক্যামিলো জুনিগো ব্রাজিলিয়ান তারকার পিঠে আঘাত করেন। যে কারণে নেইমারের মেরুদ-ে মারাত্মক চিড় ধরে। ফলে নেইমারকে হারানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপও খোয়াতে হয় সাম্বা ছন্দের দেশকে।

আরেক মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্য বছরটা তেমন ভাল যায়নি। বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পেলেও ফাইনালে জার্মানির কাছে হারে সব অর্জন বৃথা গেছে! আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে হাতছানি ছিল স্বদেশী কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার পাশে নাম লেখানোর। কিন্তু ফাইনালে হেরে নিজেকে অমর করার সুযোগ হারিয়েছেন বার্সা জাদুকর মেসি।

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: