আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দি ইন্টারভিউ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মিশনের কমেডি উপস্থাপনা

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • শিকদার আরিফ

রাজনৈতিক কমেডি সিনেমা ‘দি ইন্টারভিউ’ গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটির পরিচালনায় ছিলেন সেথ রোজেন ও এভান গোল্ডবার্গ। এর আগেও এই দুই পরিচালক ‘দিস ইজ এন্ড’ নামে আরেকটি সিনেমা বানিয়েছিলেন। মুক্তির আগেভাগেই ‘দি ইন্টারভিউ’ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এতে দেখানো হয়েছে যে, একটি টিভি টকশোতে সাক্ষাতকার নেয়ার কথা বলে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনকে হত্যার মাধ্যমে দেশটিতে কিভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এটি মুক্তি দেয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষমাহীন পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে গত জুনে হুমকি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। গত দশ অক্টোবর চলচ্চিত্রটির মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পঁয়তাল্লিশ দিন পিছিয়ে ২৫ ডিসেম্বর হাতেগোনা কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয়েছে সনি পিকচার্সের এই সিনেমা। এরমধ্যে উত্তর কোরিয়ার কাছে চলচ্চিত্রটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে সম্পাদনাও করা হয়েছে।

নবেম্বরে ‘গার্ডিয়ান অব পিস’ নামে একটি গোষ্ঠী ‘সনি পিকচার্স ইন্টারটেইনমেন্টএর কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে। হ্যাকিং গোষ্ঠীটি দি ইন্টারভিউকে ‘সন্ত্রাসবাদের সিনেমা’ আখ্যা দিয়ে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই’র ধারণা, উত্তর কোরিয়া এই হ্যাকিংয়ে জড়িত।

সিনেমার বিষয়বস্তু

চলচ্চিত্র তারকা জেমস ফ্রাঙ্কো এই সিনেমায় ডেভ স্কাইলার্ক চরিত্রে অভিনয় করেন। জেমস টেলিভিশনে ‘স্কাইলার্ক নাইট’ নামে একটি টকশো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন। যাতে বিখ্যাত লোকদের ব্যক্তিগত বিষয় আশয় নিয়ে সাক্ষাতকার নেয়া হয়। সিনেমায় দেখানো হয়, এই টকশো অনুষ্ঠানের হাজারতম পর্বের আয়োজন চলছে। এমন সময় ডেভ ও তার ক্রু আবিষ্কার করলেন, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন এই টকশো অনুষ্ঠানের ভক্ত।

ডেভ সিদ্ধান্ত নেন স্কাইলার্ক নাইটে তিনি কিম জং-উনের সাক্ষাতকার নেবেন। প্রযোজক এ্যারন র্যাপোর্টকে সাক্ষাতকারের আয়োজনের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি চীনে চলে যান। সেখানে উত্তর কোরীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশনা নিয়ে কিমকে স্কাইলার্ক নাইটের অতিথি হতে রাজি করতে সমর্থ হন।

এরপরে আসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট লেইসির চরিত্র। তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার বদল ঘটাতে কিম জং উনকে গোপনে হত্যার প্রস্তাব দেন সাংবাদিক ডেভ ও প্রযোজক এ্যারনকে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তারা প্রস্তাবে সম্মত হন। ডেভ উত্তর কোরিয়া গেলে কিম পুরো একটা দিন তার সাথে কাটান। দ্রুতই তারা ভাল বন্ধু হয়ে যান। তবে কিমের সাক্ষাতকার আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারের সময় আসল সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় ডেবের বুকে কিম গুলি করলেও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে ছিল বলে সে বেঁচে যায়।

এরপর ডেভ ও এ্যারন ট্যাঙ্কযোগে পালাতে চেষ্টা করে। কিমও হেলিকপ্টার নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে। তবে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়ার আগেই ডেভ ট্যাঙ্ক দিয়ে হেলিকপ্টার ধ্বংস করলে কিম জং-উন নিহত হন। এরপর তারা যখন নিশ্চিত হলেন যে, দেশটির ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, তখন গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে আসেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিলের ছয় সদস্য তাদের স্বাগত জানায়। এসব সদস্য এতক্ষণ উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর ভিতরে ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিল।

বছরের পর বছর একনায়কতান্ত্রিক শাসনে থাকা দেশটিতে এরপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। টিভিতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ইন্টারনেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। স্কাইপে উত্তর কোরীয় বান্ধবীর সাথে চ্যাট করছে এ্যারন। এই ছিল দি ইন্টারভিউ সিনেমার মূল কাহিনী।

দুই হাজার সালের দিকে পরিচালক রোজেন ও গোল্ডবার্গের মাথায় মূলত এই গল্পের ধারণাটি আসে। এই দুই পরিচালক তখন নিজেরা মজা করছিলেন এই বলে যে যদি একজন সাংবাদিক কোন এক বিশ্বনেতাকে হত্যা করে, তাহলে কী ঘটতে পারে ! সে সময় তারা এই সিনেমাটি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। সিনেমার মূল চরিত্র হিসেবে তারা উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-ইলকে বেছে নেন। ইলের মৃত্যু হলে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়। কিন্তু ইলের ছেলে কিম জং-উন ক্ষমতায় এলে তারা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করেন। তাদের ধারণা ছিল, উনকে নিয়ে সিনেমা বানালে সেটি আরও কৌতুক ও মজার হবে।

গত জুনে এই সিনেমার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে উত্তর কোরিয়া সরকারের মুখপাত্র কিম মেয়ং-চোল বলেন, বিদেশী এক নেতাকে গুপ্তহত্যার বিষয়বস্তু করে সিনেমা বানানোর মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির জনগণ কতটা বেপরোয়া তা-ই আসলে ফুটে উঠেছে। এতে করে দেশটি আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও ইউক্রেনে কী পরিমাণ হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে তাও পরিষ্কার হয়েছে। দেশটি এটাকে সন্ত্রাসবাদের নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করে এর তীব্র ও ক্ষমাহীন প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে হ্যাকিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেবল উত্তর কোরিয়া ও দেশটির নেতা কিম জং উনেরই সমালোচনা করেননি, আমেরিকানদের ভীতিপ্রদর্শনের জন্য তিনি দেশটিকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই বলে যে, উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপের জবাব যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই দেবে। যদিও উত্তর কোরিয়া হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। বরং দুষ্কর্মের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে বলেছে দেশটি।

-মেইল অনলাইন ও উইকিপিডিয়া অবলম্বনে

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: