মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

টেস্ট ক্রিকেট থেকে ধোনির অবসর

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
টেস্ট ক্রিকেট থেকে ধোনির অবসর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শেষ হয়ে গেল ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি যুগ। যার নেতৃত্বে দীর্ঘ আটাশ বছর পর বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার, আইসিসির সব বৈষয়িক শিরোপা জয়, প্রথমবারের মতো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ওঠা, এমন সব দারুণ কীর্তিÑ সোমবার মেলবোর্নে ‘বক্সিং ডে’ টেস্ট ড্র করে সিরিজ হারের পর আচমকাই আভিজাত্যের সাদা পোশাক তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন সেই ধোনি! যদিও এ রিপোর্ট লেখার সময় তাঁর সেই ঘোষণা সংবাদমাধ্যমে আসেনি। এমনকি বক্সিং ডে টেস্ট শেষের প্রেস কনফারেন্সেও নিজের অবসর নিয়ে তিনি নিজে কিছুই বলেননি। তাবে কালই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ধোনিকে উদ্ধৃত করে একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। যেখানে বলে হয়েছেÑ ভারমুক্ত হয়ে ওয়ানডে ও টি২০ খেলার জন্যই টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘ক্যাপ্টেনকুল’ খ্যাত ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের এই মহাতারকা। টি২০ বিশ্বকাপ, সত্যিকারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এত এত সাফল্যে ধোনির নেতৃত্ব যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে টেস্টে অধিনায়কত্ব এবং ব্যাটসম্যান ধোনিÑ দুই ভূমিকাতেই চরমভাবে ব্যর্থ তিনি। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুটি সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হয় ক্রিকেটের অঘোষিত মোড়লরা। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়া- বিদেশে টেস্টে দলটির ব্যর্থতাই যেন নিয়তি! যে ধারা অব্যাহত আছে এখনও। বছরের প্রথমদিকে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে সিরিজ হারের পর চলতি অস্ট্রেলিয়া সফরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই চার টেস্টের সিরিজ ২-০তে খোয়ায় ভারত এবং ঘোষণাটা এলো ঠিক সেই সময়েই, মেলবোর্নে ড্র করে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার মুহূর্তে। বিসিসিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে ‘সন্দেহ নেই ধোনি ভারতীয় ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক। তার অধীনে প্রথমবারের মতো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা। ওয়ানডে এবং টি২০তে আরও বেশি করে মনোযোগী হতে টেস্ট থেকে অবসরে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। আমরা তার এ সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।’ বিসিসিআই ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল তিনটায় ধোনির টেস্ট অবসরের কথা জানিয়ে একটি টুইটার বার্তা দেয়। তার এক মিনিট পরই উল্লেখ করা হয় সিডনিতে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেবেন বিরাট কোহলি। অধিনায়ক হিসেবে যার অভিষেক হয়েছিল চলতি সিরিজেরই প্রথম টেস্টে। অ্যাডিলেডে ব্যাট হাতে ও নেতৃত্বেÑ দুই ভূমিকাতেই নজড় কাড়েন ক্রেজি কোহলি। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বকাপ শেষে তাকেই স্থায়ী টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মনোনয়ন দেবে বিসিসিআই। টেস্টে ধোনির ব্যাটিং এবং নেতৃত্ব মোটেই ভাল নয়। তিনি সরে যেতে পারেন। সাবেক তারকাদের অনেকেই তাঁর পরিবর্তে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। এসব পুরনো খবর। তবু মঙ্গলবার ধোনির অবসরের এ সিদ্ধান্ত একটা বড় ‘সারপ্রাইজ’। কারণ আগের দিন সংবাদ সম্মেলন, ঘনিষ্ঠ কোন মিডিয়াতে এ বিষয়ে এতটুকো ইঙ্গিত দেননি তিনি। কিন্তু ‘বক্সিং ডে টেস্ট’ ড্র করার পর আচমকা এলো খবরটা। তাও আবার বিসিসিআইর পক্ষ থেকে ই-মেল করে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয় খবরটা। দলের অভ্যন্তরে ধোনিকে নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। এখন অনেকেই তরুণ প্রজন্মের দিকে ঝুঁকতে চাইছেন। বিরাটকেই মনেপ্রাণে অধিনায়ক হিসেবে পেতে চাইছেন তাঁরা। তবে সুরেশ রায়না, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো দলের অনেকে রয়েছে ধোনির প্রতি দারুণ শ্রদ্ধাশীল। তাঁরা চাননি এখনই সরে যাক ‘ক্যাপ্টেনকুল’। বিসিসিআইর বার্তা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাই নিজের টুইটারে রায়না লিখেছেন, ‘ধোনি কেবল সফল অধিনায়কই নন, ভারতীয় ক্রিকেটের চলমান কিংবদন্তিও। ওকে দেখেই আমি অনুপ্রাণিত হই।’ রায়না-অশ্বিনের মতো অনেকে অখুশি হলেও, ধোনির অবসরে কপাল খুলবে উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার। বাংলার এই উইকেটরক্ষক এবার নিয়মিতই সুযোগ পাবেন। তুখোড় প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও এতদিন যিনি ধোনির ছায়ায় ঢাকা পড়ে ছিলেন। চেন্নাইয়ে ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় ধোনির। ৯০ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪৮৭৬ রান। সেঞ্চুরি ৬ ও হাফসেঞ্চুরি ৩৩টি। সর্বোচ্চ ইনিংস ২২৪। উইকেটরক্ষক হিসেবে ডিসমিসাল ২৯৪টি (ক্যাচ ২৫৬, স্ট্যাম্পিং ৩৮টি)। ৬০ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে পেয়েছেন ২৭ জয়, ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়ের রেকর্ড তাঁরই। তবে সাফল্যের বেশিরভাগ এসেছে দেশের মাটিতে! তবু অবিসংবাদিতভাবে টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সফল সেনাপতি হিসেবেই মহেন্দ্র সিং ধোনির নামটি লেখা থাকবে।

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: