আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বৃহত্তর স্বার্থে গাজীপুর থেকে পিছু হটেছি ॥ মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহত্তর আন্দোলনের স্বার্থে এবং কৌশলগত কারণে বিএনপি গাজীপুর সমাবেশ থেকে পিছু হটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় আছে, কৌশল আছে, স্তর আছে। একটি রাজনৈতিক দল তার এসব কৌশল নিয়েই কাজ করে। কৌশলের কারণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য কৌশলগতভাবে সেদিনকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিএনপি। শীঘ্রই এ আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো হবে। বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলনে কৌশলে এগোচ্ছে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কৃষক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ নেড়িকুত্তার মতো পেটাতে চায়, কেউ ঠ্যাং ভেঙ্গে দিতে চায়, কেউ গায়ে চামড়া তুলে নিতে চায়। তাদের মুখের ভাষা শুনলে বোঝা যায় তারা কোথা থেকে এসেছে। তাদের মুখের ভাষা শুনলে মনে হয় মানসিক বিকারগ্রস্ত।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে এত কঠিন সময় আসেনি। দেশের মানুষ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আওয়ামী লীগের আচরণ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। সারাদেশে বিএনপির এমন কোন জনপ্রতিনিধি নেই যাদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে না। ১৪ হাজার মিথ্যা মামলায় সাড়ে ৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির মহানগর কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক সরকার এসেছে। গণতন্ত্র হরণ করেছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। আওয়ামী লীগ এখন যা করছে তা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কর্মকা-কেও হার মানিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোন দল নয়। জনগণের দ্বারা গঠিত কোন সরকার নয়। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া এই সংসদ নয়। এ সংসদ, এ সরকার সম্পূর্ণ অবৈধ। আওয়ামী লীগ অনেক আগেই নিজেদের ছাড়া অন্যদের জনসভা বন্ধ করে দিয়েছে। ২০ দলের গাজীপুর জনসভা তারা করতে দেয়নি। তারা গায়ের জোর দেখায়। গায়ের জোরে কথা বলে। গত সোমবারে গণতন্ত্রের জন্য হরতালের ডাক দেয়া হয়েছিল। হরতালে দেখা গেল ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল নিয়ে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মহড়া যাচ্ছে। অথচ বিএনপির নেতাকর্মীদের পল্টন অফিসের দরজাতেও দাঁড়াতে দেয়নি। ছো মেরে তুলে নিয়ে যায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির এমন কোন জনপ্রতিনিধি নেই যার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিদের এরা সহ্য করতে পারছে না। প্রতিদিন তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। অনেককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ বছর আগের কিবরিয়া হত্যা মামলায় গায়ের জোরে সিলেটের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র জি কে গউসকে জড়ানো হয়েছে। জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সমগ্র দেশকে সরকার কারাগারে পরিণত করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের মানসিকতা কি এটা সবাইকে জানতে হবে। ’৭২ সালে ক্ষমতায় বসার পর মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতাকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছে। তাদের এ দলীয়করণ ও অপকর্মের বিরুদ্ধে অনেকেই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। মেজর জলিল, বাম রাজনৈতিক দলগুলো, এমনকি মওলানা ভাসানী পর্যন্তও রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এই আওয়ামী লীগ ভাসানীকেও নির্যাতন করতে দ্বিধা করেনি। তাঁকে গৃহবন্দী করেছিল। নির্যাতন করেছিল। শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে যাঁরাই প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদেরই আওয়ামী লীগের শিকারে পরিণত হতে হয়েছে উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের অবৈধ সরকারের তথ্যমন্ত্রীও সেদিন শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। যুদ্ধ করেছিলেন, গণবাহিনী গঠন করেছিলেন। আজকের বিমানমন্ত্রী মেননও সেদিন শেখ মুজিবের অগণতান্ত্রিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। অথচ আজকে তারা অবৈধ সরকারের দোসর হয়ে ক্ষমতার ভাগিদার হয়েছেন। অথচ আজকে প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে তারা ইতিহাস বিকৃত করছেন। তরুণ প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শোনাচ্ছে। এ জন্য তাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে। আজকের প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, শিশু জিহাদকে সরকার ২৩ ঘণ্টায়ও উদ্ধার করতে পারেনি। অথচ দেশের কিছু উদ্যমী মেধাবী তরুণ তাকে উদ্ধার করেছে। কমলাপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি হয়েছে। অথচ এ ব্যর্থ সরকারের সেদিকে কোন ভ্রƒক্ষেপ নেই। দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। পুরো দেশ সন্ত্রাসে আচ্ছন্ন। তিনি বলেন এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে, জাতির বুকে চেপে বসা ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করতে না পারলে দেশ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: