কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজহারের ফাঁসি

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪
আজহারের ফাঁসি
  • গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত
  • ‘আমরা অপরাধীদের বিচার করছি, কে কোন্ পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা তা আমাদের বিবেচ্য নয়’ -বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম

বিকাশ দত্ত ॥ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আলবদর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগের মধ্যে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি অভিযোগে ফাঁসি, ২টিতে ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও একটিতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নীরবতার মধ্যে চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। রায ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের বাইরে ও ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আজহারুলের রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোট ১৫টি মামলায় ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডসহ অন্যান্য দণ্ড দিয়েছে। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা আছে।

রায় ঘোষণার আগে প্রারম্ভিক বক্তব্যে চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর বলেন, ‘দেশের ও বিদেশের কয়েকটি মিডিয়া বলছে, এখানে ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা একাত্তরের অপরাধীদের বিচার করছি। তিনি কোন পর্যায়ের ইসলামিক বা ধর্মীয় নেতা সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়।’ আসামির আজকের অবস্থান আদালতের বিচারে দেখা হয় না। সম্পাদকীয় লিখে বা বিবৃতি দিয়ে সহিংস কর্মসূচী দিয়ে রায় পারিবর্তন করা যায় না। রায় পেতে হলে আইনের পথেই যেতে হবে। অন্যদিকে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আজহারের নির্যাতনের শিকার একজন বীরাঙ্গনাকে পুনর্বাসন করতে রাষ্ট্রকে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের আত্মত্যাগ তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তকে বীরাঙ্গনাদের বিষয়টি তুলে ধরতে বলা হয়। একই সঙ্গে বীরঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো জাতীয় পর্যায়ে সমমর্যাদা দেয়ারও কথা বলো হয়েছে।

এদিকে আলবদর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির আদেশের পর আওয়ামী লীগ, গণজাগরণ মঞ্চসহ, প্রসিকিউটরবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবেন। রায় ঘোষণার আগেই সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আসামি এটিএম আজহারুল ইসলামকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে চেয়ারম্যানসহ অন্য দু’সদস্য আসেন। এর পর আসামিকে ট্রাইব্যুনালের ডকে তোলা হয়। এ সময় আসামি এটিএম আজহারুল ইসলামের গায়ে পাজামা, পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরিহিত ছিল। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি চেয়ারে বসে পা দোলাচ্ছিলেন। রায ঘোষণার পর আসামি বলেন, এটা ফরমেয়াশী রায়। আমি নির্দোষ। আপনাদের বিচার ওপরে আল্লাহর আদালতে হবে। ইনশাল্লাহ। মোট রায় ১৫৮ পৃষ্ঠার। প্রথম অংশ পাঠ করেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক, দ্বিতীয় অংশ ও পর্যবেক্ষণ পড়েন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম সর্বশেষ দ- ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

আইন পরিবর্তন করা প্রয়োজন ॥ বীরাঙ্গনাদের বীরত্বগাথা সকল স্কুল-কলেজে যেন পড়ানো হয়, সেই বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে। এ রকম রায় বিশ্বের কোন আদালত এর আগে দেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’ ১৯৭৩-এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান না থাকায় ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিতে পারছে না।

আলবদর কমান্ডার প্রমাণিত ॥ জামায়াতের নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে ৫টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ ছাড়াও তিনি যে আলবদর কমান্ডার ছিলেন তাও প্রমাণিত হয়েছে। ১ নং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেযা হয়েছে। ২ নম্বর (ধাপপাড়া গণহত্যা), ৩ নম্বর (ঝাড়ুয়ারবিল গণহত্যা) এবং ৪ নম্বর (রংপুর কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপক পতœীকে হত্যা) অভিযোগে ফাঁসির দ-াদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ৫ নম্বর অভিযোগে এক নারীকে ধর্ষণ ও পাকিস্তানী সেনাদের ধর্ষণে সহায়তার দায়ে ২৫ বছর ও ৬ নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে ৫ বছরসহ আরও ৩০ বছরের কারাদ-াদেশ দেয়া হয়েছে।

এটা ফরমায়েশী রায় ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-াদেশ দেয়ার পর আসামি কাঠগড়ায় থেকে দাঁড়িয়ে বলেন, এটা ‘ফরমায়েশী রায়। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।’ আপনাদের বিচার আল্লাহর আদালতে হবে, ইনশাআল্লাহ। চেয়ারম্যানসহ দু’সদস্য এজলাস ত্যাগ করার সময় আবার আসামি উচ্চৈঃস্বরে বলেন, আল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর। আল্লাহ বিচার করবে তাদের। পরে পুলিশ আসামিকে নিয়ে নিচে হাজতখানায় নিয়ে যায়। হাজতখানায় তিনি স্থিরভাবে পাপের ওপর পা রেখে সামনের দিকে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে থাকেন।

পঞ্চদশ রায় ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামামের রায়টি হয়েছে ট্রাইব্যুনালের ১৫তম রায়। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, ৬টি রায় প্রদান করেছেন। এটি হলো ট্রাইব্যুনাল-১ এর সপ্তম রায়। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, ৮টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। এই রায়সহ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাসহ ১৫টি মামলায় ১৬ জনকে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন ধরনের দ- প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২। এটিএম আজহারুল ইসলামের রায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা পলাত আব্দুল জব্বারের এই দুটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। পাশাপাশি দুটি ট্রাইব্যুনালে আরও নয়টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

মামলার কার্যক্রম ॥ জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয় ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল। ২৩ আগস্ট আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। একই বছর আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক নির্যাতনসহ ৬টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। আসামির বিরুদ্ধে একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২০১৪ সালের ৬ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। প্রসিকিউশন পক্ষে মোট সাক্ষী প্রদান করেন ১৯ জন। আর আসামি পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষী প্রদান করেছেন। চলতি বছরের ১৮ আগস্ট থেকে প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামি ও প্রসিকিউশনের যুুক্তিতর্ক শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এম ইদ্রিস আলীসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষী। তাদের মধ্যে সপ্তম সাক্ষী আমিনুল ইসলামকে বৈরী ঘোষণা করেছেন প্রসিকিউশন পক্ষ। বাকি ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ঘটনার ১৪ সাক্ষী হলেন ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেয়া একজন ভিকটিম, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোস্তফা, শহীদপুত্র মোখলেসার রহমান সরকার ওরফে মোখলেস আলী, মোঃ মেছের উদ্দিন, আব্দুর রহমান, মকবুল হোসেন, মোঃ মুজিবর রহমান মাস্টার, শোভা কর, রতন চন্দ্র দাস, সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা, রফিকুল হাসান নান্নু, রথিশ চন্দ্র ভৌমিক, এওয়াইএম মোয়াজ্জেম আলী এবং তপন কুমার অধিকারী। আর জব্দ তালিকার তিন সাক্ষী হলেন তদন্তকারী কর্মকর্তার সহকারী ও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জুনিয়র সদস্য সজল মাহমুদ, আকরাম হোসেন এবং বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়া। অন্যদিকে গত ৩ ও ৪ আগস্ট আজহারের পক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আনোয়ারুল হক।

২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আজহারের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন আজহারের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনির ও ইমরান এ সিদ্দিকী। ২৫ জুলাই এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ১৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দাখিল করেন প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর নূরজাহান বেগম মুক্তা।

যুক্তিতর্ক ॥ রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখার আগে বদর বাহিনীর কমান্ডার এটিএম আজহারুলের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে আজহারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জোয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। ২৭ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ কার্যদিবসে আসামি পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আজহারের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার ও শিশির মোহাম্মদ মুনির।

যত অভিযোগ ॥ অভিযোগ-১ : অপহরণ, আটক, নির্যাতন দখিগঞ্জ শ্মশানে ব্রাশফায়ারে হত্যা ও গণহত্যা ॥ একাত্তরের ২৪ মার্চ রংপুরের আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণের পর আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন। পরে তাদের ৩ এপ্রিল শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে একজন বেঁচে যান। ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী সেনারা বাঙালী নিধনের যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছিল, এ ঘটনা তারই অংশ ছিল। যাদের হত্যা করা হয় তারা হলেন এ ওয়াই মাহফুজ আলী, ক্ষিতিশ হাওলাদার, এহসানুল হক দুলাল, রফিকুর ইসলাম রফিক, শান্তি চাকী, দুর্গাদাশ অধিকারী, গোপাল চন্দ্র, তোফাজ্জল হোসেন মহরম, উত্তম কুমার অধিকারী গোপাল ও পাগলা দরবেশ। একাত্তরের ২৪ মার্চ বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা দিকে রংপুর সদরের ধাপ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার বিশিষ্ট ব্যবসাযী ও আওয়ামী লীগ সমর্থক দুর্গাদাশ অধিকারীরর বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ও তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী উত্তম কুমার অদিকারীকে অপহরন করে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আটক রেখে নির্যাতন করে।

অভিযোগ-২ : ধাপপাড়া লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, গুরুতর জখম, হত্যা ও গণহত্যা ॥ একাত্তরের ১৬ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জের ধাপপাড়ায় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম এ হত্যাকা-ে অংশ নেন। ওই ঘটনায় শহীদদের মধ্যে ১৪ জনের নাম-পরিচিতি শনাক্ত করে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যারা নিহত হন তাদের মধ্যে রয়েছেন জঙ্গলী ভরসা, কেরাদ হোসেন ওরফে বিষ্ণু, মোছাঃ চিলি মাই, মমতাজ উদ্দিন, মৌলভী আঃ কুদ্দুস আলী, তমিরউদ্দিন ওরফে তমিজউদ্দিন, মরিয়ম নেছা কালটি মাই, ছরিজন নেছা ওরফে সখি মাই, ইউসুফ আলী, স্বাধীনা, আজিজার রহমান ওরফে খোকা, জহির উদ্দিন, ওসমান আলী।

অভিযোগ-৩ : হাজীপুর, ঝাড়ুয়াপাড়া এবং ঝাড়ুয়াবিলে হত্যা ও গণহত্যা ॥ ১৭ এপ্রিল রংপুরের ঝাড়ুয়ার বিল এলাকায় নারকীয় গণহত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন মারা যান, যাঁদের মধ্যে ৩৬৫ জনের নাম-পরিচিতি পাওয়া গেছে। শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ, কেউ ওই হত্যাকা-ের ঘটনায় বাদ যাননি। হত্যাকা-ের শিকারদের মধ্যে ২০০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যা প্রমাণ করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের উদ্দেশে ওই হত্যাকা- চালানো হয়েছিল। যে সমস্ত বধ্যভূমিতে যাদের হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন মোছাঃ জান্নাতুন নেছা, মোঃ আব্বাছ আলী, মোঃ সামছুল ইসলাম, মোঃ সমসের আলী, মোছাঃ নাজিরা বেগম, মোঃ কফিল উদ্দিন, মোঃ আঃ বারী, মোঃ কছিদোল, মোছাঃ বানাপন, মোছাঃ আবিয়া খাতুন, মোছাঃ আনিছা, মোছাঃ রোকছেনা খাতুন, মোছাঃ হামিদা খাতুন, মোঃ আনোয়ারুল হক, মোঃ কাশেম আলী, মোঃ জয়মুদ্দি, মোঃ সফিচল , মোঃ ফয়েজ উদ্দিন, মোঃ আনাম উদ্দিন, কেশব চন্দ্র দাশ, নৃত্যজ্ঞান চন্দ্র, ছতিশ চন্দ্র রায়, প্রবাস চন্দ্র রায়, মোঃ মোহায়মিন, মোঃ আজহার আলী, এছমাইল হোসেন, মোঃ টুনু পাছুয়া, মোঃ আফেল উদ্দিন, মোঃ আব্বাস আলী, ছিদাস চন্দ্র, ভবেশ চন্দ্র, অতুল চন্দ্র, পেরী মোহন রায়, শমছের আলী, বদিউজ্জামান, শমস উুদ্দিন, মোহায়মান, আমজাদ উদ্দিন, সমসের আলী, ফয়েজ উদ্দিন, মোঃ শাহাবুদ্দিন, আবুল কাশেম, জয়েফ ইদ্দিন, অশনি কুমার রায়, হরিপদ, বদিউজ্জামান, আমজাদ হোসেন, সমসের, সত্যরঞ্জন রায়, কেশব চন্দ্র রায়, সতীষ চন্দ্র রায়, প্রবেশ চন্দ্র রায়, অতুল চন্দ্র রায়, ললিত চন্দ ্র রায়, নাসির উদ্দিন, আলাউদ্দিন, আঃ জব্বার, প্রাণ কৃষ্ণ মাস্টার, রামেন্দু, গণেশ চন্দ্র, কাল্টু সরদার, শশী ডাক্তার, আনন্দ মোহান, রামানন্দ, তারনী ওরফে ব্যাং, অনিল মাস্টার, হরলোচন শীল, ললিন শীল, হরিপদ, প্যানা শীল, শশী মহন্ত, বিরহ মহন্ত, মনো মহন্ত, মহিন্দ্র, শকুরা, মন্টু মহন্ত, বিনোদ মহন্ত , বাবু মহন্ত, পেরী মোহন, শশী মোহন, শ্যামা পদ, গোর জ্যোতিষ, দেবেন্দ্র দাশ, নরেন, ভবানী চন্দ্র, রূপ নারায়ণ, ললিত দাশ, চয়েন দাশ, পলিন দাশ, প্রাণকৃষ্ণ সূত্রধর, লুৎফা খাতুন, দর্পচন্দ্র, মৃত্যুঞ্জয়, কেশব চন্দ্র, আজগার আলী, টুনুন, আলেফ উদ্দিন, বরুণ, আফছার আলী, দীনেশ মাস্টার, ভবানীচন্দ্র বিশ্বাস, বংশ চন্দ্র বিশ্বাস, ললিত চন্দ্র, হরিপদ, অনিল চন্দ্র, সিদাম নাথ, শ্যামা চরণ, নরেণ চন্দ্র রায়, গোরাচন্দ্র, প্রাণ কৃষ্ণ রায়, দর্প চন্দ্র, শাপিয়ার রহমান, নাজিরা খাতুন, শাফিয়া খাতুন, মাহতাব উদ্দিন, আফতারুন নেছা, মমেজা খাতুন, শহিদা খাতুন, মোছলেমা খাতুন, আমজাদ আলী, শামছুদ্দিন, একরামুল হক, বদিউজ্জামান, মোফাজ্জল হোসেন, শাহাবুদ্দিন, দেবেন্দ্র নাথ রায়, হরেন্দ্র নাথ রায়, রমনা কান্ত, হরিকান্ত, ওমর আলী, রজব আলী, মজিত প্রামাণিক, ইমান আলী, দেলবার হোসেন, জমেতুউল্লা, সাহাজ উদ্দিন, সাজেদা খাতুন, আব্দুল ম-ল, লিয়াকত আলী, মোঃ লিয়াকত, অহিদুল হক, ফজলুল হক, এমাজ উদ্দিন, ছমচার উদ্দিনসহ ৩৬৫ জন। বিভিন্ন এলাকা হতে আত্মরক্ষার্থে আগত নাম ঠিকানা না জানা আরও ৯শ’ জন নিহত হন।

অভিযোগ-৪ : কারমাইকেল কলেজের অধ্যাপক ও পরিবার অপহরণ, আটক হত্যা ও গণহত্যা ॥ একাত্তরের ৩০ এপ্রিল রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক কালাচাঁন রায় ও তাঁর স্ত্রী মঞ্জুশ্রী রায়, সুনীল বরণ চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ অধিকারী ও চিত্তরঞ্জন রায়কে পাকিস্তানী সেনারা দমদমা সেতুর কাছে নিয়ে হত্যা করে। শিক্ষকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আজহারুল ইসলামকে পাকিস্তানী সেনাদের গাড়ির পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন।

আজহারুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে অধ্যাপক কালাচাঁন রায় ও সুনীল বরণ চক্রবর্তীকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গাড়িতে ওঠায়। তখন কালাচাদ রায় এর স্ত্রী মঞ্জুশ্রী রায় তার স্বামীকে ছাড়ানোর জন্য অনুনয় বিনয় করলে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী মঞ্জুশ্রীকেও গাড়িতে তুলে নেয়। এ ঘটনার সময় কলেজের ডরমিটরির পাচক রতন চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন। এবং ওই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় কালাচাদ রায়ের মেয়ে মুন্না (৪) এবং ছেলে সুমন (১) বাসায় রতনের কাছে থাকে। সারারাত কান্নাকাটি করে। পরে রিযাজ স্যার ও তার স্ত্রী মুন্না ও সুমনকে নিয়ে যায়। আটককৃত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন রায়, অধ্যাপক সুনীল বরণ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রামকৃষ্ণ অধিকারী, অধ্যাপক কালাচাদ রায় ও তার স্ত্রী মঞ্জুশ্রীকে দমদমা ব্রিজের কাছে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ-৫ : রংপুর টাউন হল অপহরণ, আটক নির্যাতন হত্যা এবং গণহত্যা ॥ একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্য্যন্ত আসামি এটিএম আজহারুল ইসলামের পরিকল্পনায একাত্তরের রংপুর শহরের ও শহরের আশপাশ থেকে নানা বয়সী মেয়েকে ধরে এনে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর অফিসারদের ভোগের জন্য তুলে দেয়া হতো। রংপুর টাউন হলে মেয়েদের আটক রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রংুপুর টাউন হলের পেছনে ইন্দারার অনেক মা-বোনের লাশ পাওয়া যায়। আসামির সহযোগিতায় রংপুর টাউন হলে দিনের পর দিন অসংখ্য নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে মর্মে স্বাক্ষ্য প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আসামি আগস্ট মাসে প্রথম দিকে ভিকটিম মনছুরা খাতুনকে তার শ্বশুরবাড়িতে ধর্ষণ করার পর তাকে রংপুর টাউন হলে অপহরণ করে নিয়ে ১৯ দিন যাবত আটক রাখে। এ সময় পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিভিন্ন অফিসার তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করত। তখন ভিকটিম মনছুরা খাতুন গর্ভবতী ছিলেন। ভিকটিমের অপহরণ করে নিয়ে যাবার সময় আসামির নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী ও পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর নির্যাতনে ভিকটিমের শ্বশুর অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

তাদের সেখানে আলবদর ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পাহারা দিয়ে রাখত। রাতের বেলায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে গড়িতে করে আর্মি অফিসাররা টাউন হলে আসত এবং আটককৃত ভিকটিম মনছুরা বেগম ও আটককৃত যুবতী মেয়েদের এক এক রুমে নিয়ে পাকিস্তানী সেনারা একেকজনকে ২-৩ জনে পালাক্রমে ধর্ষণ করত। গর্ভবতী মনছুরা খাতুনকে এভাবে টাউন হলে আটক রেখে ১৯ দিন নির্যাতন করার ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। ভিকটিম মনছুরা খাতুন যে টাউন হলে আটক ছিল সেই হলে অনেক সময়েই জানালার ফাক দিয়ে দেখতে পায় যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও আলবদররা প্রতি রাতেই অনেক পুরুষ এবং মহিলাদের উলঙ্গ করে বাত বাধিয়া ঝুলাইয়া চাকু দিয়ে শরীর ক্ষত-বিক্ষত করত। একটি টিনের কৌটায় এ্যাসিড নিয়ে একটা কাপড় পেঁচানো লাঠি ওই এ্যাসিডের মাঝে ভিজাইয়া কাটা জায়গায় দিত, নাকে, মুখে, চোখে দিত, যৌনাঙ্গে দিত এবং মরে গেলে লাশ উত্তর পাশের কূপ এবং ঝোপ জঙ্গলে ফেলে দিত।

অভিযোগ-৬ : অপহরণ, আটক নির্যাতন, অন্যান্য অমানবিক আচরণ ॥ একাত্তরের নবেম্বরের মাঝামাঝি এবং ১ ডিসেম্বর অভিযুক্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের যোগসাজশে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে অপহরণ করে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওায়া গেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, একাত্তরের নবেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভিকটিম সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাঙ্গা বন্ধুদের সঙ্গে হাইজাম্প প্রাকটিস করছিল। এ সময় আসামি কালো পোশাক ও চোখে কালো চশমা পরা অবস্থায় একটি ৫০ সিসি মোটরসাইকেলযোগে আসে। এ সময় ভিকটিম জয়বাংলা বলে চিৎকার করলে আসামি তার মোটরসাইকেল নিয়ে তার কাছে আসে। আসামি মোটরসাইকেল থেকে নেমে তার গালে প্রচ- চর মারে। ওই সময় আসামির কাছে একটি অস্ত্র ছিল। তা দেখে ভিকটিকের বন্ধুরা ভয়ে পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে চর মারার পর আসামি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায়। ভিকটিম বাসায় এসে ঘটনাটি সবাইকে জানায় এবং তার গালের ওপর চর মারার দাগ দেখায়। ভিকটিমের ভাই রফিকুল হাসান ওরফে নান্নু ছাত্র রাজনীতি করার সুবাদে তিনি আসামিকে পূর্ব হতে চিনতেন।

রফিকুল হাসান ওরফে নান্নুকে রংপুর কলেজের শহীদ মুসলিম ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে প্রথমে ল্যাট্রিনে আটক করে রাখে। এর পর হাত বেঁধে ছাদের সিলিংয়ে রডের আংটাতে ঝুলাইয়া ও ইলেকট্রিকের তার দিয়ে আসামি এটিএম আজহারুল ইসলাম নিজে ও তার সঙ্গীরা নির্মমভাবে পর্যায়ক্রমে বিকেল তিনটা থেকে পারপিট শুরু করে। মারপিটের এক পর্যায়ে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন তাকে মৃত অবস্থায় ফেলে রাখে।

কে এই আজহারুল ইসলাম ॥ বর্তমান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম একাত্তরের ভূমিকা কি ছিল। বৃহত্তর রংপুরবাসীর কাছে তিনি ছিলেন এক আতঙ্ক। একাত্তরের তিনি রংপুর জেলা আলবদর কমান্ডার ছিলেন। তার পিতার নাম মৃত ডাঃ নাজির হোসেন ওরফে ডাঃ নাজির হোসাইন আহম্মদ। মাতার নাম মৃত রমিচা খাতুন ওরফে মৃত রমিছা বেগম। স্ত্রীর নাম শামসুন্নাহার ইসলাম। জন্ম তারিখ ২৮-৫-১৯৫২। শিক্ষাগত যোগ্যতা-এমএ পাস। স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম-বাতাসন লোহানীপাড়া, থানা- বদরগঞ্জ, জেলা-রংপুর। বর্তমান ঠিকানা-৬/এ, এফ টাওযার, ৯১/বি এলিফ্যান্ট রোড, বড়মগবাজার, থানা- রমনা , ঢাকা- ১২১৭।

আসামি নিজ এলাকা বদরগঞ্জের সাহেবঞ্জ ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে রংপুর সদরে জিলা স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণী পাস করেন। ১৯৬৮ সালে রংপুর জেলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান শাখায় দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত রংপুর কারমাইকেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান শাখায় দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। ১৯৭১ সালে এইচএসসি (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় যা ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে, উক্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কোন তথ্য মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী হতে পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনারেল হিস্ট্র্রিতে পাস করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে এমএ পাস করেন।

আসামি এটিএম আজহারুল ইসলামের ১ ছেলে, ৪ মেয়ে, ৪ ভাই ও ১ বোন রয়েছে। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও কোতোয়ালি থানা নির্বাচনী এলাকার জামায়াতের প্রার্থী মোখলেসুর রহমান এবং একই সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বদরগঞ্জ- গঙ্গাছড়া থানা নির্বাচনী এলাকার জামায়াতের প্রার্থী মীর আফজাল হোসেনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতের সমর্থক এবং ছাত্র নেতা হিসেবে এটিএম আজহারুল ইসলাম উক্ত নির্বাচনী প্রার্থীদের পক্ষে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর কারমাইকেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন। সেই সময়েই তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘের (আইসিএস) রংপুর শাখার সভাপতি এবং রংপুর জেলার আলবদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর থেকে এটিএম আজহারুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রতিবারই পরাজিত হন।

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪

৩১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: