আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বায়োগ্যাস

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪

বায়োগ্যাস গ্রামীণ মানুষের যাপিত জীবন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতায় এনে দিতে পারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বগুড়া জেলা শহরের উত্তর-পূর্বের নিভৃত গ্রাম পারভবানীপুর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বায়োগ্যাস এ গ্রামে এনে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। পারভবানীপুরের এ সাফল্যকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলও এগিয়ে যাবে উন্নয়নের পথেÑ এরকম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘নিকষ কালো অন্ধকারের বগুড়ার গ্রাম এখন আলো ঝলমল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আশা জাগানিয়া কথা ধ্বনিত হয়েছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, গোবরের তৈরি গ্যাসে গ্রামের প্রতিটি ঘরের গৃহবধূ সিঙ্গেল ও ডাবল বার্নার চুলোয় রান্না করে। এমনকি লোডশেডিংও নেই। গোবরের গ্যাস প্লান্টের কল্যাণে গ্রামের কৃষি জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবসার ব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে অধিক ফসলের ভাগীদার হচ্ছেন তাঁরা। পল্লীবিদ্যুত সমিতি গ্রামে লোডশেডিং হলে গোবরে তৈরি গ্যাসের জেনারেটরে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুত দেয়া হয়। আলোকিত এই গ্রামের চিত্র পাল্টে দিয়েছে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) গবেষণার একটি প্রকল্প। তবে গ্রামের মানুষের কাছে এ প্রকল্পের নাম এবিসিডি অর্থাৎ এ্যাসেট বেজড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট। এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গ্রামের দৃশ্যমান সম্পদের পাশাপাশি যে সব অদৃশ্য সম্পদ রয়েছে তা খুঁজে বের করে জনকল্যাণে কাজে লাগানো।

জানা যায়, উল্লেখিত গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে কাঁচা রাস্তা মাটি কেটে সমান করেছেনÑ এটা দেখে সরকারী পর্যায় থেকে মাটির রাস্তা পাকা করে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এবিসিডি প্রকল্পের মাধ্যমে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। গ্রামের কয়েক বাড়ি মিলে যৌথভাবে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতো বড় প্লান্ট তৈরি করা হয়। ওই প্লান্টে প্রায় দুই শ’ গরুর গোবর সংগ্রহ করা হয়। গরুপ্রতি কৃষক এক শ’ টাকা করে পান। গোবরের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠাও বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহৃত হয়। প্লান্ট ক্যাপাসিটি ১৩০ ঘনমিটার গ্যাস। উৎপাদিত গ্যাসে গভীর নলকূপ ও জেনারেটর চলে যার ক্ষমতা ৪ দশমিক ৪ কেভিএ। প্লান্টের নামেই আছে ৫ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওভারহেড পানির ট্যাংক।

বায়োগ্যাসের কল্যাণে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ আজ তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ঘরে বসে তাঁরা ল্যাপটপ, ফ্রিজ, টিভি, স্মার্টফোন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার করে নানাভাবে লাভবান হচ্ছেন যার প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর। গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার হলে দেশের জিডিপিতে তা সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। বায়োগ্যাসের ব্যবহারের ফলে গ্রামের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেছে। শিক্ষিত হওয়ার ফলে বাল্যবিবাহ, তালাক, দ্বন্দ্ব, মামলা অনেকাংশে কমে গেছে। সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, আরডিএ’র এই প্রকল্প দেশের প্রায় ৮৬ গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এবিসিডির এই প্রকল্পের সুফল যত বেশি গ্রামে বাস্তবায়িত হবে গ্রামীণ অর্থনীতি তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত দ্রুত সাধিত হবে- এরকম প্রত্যাশা সবার।

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪

৩০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: