আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এবার ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির পথে দেশ

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪
  • মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী সম্প্রসারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে আরও ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলা এই কর্মসূচীর আওতায় আসছে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ ‘ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি’ বাংলাদেশ আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সকল অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১০ সালে যে পোভার্টি ম্যাপ তৈরি করেছে তা অনুসরণ করে ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলা কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসার সুপারিশ করে। ‘২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলবে, প্রতি উপজেলার আড়াই হাজার মানুষ এর সুবিধাভোগী হবে। এতে খরচ হবে ১২২ কোটি টাকা।’ তৃতীয় পর্যায়ে সর্বমোট খরচ ধরা হয়েছে ৬৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলা হচ্ছেÑ বরিশালের মেহেদীগঞ্জ, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ময়মনসিংহের নান্দাইল, পিরোজপুরের কাউখালী, চাঁদপুরের হাইমচর, শেরপুর সদর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ঝালকাঠীর নলছিটি, মাগুরার মোহাম্মদপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, বাগেরহাটের চিতলমারী, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বান্দরবনের থানচি, নাটোরের সিংড়া, খুলনার তেরখাদা এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ।

আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী ছিল, ২০১০ সালে ৬ মার্চ এ কর্মসূচী কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হয়। এ কর্মসূচীর আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বয়স বয়সী বেকার নারী ও পুরুষদের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ সময় তাদের প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ভাতা দেয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে তাদের ২ বছরের জন্য বিভিন্ন সরকারী দফতরে অস্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়, তখন তারা ২০০ টাকা করে প্রতিদিন পান, এরপর তারা দক্ষতা অর্জন করে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগাতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রথম পর্যায়ে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জের ১৯টি উপজেলায় ৫৬ হাজার ৮০১ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৪ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। এজন্য ব্যয় হয় ৮৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে আসে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১১-১২ সালে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলার আটটি উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৬৭ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং খরচ হয় ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২৭টি উপজেলায় এ কর্মসূচী চালু আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির নামের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণের প্রস্তাব এসেছে। তবে এ জন্য বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমতিসহ আনুষঙ্গিক কিছু কাজ করতে হবে। তিনি জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক পদগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিরা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এটি হবে ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্ত্রিসভার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি কিভাবে ব্যতিক্রমধর্মী হবে, তা নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কোন কোন মন্ত্রী এটিকে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কানুনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। আবার কয়েকজন মন্ত্রী এতে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ব্যতিক্রমধর্মী যদি করতেই হয়, কারও সঙ্গে তুলনা না করে নতুন আইনে এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি করতে হবে।

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪

৩০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: