হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পর্যটন শিল্পের বিকাশ হেরিটেজ হাইওয়ে- শুধুই এগিয়ে যাওয়া

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪
পর্যটন শিল্পের বিকাশ হেরিটেজ হাইওয়ে- শুধুই এগিয়ে যাওয়া
  • শুধুই এগিয়ে যাওয়া উত্তরের জগদ্দল বিহার, বিশ্ব ঐতিহ্যে শীঘ্রই রামাবতী নগরী

সমুদ্র হক

পাল সম্রাট রামপালের হারিয়ে যাওয়া সেই রামাবতী নগরী যে উত্তরাঞ্চলের জগদ্দল বিহার এমনটি মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকগণ। যার অনুকূলে অনেক প্রমাণও মিলছে। সাধারণত প্রত্ন খননে প্রাচীন অবকাঠামোর ছাদ খুঁজে পাওয়া যায় না। জগদ্দল বিহারে ছাদের অংশ বিশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। নিউলিথিক যুগের (ইতিহাস পূর্ব) চিহ্ন মিলেছে। বিহারে সাজানো পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা)সহ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ৩৩টি কক্ষ আগেই পাওয়া গিয়েছে। এই জগদ্দল বিহারটি জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড কালচারাল হেরিটেজে (বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যে) শিঘ্রই অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। তা হলে পরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও হেরিটেজ হাইওয়ের নতুন যুগে প্রবেশ করবে দেশ। ঐতিহ্যে এই মহাসড়ক ধরে শিল্প সংস্কৃতি অর্থনীতিসহ উন্নয়নের সকল পথেই অনেকদূর এগিয়ে যাবে দেশ। ইতোপূর্বে নওগাঁর পাহাড়পুর, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন (প্রকৃতির নিসর্গ) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এরপর বগুড়ার মহাস্থানগড়, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির, নওগাঁর জগদ্দল বিহার, ঢাকার লালবাগ ফোর্ট (দূর্গ)সহ পাঁচটির তালিকা ইউনেস্কোকে দেয়া হয়। বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেতে যে দশটি শর্ত পূরণ করতে হয় তার প্রায় ৭০ শতাংশই হয়েছে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার জগদ্দল ইউনিয়ন ও গ্রামের জগদ্দল বিহার। এই জায়গাটি পাহাড়পুর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মোটর গাড়িতে আধাঘণ্টার পথ। ওই বিহারে যেতে পথে পড়বে প্রাচীন কীর্তি মঙ্গলবাড়ির ভিমের পান্টি। জগদ্দল বিহারের এক কিলোমিটারের মধ্যে আছে অতি পুরানো স্থান আলতাদীঘির ঘাট। ওই এলাকায় আছে পুরানো আমালের ৩শ’ ৬৪টি পুকুর, যার অনেক শান বাঁধা। নয়টি উঁচু ঢিবি আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রতœ ভাষায় বলা হয় মাউন্ট। প্রত্নতত্ত্ব¡ অধিদফতরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, প্রত্ন এলাকা মহাস্থানগড় ও ভাসু বিহার থেকে শুরু করে উত্তর পশ্চিমের পাহাড়পুর হয়ে জগদ্দল বিহার পর্যন্ত পুরো এলাকায় মাটির ওপরে ও নিচে কয়েকটি যুগের প্রাচীন ইতিহাসের যে প্রতœ সম্পদ আছে তা দিনে দিনে উন্মেচিত হচ্ছে। প্রত্ন অধিদফতর এইসব এলাকা সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে জাদুঘর স্থাপন করছে। এ বছর (২০১৪) এপ্রিল মাসের মধ্যভাগে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রতœ এলাকায় পর্যটক আকর্ষণে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সূত্র জানায়, জগদ্দল বিহারকে বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান দিতে ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও বিশেষ প্রতিনিধিদল কয়েক দফা সফর করেছেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর নিজে এই অগ্রগতির তদারকি করছেন। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ চুক্তি গৃহীত হয় ১৯৭২ সালে। চুক্তির মূল ভাবনা হলো, বিশ্বে অনেক আশ্চর্য স্থান আছে যার মূল্য এবং সংরক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বহন ক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থানগুলোকে যে কোন মূল্যে রক্ষা করতে বহির্বিশ্ব সহযোগিতা করে। এ জন্য একক দেশকে কিছুটা ত্যাগ স্বীকারও করতে হয়। এই চুক্তিতে রক্ষা পেয়েছে মিসরের তিন হাজার বছর আগের এক মন্দির, ডিডাবলিউর শহর কোলোনের ক্যাথিড্রিল থেকে আলতাই পর্বতমালা, জার্মানির ডেসড্রেনের এলবে নদীর উপত্যকা। আফগানিস্তানের যে বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি তালেবানরা বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল তার ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে পূর্বের স্থানে সংরক্ষণ করে ইউনেস্কো। এভাবে বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাসসমৃদ্ধ সম্পদ রক্ষা করা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১শ’ ৮৮টি দেশ। হেরিটেজ তালিকায় এ পর্যন্ত স্থান পেয়েছে বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৯শ’ স্থাপনা ও স্থান। সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে ইটালির ৪৭টি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ২৮টি ও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩টি। সূত্র জানায়, জগদ্দল বিহার ইউনেস্কোর শর্ত পূরণে এগিয়ে আছে। বাফার জোন, কোর জোন, ইন্টিগ্রেটি অথেনটিসিটি কনজারভেশনসহ প্রায় সকল দিকই বিশ্ব ঐতিহ্যের অনুকূলে রয়েছে। এ ছাড়াও বিহারে ৪টি গ্রানাইট পাথরের পিলার মিলেছে। ইতোপূর্বে দেশের কোন বৌদ্ধ বিহারে প্রতœ নিদর্শনে গ্রানাইট পাথরের পিলার পাওয়া যায়নি। পাহাড়পুর, কুমিল্লার শালবন বিহার, অনন্দ বিহার, দিনাজপুরের সীতাকোট বিহারসহ কোন বিহারে অবকাঠামোর ছাদের অস্তিত্ব মেলেনি। জগদ্দল বিহারে (যার আরেক নাম পদ্ম মহাবিহার) এই প্রথম মিলেছে ছাদের প্রতœ নিদর্শন। এই ছাদ থেকেই পাওয়া যায় প্রাচীন ইতিহাসের পুরো চিত্র। দ্বাদশ শতকের একজন কবির সংস্কৃতি ভাষায় রচিত রামচরিত গ্রন্থে যে সব অলঙ্করণের কথা উল্লেখ আছে তা বিশ্লেষণ করে জগদ্দল বিহারকে সম্রাট রামপালের রামাবতী নগরী বলেই মনে করা হচ্ছে। জগদ্দল বিহার বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়ার সঙ্গেই প্রস্তাবিত বাকি ৪টি প্রত্ন সাইট দ্রুত স্থান পাবে, এমনটি মনে করছেন প্রতœতাত্ত্বিকগণ।

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৪

৩০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: