আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কাফেরদের হত্যা কর, নইলে ওরা তোমার মাকে ধর্ষণ করবে

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সিরীয় বালককে আইএসের প্ররোচনা

উসাইদ বারহোর নিজ শহর যুদ্ধের কবলে পড়ার আগে সে ফুটবল খেলত, জাকি চ্যানের ছবি দেখতে ভালবাসত এবং লেবাননের সুন্দরী পপ শিল্পী ন্যান্সি আজরামকে খুবই পছন্দ করত। সে কলেজে পড়াশোনা করা এবং ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় বাগদাদে উসাইদ (১৪) এক শিয়া মসজিদের গেটে যায়, বিস্ফোরক ভরা পোশাক দেখাতে তার জ্যাকেট খুলে ফেলে এবং রক্ষীদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কয়েকদিন পর ইরাকী গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন অফিসে সে এক সাক্ষাতকারে বলে, তারা খিলাফতে যোগ দিতে আমাদের প্ররোচিত করেছিল। তাকে সেই অফিসে আটক রাখা হয়েছে।

ইসলামিক স্টেটের সুন্নি চরমপন্থীরা উসাইদকে কিভাবে আলেপ্পোর কাছে তার নিজ শহর মানবিকের এক মসজিদ থেকে রিক্রুট করেছিল সে সেটার বর্ণনা দেয়। সে জানায়, সে স্বেচ্ছাতেই সেই দলে যোগ দিয়েছিল। কারণ সে ইসলামে বিশ্বাস করে। সাক্ষাতকারে সে জানায়, তারা আমার মনে এ ধারণার সৃষ্টি করে যে, শিয়ারা কাফের এবং আমাদের অবশ্যই তাদেরকে হত্যা করতে হবে। এক ইরাকী গোয়েন্দা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হয়। ছেলেটিকে বলা হয়েছিল যে, যদি সে লড়াই না করে তা হলে শিয়ারা এসে তার মাকে ধর্ষণ করবে। সে শীঘ্রই নিজেকে ইরাকে দেখতে পায় এবং তার মনে দ্রুত সন্দেহ দেখা দেয়। সে পালাতে চায়। এক ঝুঁকিবহুল প্রতারণার আশ্রয় নেয়াই তার পালানোর সবচেয়ে ভাল সুযোগ বলে সে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। সে যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে, সেজন্য সে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করবে বলে স্থির করে রাখে। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে জানানো হয় যে, সে ইরাকে গিয়ে লড়াই করুক বলে তার প্রশিক্ষকরা চান। অন্য কয়েক নতুন যোদ্ধার সঙ্গে তাকেও এক মিনিবাসে মসুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রিক্রুটদের যোদ্ধা বা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হতে বলা হয়। সে বলে, আমি এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হবো বলে হাত ওঠাই। এটিই তাকে স্বপক্ষ ত্যাগ করার সবচেয়ে ভাল সুযোগ দেবে বলে সে মনে করে।

সে বলে, যদি আমি একজন যোদ্ধা হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করতাম, তা হলে আমার হাতে বন্দুক থাকায় তারা আমাকে হত্যা করতে পারত। কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে এক জার্মান স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে ঘোরানো পথে বাগদাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সে জানায়, পথে তাকে এক আইএস কর্মীর কাছ থেকে অন্য কর্মীর হাতে তুলে দেয়া হয়। এবং সে বিভিন্ন নিরাপদ বাড়িতে অবস্থান করে। সে ফালুজায় এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত সে এক ভোরে বাগদাদের এক এ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছায়। সেখানে তাকে নাস্তার জন্য চা ও কাবাব দেয়া হয়। তাকে আরেকটি এ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে। দু’ঘণ্টা পর তাকে ডেকে তোলা হয়। তাকে বলা হয়, ওঠ, ওঠ, এখন তোমার পোশাক পরার সময়। তাকে তার লক্ষ্যস্থল হিসেবে বায়া বসতির এক শিয়া মসজিদকে চিহ্নিত করে দেয়া হয়।-নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

২৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: