মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রেলে যোগ হচ্ছে আরও ৯১৬ ইঞ্জিন-কোচ

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রবিবার চট্টগ্রামে পূর্বাঞ্চলীয় রেলের সদর দফতর সিআরবিতে অনুষ্ঠিত রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, রেল পরিবহনে আগামীতে আরও ৯১৬ ইঞ্জিন-কোচ যুক্ত হচ্ছে। এসব ইঞ্জিন ও কোচ ধাপে ধাপে যোগ হবে। এছাড়া রেলের সর্বক্ষেত্রে রঙে পরিবর্তন আসছে। এছাড়া রেলের মালিকানার ভূমি থেকে অবৈধ উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, মোসলেম উদ্দিন এমপি, মোঃ নোমান এমপি, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি, মোঃ আলী আজগর এমপি, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মনসুর আলী সিকদার ও রেলের মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন।

বৈঠকে জানানো হয়, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিংয়ের (সিআরবি) সম্মুখস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালকে ৫০ সিটের মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ ও ২৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীতকরণ, রেলের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিকমানের পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ, রেলের পূর্বাঞ্চলীয় পে এ্যান্ড ক্যাশ দফতরের পূর্বাংশের অব্যবহৃত জায়গায় হোটেল কাম শপিং মল নির্মাণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী মজিবুল হক জানিয়েছেন, আগামী মাসের শেষের দিকে চিনকী আস্তানা-লাকসাম ডবল লাইন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়াও চলমান ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রেলওয়েতে ধাপে ধাপে মোট প্রায় ৮৭০টি কোচ যুক্ত হচ্ছে যাত্রী পরিবহনে। এর মধ্যে ভারতীয় অর্থায়নে ১২০টি এবং এডিবির অর্থায়নে ১৫০টি কোচ আগামী অর্থবছরের মধ্যে সংযোজন হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও ৪৬টি ইঞ্জিন যুক্ত হচ্ছে ট্রেন চলাচল ব্যবস্থায়। স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামে এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এ ছাড়াও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণসহ তাদের উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্থাপনায় অবৈধভাবে বসবাসকারী (সাবলেট) বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, রেলের জমিকে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়াসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও স্থায়ী স্থাপনার মালিকদের নাম ঠিকানাসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে যদি রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীও হয় তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয় বৈঠকে। বৈঠকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার প্রস্তাবিত রেল লাইনের সঙ্গে জানালীহাট থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রেললাইন সংস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট ও দোহাজারি রুটে ডেমু ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলার ধীরাশ্রম এলাকায় আইসিডি নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে করিম এমপি সাংবাদিকদের জানান, রেলকে গতিশীল করতে এবং উন্নয়নের শীর্ষে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জানালীহাট থেকে চুয়েট (চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রেল লাইন সংস্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় বে-টার্মিনাল লিংক রোড নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিআরবিস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত ও ৫০ আসনের মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় পে এ্যান্ড ক্যাশ অফিসের পূর্বদিকে খালি জায়গায় সুপার মার্কেট ও শপিং কাম হোটেল এ্যান্ড গেস্ট হাউস নির্মাণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের ন্যায় রেলের স্থাপনা ও সকল ট্রেনকে একই রঙে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির এ বৈঠকে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক জানান, ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়কে বিভাজন করা হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে। এরপর নতুন উদ্যাগে এ মন্ত্রণালয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিএনপি সরকারের আমলে রেলের কোন উন্নয়ন হয়নি। বরং নাশকতা চালানো হয়েছে রেলের উপর। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে রেলওয়েতে ৪১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মধ্যে ৪৬টি ইঞ্জিন আমদানি, ভারতীয় অর্থায়নে ১২০টি কোচ, এডিবির অর্থায়নে ১৫০টি কোচ, মালয়েশিয়া থেকে ৪শ’টি কোচ ও চীন থেকে ২শ’ কোচ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। তবে ভারত ও এডিবির অর্থায়নে ৩৭০টি কোচের সকল কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব কোচ রেল বহরে যোগ হবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উস্কানিতে রেল জামায়াতী সন্ত্রাসের শিকার। খালেদার উস্কানির কারণে নাশকতা চালিয়েছে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক উভয়ই অশিক্ষিত। ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটূক্তি করতে তারা দ্বিধাবোধ করছেন না। তারা জাতির জনকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রেলকে আধুনিক করতে বিদেশ থেকে ইঞ্জিন ও কোচ আমদানির মধ্য দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী এবং জনগণকে সুবিধাজনক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কালুরঘাট ব্রিজের পাশে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশন রি-মডেলিংয়ের কাজ শতকরা ৯৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। লাকসাম-চিনকী আস্তানা ডবল লাইন প্রকল্পের কাজ ৯৮ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে আরও বলেন, দেশে আর কোন মিটারগেজ রেললাইন স্থাপন করা হবে না। কারণ, মিটারগেজ ঝুঁকিপূর্ণ এবং দ্রুতশীল নয়। ফলে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। এ মন্ত্রণালয়ে তিন বছর কার্যক্রমে এখন ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প চালু রয়েছে। টিকেট সিস্টেমে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। রেলের মালিকানার ভূমি থেকে অবৈধ উচ্ছেদে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ট্রেনের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে। বৈঠকের আগে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা পাহাড়তলীস্থ পূর্বাঞ্চলীয় ডিজেল শপ, রেলওয়ে কারখানা ও ক্যারেজ শপ পরিদর্শন করেন।

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

২৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: