কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হরতালে মাঠে থাকবে ১৪ দল

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি-জামায়াত জোটের সকল ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় মাঠে নামছে কেন্দ্রীয় চৌদ্দ দল। আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ একসঙ্গে পালন করবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই নির্বাচনী জোটটি। দিবসটিকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আগামী ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করবে। এছাড়া আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী কেন্দ্রীয় ১৪ দল সাত বিভাগের বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে সকল নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ করবে। রবিবার সন্ধ্যায় ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় চৌদ্দ দলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কর্মসূচী ঘোষণা করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলকে প্রতিহত করার ক্ষমতা কারও নেই। বিএনপি ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বানচাল করে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল। যে কোন মূল্যে বিএনপি-জামায়াত দেশের গণতন্ত্র ব্যাহত ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা তা কোনভাবেই হতে দেব না। সকল অপশক্তিকে রাজপথে থেকেই আমরা মোকাবেলা করব। আর তাদের ডাকা হরতাল জনগণ আবারও প্রত্যাখ্যান করবে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ড. হাছান মাহমুদ, এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আফজাল হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) শেখ শহিদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, গণআজাদী লীগের এসকে শিকদার, ন্যাপের আবদুর রশীদ প্রমুখ।

বৈঠক সূত্র জানায়, ১৪ দলের বৈঠকে শুধু কেন্দ্রীয় নয়, সারাদেশেই নির্বাচনী এই জোটকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার ব্যাপারে মতামত তুলে ধরেন শরিক দলের নেতারা। সিদ্ধান্ত হয়- জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন টিমে বিভক্ত হয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী সারাদেশ সফর করবেন। আর এ সফরে প্রাধান্য দেয়া হবে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত কক্সবাজারের রামু, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাজশাহীর বাঘা, গাইবান্ধার সাঘাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাকে।

বৈঠক শেষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আওয়ামী লীগের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। আমরা অতীতেও সমস্ত বাধা-বিঘেœর মধ্যেই কর্মসূচী পালন করেছি। গত নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আমরা নির্বাচন করেছি। তিনি বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র আছে বলেই খালেদা জিয়ার হুঙ্কার দিতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন। কিন্তু তারা তো ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রকেই হত্যা করতে চেয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির হরতালে আমরা মোটেই আতঙ্কিত না। গাজীপুরে হরতাল ডেকেছিল কিন্তু বিএনপির একজন কর্মীও মাঠে নামেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তারেক রহমানের কটূক্তি প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রবাসে পলাতক এক ব্যক্তি জাতির জনককে কটাক্ষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে। আমরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তাকে মোকাবেলার চেষ্টা করেছি। কারণ বিএনপি নেত্রী ও তার পুত্রের উদ্দেশ্যেই হলো একটা অশুভ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।

সন্ত্রাস করলে বিএনপির সব নেতাদের গ্রেফতার-খাদ্যমন্ত্রী ॥ হরতালের নামে কোন সন্ত্রাস করলে বিএনপির সব নেতাদের গ্রেফতার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

রবিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের জরুরী বর্ধিত সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর দু-একজন নেতা গ্রেফতার হবে। আর হরতালের নামে কোন সন্ত্রাস করলে বিএনপির সব নেতাদের গয়েশ্বর ও আলালের পরিণতি হবে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর নেতা মুকুল চৌধুরী, শাহে আলম মুরাদ, সহিদুল ইসলাম মিলন, আবদুল হক সবুজ। বৈঠকে আজ সোমবার বিএনপির ডাকা হরতালে রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত হয়ে বলে জানা গেছে।

বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না- ড. হাছান ॥ ছাত্রলীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে কোন বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। আমি ছাত্রলীগকে এদের (বিএনপি) প্রতিহত করতে আরও জোরদার ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাই।

শুক্রবার দুপুরে সেগুনবাগিচার খাজা নিজামুদ্দিন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদ ও চলমান রাজনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা পরিষদ। সংগঠনের উপদেষ্টা হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, নগর নেতা শাহে আলম মুরাদ, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

২৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: