কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শক্তি পরীক্ষায় নেমেছেন এরশাদ ॥ ১০ লাখের সমাবেশ ঘটাতে চান

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

রাজন ভট্টাচার্য ॥ শক্তি পরীক্ষায় মাঠে নামছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। আগামী এক জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চার বছর পর মহাসমাবেশ ডেকেছে দলটি। বিএনপির রাজনীতির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে চায় জাপা। দেশের ৬৪ জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে বিএনপির চাইতে জাতীয় পার্টি এখন জনপ্রিয় তা প্রমাণ করতে চান এরশাদ। এদিকে এরশাদ ও রওশনের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে একপক্ষ অপর পক্ষকে পাল্টাপাল্টি শর্ত দিচ্ছে। সঙ্কট নিরসন করতে হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে একাধিক পদে পরিবর্তন আনা ছাড়া রওশনপন্থীদের কাছে ভেড়ানোর বিকল্প কিছু নেই এরশাদের হাতে। তাই যে কোন সময় দলের একাধিক দায়িত্বশীল পদে পরিবর্তন আসতে পারে এমন আভাস মিলেছে নেতাদের কাছ থেকে।

সম্প্রতি দলের একাধিক কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছেন, নানা কারণে বিএনপি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। দেশের মানুষ এখন জাতীয় পার্টিকে চায়। রাজনৈতিক কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিএনপির জায়গায় যেতে চায় জাপা। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এরশাদের আমলের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। এরশাদ এও বলেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই দুই দলকে দেশের মানুষ এখন আর চায় না। তারা পরিবর্তন দেখতে চায়। জাতীয় পার্টি বিগত দিনে ক্ষমতায় এসেছিল বলেই দেশের এত উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতেও হবে। তাই ক্ষমতায় এলে কি করবেন সে প্রতিশ্রুতিও দিয়ে চলেছেন এরশাদ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির লক্ষ্য ১৫১ আসন।

পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরশাদ ও রওশনের মধ্যে নতুন করে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিশেষ করে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঠিক আগে আগে এরশাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের জন্ম। দলীয় চেয়ারম্যানের বারবার মত পাল্টানো ভালভাবে দেখেননি রওশন। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে ছিলেন তিনি। এরশাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে দলের শীর্ষ স্থানীয় বেশিরভাগ নেতাদের নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন রওশন। ঘটনার প্রায় এক বছর হতে চললেও সঙ্কটের সমাধান হয়নি। সঙ্কট নিরসনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রওশনপন্থীদের মধ্যে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে দলের মহাসচিব করা হয়। বাদ দেয়া হয় রুহুল আমিন হাওলাদারকে। তাতে কাজ হয়নি। এর পর পরই হাওলাদার রওশনের দলে ভেড়েন। বাবলুর সঙ্গে রওশনের দৃশ্যমান সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রওশনের সঙ্গে থাকা নেতারাও খুব একটা এরশাদের অনুষ্ঠানে আসেন না। বারবার আহ্বান জানিয়েও তাদের বাগে আনতে পারেননি এরশাদ। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র বলছে, রাজনীতিতে টিকে থাকতে রওশনের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান এরশাদ। এক জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মহাসমাবেশে সবাইকে উপস্থিত রেখে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের জানান দিতে চান তিনি। তবে সহজেই ঐক্যের পক্ষে নন রওশনসহ তাঁর অনুসারীরা। এজন্য এরশাদকে কিছু মৌখিক শর্ত দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-দলের মহাসচিব পরিবর্তন করা। নতুন মহাসচিব হিসেবে দুই জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেনÑ এরশাদের ভাই জিএম কাদের ও সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। এছাড়াও একজন যুগ্ম মহাসচিব, এরশাদের একজন নিকটাত্মীয় যিনি সাবেক সেনা কর্মকর্তা তাঁকেও বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, অন্তত পাঁচ শীর্ষ পদে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে রওশনের দফতর থেকে। শর্ত পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এরশাদকে। এখন উভয় সঙ্কটের মুখে সাবেক এই সেনাপ্রধান। শর্ত পূরণ করবেন? নাকি দলের বিভক্তি থেকে যাবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এদিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকেও সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। এরশাদ চান জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন। তা মানতে রাজি নন রওশনপন্থীরা।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জাতীয় পার্টির মহাসচিব হওয়ার পর জিএম কাদেরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। একটি অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়ায় মঞ্চ থেকে নেমে যান বাবলু। তাদের দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে জিএম কাদেরকে এরশাদের অনুষ্ঠানে খুব একটা দেখা যায় না। রওশনের সঙ্গে খুব একটা ঘনিষ্ঠতা নেই তাঁর। তবুও বিরোধী নেত্রীর আস্থাভাজন জিএম কাদের। এজন্যই হয়ত তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর পক্ষে রওশন।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি বলেছেন, দেশের মানুষ এরশাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বিগত দুটি সরকারের শাসন আমল এবং পল্লীবন্ধুর ৯ বছরের শাসন আমলের তুলনামূলক বিশ্লেষণে মানুষ এই উপলব্ধি করছে। পল্লীবন্ধুর ৯ বছরের শাসন আমল ছিল উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বর্ণযুগ। তাই দেশের মানুষ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি আগামী ১ জানুয়ারির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মহাসমাবেশকে যে কোন মূল্যে সফল ও স্বার্থক করার জন্য সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মহাসমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচী ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু জনকণ্ঠকে বলেন, কর্মসূচী সফল করতে সারাদেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। নতুন করে জাগরণ তৈরি হয়েছে জাপায়। দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্য থেকেই মহাসমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। ১০ লাখ মানুষের এই আয়োজন সফল করতে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সমাবেশ থেকে বছরব্যাপী দলীয় কর্মসূচীর পাশাপাশি সরকারবিরোধী কর্মসূচীও ঘোষণা করবেন এরশাদ। তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ডাক দেয়া হবে। জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হবে। তবে কোন জ্বালাও পোড়াও সহিংসতায় জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করে না। শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম হতে পারে এর নজির আমরা স্থাপন করতে চাই। জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশে যে কর্মসূচী ঘোষণা করবেন এরশাদ তা অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আগামী মার্চ এপ্রিলের মধ্যে দলের কাউন্সিল করার ঘোষণা আসতে পারে সমাবেশ থেকে। যদিও তিনবার জাতীয় সম্মেলন করার তারিখ ঠিক করেও পেছানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

২৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: