মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইতিহাসের স্মৃতি বিস্মৃতি শৈল্পিক পরিভ্রমণ

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪
ইতিহাসের স্মৃতি বিস্মৃতি শৈল্পিক পরিভ্রমণ
  • বীরেণ সোমের রং তুলিতে পানামনগর

মোরসালিন মিজান ॥ সেই কবেকার ভিটেমাটি! দালান কোঠা! কয়েক শতাব্দীর পুরানা। অথচ, কী আশ্চর্য, এখনও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। হ্যাঁ, ছোট বড় বহু ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে শুধু ভগ্নাংশ নয়, বাংলার বার ভূঁইয়াদের শৌর্যবীর্যের প্রতীক হয়ে আছে এক একটি ভবন। স্থাপনা শিল্পের সুশমা ছড়ানো নগরীর নাম পানাম সিটি। এখন স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী। সেই স্মৃতি হাতড়ে বেড়িয়েছেন শিল্পী বীরেণ সোম। দুই বছর নিয়মিতভাবে সেখানে কাটিয়েছেন তিনি। ছবি এঁকেছেন। সেইসব ছবির প্রদর্শনী এখন চলছে ধানমণ্ডির শিল্পাঙ্গন গ্যালারিতে। বার বার দেখা পানামনগর এখানে যেন নতুন মাত্রায় হাজির হয়েছে।

শনিবার শুরু হওয়া প্রদর্শনীর শিরোনামÑ স্মৃতির অভিসার। শিরোনামই বলে দেয় ফেলে আসা দিনের, যেটুকু সম্ভব, সন্ধান করেছেন শিল্পী। ইতিহাসের খেঁড়োখাতা নিজের মতো করে উল্টেছেন। ছবি আঁকার অনুষঙ্গ খুঁজে নিয়েছেন। এভাবে মোট ৪৬টি ড্রইং, স্কেচ ও জলরং।

বিভিন্ন ছবিতে ঘুরে ফিরে এসেছে প্রাচীন শহরের ইমারত। প্রতিটি ভবন শুরুতে যেমন ছিল, তেমনি দাঁড়িয়ে। তাতে কী? শিল্পীর দেখা চোখে সেগুলোকে ভিন্নতর উপস্থাপনা দিয়েছে। ছবিতে ওঠে আসা ভবনগুলোর গায়ে গায়ে ঔপনিবেশিক, মোঘল, গ্রিক এবং গান্ধারা স্থাপত্যশৈলী। স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা। এসবের সঙ্গে নিজের শিল্পভাষা যোগ করেছেন বীরেণ সোম। ইট, ভেন্টিলেটর জানালার গ্রিলও যেন নতুন মাত্রা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। বেশকিছু ভবনের প্রায় পুরোটাই ড্রইং করেছেন। সুন্দর ড্রইয়িং। বিস্তৃত পরিসর কাজ। ততোটাই নিখুঁত। চোখ সরানো যায় না। জীর্ণ দেয়ালের গা থেকে খসে পড়া পলেস্তরা, বটের ছোট সবুজ পাতায় জীবনের রংÑ কী নেই! ভবনগুলোর সঙ্গে বেমানান যেসব উপাদান পরবর্তিতে যুক্ত করা হয়েছে সেগুলোও ছবিতে ওঠে এসেছে হুবহু। শিল্পী বিশাল ভবনের সুনির্বাচিত অংশকে বিষয় করেছেন। মিক্সড মিডিয়ায় এঁকেছেন। ইমারতের অভ্যন্তরভাগ অতো চোখে পড়ে না। শিল্পী তবু চমৎকার ফুটিয়ে তুলেছেন।

কাঠামোর গায়ে নানা শিল্পসুষমা। কারুকাজ। সেগুলো থেকে একটি একটি করে তুলে এনেছেন শিল্পী। জলরঙে এঁকেছেন ফুল পাতার নক্সা। দরজার নক্সা, কার্নিশ কিছুই বাদ যায়নি। পরিকল্পিত পানামনগরীর একটি মাত্র রাস্তা। কালি কলমে সেই পথ এঁকেছেন শিল্পী। মুখোমুখি বাড়িগুলোর শেষ প্রান্ত রেললাইনের মতো। একটি অন্যটিকে চুমু খেয়েছে যেন। শিল্পীর ছবি সেভাবেই তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে চমৎকার প্রয়াস। ইতিহাসের পথে দীর্ঘ পরিভ্রমণ। অনন্য সুন্দর প্রদর্শনী চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত।

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

২৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: