রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জীবনযুদ্ধে পরাস্ত মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

জীবনযুদ্ধে পরাস্ত এক মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলী। সত্তরোর্ধ এই মানুষটি শেষ বয়সে এসে নিদারুন কষ্ট নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তিন বছর আগে এই সাদা মনের মানুষটির সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা ভেঙ্গে যায়। এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সুস্থ হননি তিনি। পায়ের মধ্যে রড ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই-তিনশ’ টাকার ওষুধ খেতে হচ্ছে তাঁকে। এই মুক্তিযোদ্ধার যেখানে তিন বেলা খেতে কষ্ট হয়, সেখানে ওষুধের ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য সম্ভব নয়। যুদ্ধের সময় দুধ বিক্রেতা সেজে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হায়নাদের অবস্থানের খবর জানাতেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে পাকবাহিনী তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে তাঁর বড় ভাই সেকান্দার আলী, চাচা তাজেম আলী, কাঞ্চনআলী, সোনা আলী, ভাগ্নিজামাই শাহাবুদ্দিনসহ বাড়ির আরও ৯ সদস্যকে। হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাকবাহিনী পুড়িয়ে দেয় তাঁর বাড়িঘর। এ সময় খোরশেদ আলী একটি ভাঙ্গা কবরের মধ্যে লুকিয়ে থেকে জীবন রক্ষা করেন। খোরশেদ আলীর বাড়ি বাউফলের মদনপুর গ্রামে। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী সেতারা বেগম মারা যান। ৫ মেয়ে ও ৩ ছেলে তাঁর। সুস্থ থাকা অবস্থায় বেওয়ারিশ পঁচা, গলা লাশ উদ্ধার, দাফন কিংবা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর মতো কাজ খোরশেদ আলীকে ছাড়া কল্পনাই করাই যেত না। ধর্ম-বর্ণের পরিচয় তাঁর জানা নেই। হিন্দু লোক মারা গেলে তার সৎকার অনুষ্ঠানে তিনি হাজির থাকেন। শহরের যানজট নিরসন, হাসপাতালের সামনে অপেক্ষামাণ দরিদ্র-অসচেতন রোগীকে ডাক্তারের কাছে পৌঁছে দেয়াসহ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেয়া ও তাদের ওষুধ বহন করে এনে দেয়ার কাজটি খোরশেদ আলীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এ ছাড়াও খোরশেদ আলী কোন রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ, বিয়ের অনুষ্ঠানে শৃংখলা বজায় রাখতে লাঠি ও বাঁশি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল বা তোরণের পাশে দাঁড়িয়ে আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা সবার নজর কারত। দিনের আলোতে খোরশেদ আলীর জীবন মানব সেবায় কাটলেও, রাতেও নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। বাউফল পৌর শহরে বাঁশি বাজিয়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়াতেন।

-কামরুজ্জামান বাচ্চু, বাউফল থেকে

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

২৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: