মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দশ বছর পর মা জানলেন সন্তান কবরে শায়িত

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

মিয়ানমারের কারেণ রাজ্যের গ্রামের মেয়ে মে আয়ে নুই ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সকালকে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষণ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় থাইল্যান্ডে পাড়ি জমানোর উদ্দেশে তিনি একটি ছোট নৌকায় চড়ে বসলেন। ঠিক তখন ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া ভয়াবহ সুনামিও তার তাণ্ডবযাত্রা শুরু“ করে। খবব ওয়েবসাইটের।

সুনামির দশদিন পর তার মা এক ফোনকলে জানতে পারেন তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে নুই মারা গেছেন। সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার কন্যা সাগরে চিরতরে হারিয়ে গেছেন। তবে প্রায় ১০ বছর পর প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন তিনি। প্রলয়ঙ্করী সুনামির পর আয়ে নুইয়ের লাশ খুঁজে পাওয়া যায় এবং পরিচয়হীন ব্যক্তিদের সঙ্গে তার লাশও মাটিচাপা দেয়া হয়। ইরাবতি ওরগ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে সুনামির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের সমাধি আছে। এখানে পরিচয়হীন হিসেবে ৪১৮ জনকে কবর দেয়া হয়েছে। এসব কবরে শুধু নম্বর আছে, কোন নাম নেই। নুইয়ের নম্বর পিএম৬৬-টিএ১৪১৫। একই নৌকায় থাকা সুনামি থেকে বেঁচে যাওয়া নুইয়ের বান্ধবী খিন হাথওয়ে য়ি’ই শুধু জানতেন এই নম্বরের আড়ালে যে রয়েছে তার নাম। কিন্তু অবৈধ অভিবাসী হাথয়ে য়ি পুলিশের ভয়ে কখনই নিহত বান্ধবীর পরিচয় প্রকাশ করেননি। জীবিকার সন্ধানে নুই ও তার বান্ধবী খিন হাথওয়ে য়ি তাদের গ্রাম থেকে ৬শ’ মাইল পাড়ি দিয়ে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে পৌঁছেন। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর তারা একটি নৌকায় পাড়ি জমান থাইল্যান্ডের উদ্দেশে। আন্দামান সাগরের ১৫ মিনিটের সরু পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন তারা।

কিন্তু এদিন সকালেই ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে সমুদ্রের নিচে ৯দশমিক১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। ভারত মহাসাগরের বিলিয়ন বিলিয়ন টন পানি অকল্পনীয় প্রাণসংহারি ঢেউ তীব্রবেগে ছুটে আসছিল উপকূলের দিকে।

ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী পৃথিবীর ১৪ টি দেশের ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এই সুনামি। আর থাইল্যান্ড অংশের আন্দামান সাগরে ৫ হাজরেরও বেশি মানুষ এদিন প্রাণ হারান। খিন হাথওয়ে য়ি জানান, নৌকায় চড়ে বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। সমুদ্রের এমন রূপ তারা কখন দেখেনি এবং তারা ভাবতেও পারেনি, এই ঢেউ স্বাভাবিক নয়। নৌকাটি ডুবে যায় আর তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা বাঁচার জন্য সংগ্রাম চালান।

খিন হাথওয়ে য়ি বলেন, আমরা একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাই, জড়িয়ে ধরি। সে আমাকে টেনে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেই। এ ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

২৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: