কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গডফাদারদের তালিকা হলেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কমছে না

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  • শরণার্থী শিবির ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রানজিট ক্যাম্পে

নিজস্ব সংবাদদাতা, উখিয়া, ২৬ ডিসেম্বর ॥ মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা শরণার্থী শিবিরকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। এদিকে এখানকার শরণার্থী শিবির অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে অনেক রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ব্যাপার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাঝে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সরকার সম্প্রতি কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকায় ৫১ জন শীর্ষ রোহিঙ্গা গডফাদারের তালিকা করলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থামানো যাচ্ছে না।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের অবস্থান বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সর্বোচ্চ ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। আর টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা শিবিরের অবস্থান সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটারের ব্যবধান। স্থল ও নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করে স্থানীয় রোহিঙ্গাবান্ধব সিন্ডিকেট ও এখানে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মিয়ানমার থেকে প্রায় প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং অনুপ্রবেশকারীরা প্রাথমিকভাবে কুতুপালং, নয়াপাড়া ও লেদা শিবিরে অবস্থান নিয়ে থাকে। শুক্রবার উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবির ও সংলগ্ন বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সারাদিন এখান থেকে বিচ্ছিন্নভাবে রোহিঙ্গারা শিবির ছেড়ে অন্যত্র সটকে পড়ছে।

কুতুপালং শিবির সংলগ্ন বস্তির ডি ব্লকের আয়েশা খাতুন (৪০), খলিল আহমদ (৪৮) পোটলা হাতে বস্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কথা প্রসঙ্গে জানায়, এখানে ৩ বছর ধরে আছি, কিন্তু সরকারী বা বেসকারী কোন সুবিধা পাচ্ছি না। জীবিকার তাগিদে কক্সবাজার শহরে চলে যাচ্ছি।

অন্যদিকে কুতুপালং শরণার্থী শিবির সংলগ্ন বস্তির নিয়ন্ত্রক রোহিঙ্গা জঙ্গীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী রাকিবুল্লাহ বাহিনী অত্যাচার, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে বস্তির রোহিঙ্গারা শিবির ছাড়ছে। বাংলাদেশে নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর সহায়তায় জানুয়ারির ১০ তারিখ থেকে গণনা করে তাদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে যাবতীয় শরণার্থী মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে মর্মে রোহিঙ্গা জঙ্গী সংগঠন আরএসওর পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী রাকিব বাহিনী প্রধান রাকিবুল্লাহ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে সীমান্ত পেরিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার অবস্থান কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির আরএসও জঙ্গী সংশ্লিষ্টদের ইন্ধনে সরকারের শরণার্থী শিবির স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে ও মিয়ানমার থেকে নতুনভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের উৎসাহ যোগাচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

২৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: