আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফ্যাশন সালতামামি ২০১৪

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • তৌফিক অপু

সময় এবং নদীর স্রোত কখনই থেমে থাকে না। বয়ে চলে আপন গতিতে। আর এভাবেই গড়িয়ে যায় দিন মাস বছর। কালের আবর্তনে আরও একটি বছর চলে গেল আমাদের জীবন থেকে। এই এক বছরে কত ঘটন অঘটন ঘটে যায় মানুষের জীবনে। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খাতা খুলে অনেকেই হয়ত হিসাব করতে বসে গেছেন। এই বিষয়টি প্রতিটি মানুষের জীবনে দোল দিয়ে যায়। ফ্যাশন ট্রেন্ডও এ আওতার বাইরে নয়। এই এক বছরে তেমনি কিছু উত্থান পতন ঘটে গেছে ফ্যাশন ট্রেন্ডে। বছরের শুরুতে খুব একটা ভাল অবস্থানে থেকে ব্যবসা শুরু করতে পারেনি ফ্যাশন ট্রেন্ডের ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে বৈশাখের কেনা-বেচায়। বাঙালীর ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ এখন বেশ সাড়ম্বরে পালিত হয় দেশজুড়ে। ঈদ-পুজোতে মানুষ যেভাবে প্রিয়জনদের জন্য পোশাক কিনে থাকে ঠিক তেমনি বৈশাখেও ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। দেশীয় বুটিক হাউস দেশিদশ তো সংবাদ সম্মেলন করে জানান দিয়েছিল, এ বৈশাখে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। যা সত্যিকার অর্থেই ইতিবাচক। কিছুটা হলেও বৈশাখের পর ফ্যাশন ট্রেন্ড ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। এ প্রসঙ্গে সাদাকালো ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার মি. আজাদ জানান, বৈশাখে শুধু ফ্যাশন ট্রেন্ডকে ঘিরে যে পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে তা আমাদের দেশীয় অর্থনীতির চাকা সচলে ভূমিকা রাখে। এবং আমরা গর্বের সঙ্গেই বলতে পারি বৈশাখী কেনাকাটা বৃদ্ধির ব্যাপারে দেশীয় বুটিকগুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

বৈশাখের রেশ কাটতে না কাটতেই দুয়ারে কড়া নেড়েছে ঈদ-উল ফিতর। আর ঈদ মানেই তো আনন্দ। এ আনন্দর ধনী-গরিব সবাই যে যা সামর্থ্য মতো ভাগ করে নিয়েছে। এ উৎসবে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় পোশাক। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে বর্ষাকালে ঈদ হওয়াতে কেনাকাটায় মাঝে মধ্যেই ভাটা পড়েছে। তারপরেও ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে ব্যবসা করে গেছে। এখন মানুষ নিত্যপ্রয়োজন ছাড়াও সারা বছরই কেনাকাটা করে থাকে।

পাখি ড্রেস : ফ্যাশন ট্রেন্ডে এ বছরে সবচেয়ে আলোচিত পোশাকটি হচ্ছে পাখি ড্রেস। দেশের প্রায় প্রতিটি শপিংমলেই দেখা মিলেছে পাখি ড্রেসের। ভারতীয় একটি টিভি সিরিয়ালের নায়িকার নামকরণে এ পোশাকটি যেন ছিল হট কেক। এই পাখি ড্রেস নিয়ে ঘটেছে নানা অঘটন। পাখি ড্রেস না পেয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা থেকে শুরু করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মারামারির ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। যা পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পেয়েছে। হুজুগে বাঙালীর তকমা আমাদের গায়ে লেগে আছে বলেই হয়ত এমন সব ঘটনা ঘটেছে। তবে ব্যাপারটি দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন অঞ্জনসের কর্ণধার শাহীন আহমেদ। একটা ড্রেস নিয়ে এতো মাতামাতির কিছু নেই। তাছাড়া আমাদের দেশীয় ডিজাইনের চমৎকার পোশাক এখন ফ্যাশন হাউসগুলোতে শোভা পাচ্ছে। নিজেদের পণ্যের প্রতিই গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বারো মাসে তেরো পার্বণে অত্যন্ত বাঙালী জাতি যে কোন উৎসব পেলেই নিজেদের মতো করে উৎসবের আকাশকে রঙিন করে তোলে। আর উৎসব মানেই প্রিয়জনকে কিছু দেয়া। এ তালিকায় পোশাক প্রাধান্য পেয়ে থাকে। যে কারণে বেশিরভাগ ফ্যাশন ব্যবসায়ী এভারেজ ব্যবসা করেছেন। দিন যত গড়িয়েছে মানুষ ততবেশি ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠেছে। আগে একটা সময় ছিল প্রয়োজন ছাড়া পোশাক কেনা হতো না। কিন্তু সে ধারণা এখন অচল। ঋতুভিত্তিক পোশাক কেনার হিড়িক দেখেই তা বোঝা যায়। ষড়ঋতুম-িত এ দেশে একেক ঋতুতে আবহাওয়া উপযোগী পোশাক বের করে থাকে ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাও এতে ভাল সাড়া দিয়ে থাকে। এবছরও ঋতুভিত্তিক পোশাক জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল। যা ফ্যাশন ট্রেন্ডের জন্য শুভলক্ষণ।

বর্ষার রেশ কাটতে না কাটতেই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের ঈদ-উল-আযহা এবং হিন্দুদের দুর্গাপূজা কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়টায় ফ্যাশন হাউসগুলোর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুটো বড় উৎসব কাছাকাছি সময়ে হওয়াতে ফ্যাশন ট্রেন্ডের ব্যবাসায়ীরা যেন দম ফেলার ফুসরত পায়নি।

শীতকালকে ধরা হয় ফ্যাশনের অন্যতম সময়। শীত এলেই মানুষ যেন বাজেট করে কেনাকাটা করতে নামে। এর মধ্যে শীতের পোশাক অগ্রাধিকার পায়। তাছাড়া শীতকালে প্রচুর বিয়েশাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়ে থাকে বলে শীতে পোশাক কেনার বাড়তি হিড়িক পড়ে। এবারেও সে বিষয়টি লক্ষণীয়। প্রচুর পরিমাণে পোশাক বেচাকিনি হয়েছে। বুটিক হাউস থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন পোশাকভিত্তিক ফ্যাশন হাউসগুলো ভাল ব্যবসা করেছে। বড়দিন এবং নতুন বছর উপলক্ষেও ফ্যাশন হাউসগুলো ব্যস্ত সময় পার করে।

অনলাইন ফ্যাশন হাউস : এ বছরে অনলাইন ফ্যাশন হাউসগুলো ছিল আলোচনার শীর্ষে। গতানুগতিক ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি অনলাইন ফ্যাশন হাউসগুলো ভাল ব্যবসা করেছে। সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ তত বেশি অনলাইননির্ভর হয়ে পড়ছে।

বড় ধরনের কোন অঘটন এখন পর্যন্ত ঘটেনি আমাদের ফ্যাশন ট্রেন্ডে। বরং নিত্য নতুন পোশাকের সমাহার ঘটেছে। সামনের বছর আরও ভাল যাবে এই প্রত্যাশাই রইল।

ছবি: আরিফ আহমেদ

আজিম এলাহি

মডেল: নন্দিনী, দীপা খন্দকার, পিয়া, এলভিন, রানা, তৃষি, আসিফ মির্জা, আশা ও পিয়াস।

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

২৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: