হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্যার আমার মধ্যে রং ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪
স্যার আমার মধ্যে রং ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন
  • -কাইয়ুম চৌধুরী

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অন্যতম প্রিয় ছাত্র ছিলেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ মানুষও। অনুজ বন্ধুতো বটে। অকাল প্রয়াত কাইয়ুম চৌধুরীর সর্বশেষ সাক্ষাতকার নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। তিনি তাঁর সেই সাক্ষাতকারে তাঁর শিল্পী জীবনে জয়নুল আবেদিনের সাহচর্য, প্রভাব কতটা রেখাপাত করেছে সে সম্পর্কে উদারভাবে জানান দিয়েছেন। কাইয়ুম চৌধুরী বিনীতভাবে কবুল করেছেন তাঁর শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে জয়নুল আবেদিনের অবদানকে। তিনি তাঁর কাছে ঋণী। শিক্ষক হলেও জয়নুল আবেদিন তাঁর প্রিয় ছাত্রদের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন বন্ধুত্বের সম্পর্ক। স্বজনের সম্পর্ক।

কাইয়ুম চৌধুরী কিভাবে তাঁর ঋণ কবুল করেছিলেন? জয়নুল আবেদিনের শতবর্ষে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক বিধায় সাক্ষাতকারের কয়েকটি প্রশ্ন সংক্ষেপিত আকারে তুলে ধরা হলো

Ñমাহবুব রেজা

সাক্ষাতকারে কাইয়ুম চৌধুরী বলছেন, আমি আমার কাজের মধ্যে গ্রামীণ শিল্পীদের সেই ভাবধারা তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমি তাদের কাজের ঘরানা ফলো করারও চেষ্টা করি। সবচেয়ে বড় কথা গ্রামীণ শিল্পীদের ফর্ম (ঋড়ৎস) টাকে অনুধাবন করি। ওদের রঙের ব্যবহারের দিকটি আমাকে মারাত্মকভাবে আকৃষ্ট করে। ওদের কাজের মধ্যে আমরা সিমপ্লিফিকেশন (ঝরসঢ়ষরভরপধঃরড়হ)-এর বহুমাত্রিক ব্যবহারও দেখতে পাই। শখের হাঁড়ির উদাহরণ দেই। জয়নুল আবেদিন স্যার সবসময় আমাদের বলতেন গ্রামীণ শিল্পীদের পরিমিতিবোধ, সেন্স অব প্রোপোরশন অনেক বেশি। তিনি বলতেন, দেখ ওরা যে মাটির হাঁড়ি বানায় তা কতরকম। হাঁড়ির এই রকমভেদ কিন্তু প্রয়োজনীয়তা থেকে এসেছে। ভাত রান্নার জন্য এক রকম হাঁড়ি, মাছ রান্না করার জন্য আরেকরকম হাঁড়ি আবার দেখা যাচ্ছে মুড়ি ভাজার জন্যও অন্য আরেক ডিজাইন। জয়নুল আবেদিন স্যার বলতেন ডিসটোরশন (উরংঃড়ৎঃরড়হ) অনুযায়ী, প্রয়োজনের তাগিদে ওরা মনোহারী হাঁড়ি তৈরি করে নিজেদের শিল্পীসত্তাকে ফুটিয়ে তোলে। এখানে পিকাসোর কথা এসে যাচ্ছে। আফ্রিকাকে সবসময়ই বলা হতো ডার্ক কন্টিনেন্ট। পিকাসো আফ্রিকার রংবেরঙের মুখোশ (গঁংশ) দেখে ভারী অবাক হলেন। পিকাসো দেখলেন আফ্রিকার মুখোশের মধ্যে চমৎকারভাবে নানা উপকরণ উঠে এসেছে। মাছ, হরিণ, পাখি, কুমির, বাঘসহ কতরকম নকশা যে মুখোশের মধ্যে উঠে এসেছে! পিকাসো আফ্রিকার সেই মুখোশ দেখে নতুন করে শিল্প তৈরি করলেন। তাহলে কী দাঁড়াল? আফ্রিকা নট অনলি ডার্ক কন্টিনেন্ট আফ্রিকা অলসো মোস্ট মডার্ন কন্টিনেন্ট। পিকাসো তাঁর অবজার্ভেশন (ঙনংবৎাধঃরড়হ) দিয়ে দেখলেন এবং শিল্প তৈরি করলেন। একজন শিল্পীকে মনের আনন্দে কাজ করার পাশাপাশি মনের আনন্দে তাকে পর্যবেক্ষণও করে যেতে হবে। পর্যবেক্ষণও একজন শিল্পীকে অনেক কিছু দেয়।

প্রশ্ন : আপনারা আর্ট কলেজের পড়ার সময় কোথায় আড্ডা মারতেন। সেই আড্ডায় কারা কারা থাকতেন? সে সময়ের কোন স্মৃতি, কোন ঘটনা।

কাইয়ুম চৌধুরী : আমি আর্ট কলেজে ভর্তি হই ১৯৪৯ সালে। আমরা আর্ট কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচ। আমার সঙ্গে পড়ত মূর্তজা বশীর, রশীদ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, হুমায়ুন কাদির, আমিনুর রহমান, আনওয়ারুল হকসহ আরও অনেকেই- সবার নাম এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। ১৯৫৪ সালে আমরা আর্ট কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়ে যাই। আমরা আড্ডা মারতাম নানা জায়গায়। গুলিস্তানের রেক্স রেস্তরাঁয়, লা সানি রেস্তরাঁ, আরমানিটোলায় তবে বেশিরভাগ সময় আড্ডা মারতাম বিউটি বোর্ডিংয়ে। বিউটিতে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই আসত। শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, ফজল শাহাবুদ্দীন, হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফজলে লোহানী, সাইয়িদ আতিকুল্লাহ, সন্ধানীর গাজী শাহাবকারনসহ অনেকেই আসতেন বিউটি বোর্ডিংয়ে।

আমার বাবা কাজ করতেন কো-অপারেটিভ ব্যাংকে। বদলির চাকরি। বাবা যখন ময়মনসিংহে তখনই জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আমি তখন স্কুলে পড়ি। এসএসসি পাস করার পর আমি আর্ট কলেজে ভর্তি হই। আর্ট কলেজ তখন পুরান ঢাকার সদরঘাটে। এখনকার ন্যাশনাল মেডিক্যালের কাছে।

প্রশ্ন : আপনার ছাত্র ধ্রুব এষ কথা প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়েছে, আপনার একটা কাজ ছিল যেখানে নৌকার গলুইয়ে আপনি মাছের চোখ এঁকেছিলেন। এই ছবি দেখে জয়নুল আবেদিন নাকি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। বিষয়টি কি আপনার মনে পড়ছে? নৌকার গলুইয়ে মাছের চোখÑ এই ধারণাটা কোত্থেকে পেয়েছিলেন আপনি?

কাইয়ুম চৌধুরী : কেন, মনে পড়বে না? ধ্রুব এষ তোমাকে পুরোটা বলতে পারেনি ঠিকমতো। নৌকার গলুইয়ে মাছের চোখ বলাতে আমার অনেক কথা পড়ে যাচ্ছে। আমি তখন একটি আর্ট কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়েছি। এখানে সেখানে কাজ করি। কোন চাকরি-বাকরি নেইÑ ফুলটাইম বেকার। তখন তো আর অত ফার্ম-টার্ম ছিল না। হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা। আগেই বলেছি ’৫৪ সালে পাস করে আর্ট কলেজ থেকে বেরিয়েছি। এর মধ্যে জয়নুল আবেদিন স্যার আমাকে ডেকে ১৯৫৮ সালে আর্ট কলেজে আর্ট কলেজে চাকরি দিলেন। সে সময় স্মল কটেজ ইন্ডাস্ট্রির হাত ধরে ডিজাইন সেন্টার তৈরি হলো। কামরুল হাসান তখন ওখানে কাজ করতেন। আবেদিন স্যার চাইলেন ডিজাইন সেন্টার আর্ট কলেজের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে কিন্তু কামরুল ভাই তা চাইলেন না। আবেদিন স্যার আমাকে ডিজাইন সেন্টারে কাজে পাঠালেন কিন্তু আমি সেখানে এক বছরও কাজ করতে পারলাম না। আমার সঙ্গে বনিবনা হলো না। আমি কাজ ছেড়ে দিলাম।

আমি অবজার্ভারের সানডে ম্যাগাজিন আর চিত্রালীর কাজ করতাম। থাকতাম নয়াপল্টনে। আমার বাসা থেকে জয়নুল আবেদিন স্যারের বাসা খুব একটা দূরে নয়। মাঝখানে একটা পুকুর ছিল। পুকুরের এপাড়ে জয়নুল আবেদিন আর ওপাড়ে আমি। তখন রবিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিন হলেই আবেদিন স্যারের বাড়ির সামনে একটা রক ছিল সেখানে জম্পেস আড্ডা জমত। পুকুর ধারে বসে সেসব আড্ডায় যোগ দিতেন মনসুরউদ্দিন (হায়ামনি খ্যাত), কবি জসীম উদ্দীন, কবি সাইয়িদ আতিকুল্লা, কামরুল হাসান, কানাইলাল শীল, ওস্তাদ মমতাজ উদ্দীন অনেকে।

অবজার্ভারের পাশাপাশি আরও দুয়েক জায়গায় টুকটাক কাজ করছি। বাড়িভাড়া, সংসার খরচ, আড্ডার খরচ- সব মিলিয়ে টাকার চিন্তাটা মাথায় ছিলই। একদিন আমি এক রবিবার আবেদিন স্যারের বাসায় গিয়েছি। সেদিন আড্ডায় কেউ আসেননি। স্যার আমার সঙ্গে টুকটাক কথা বললেন- কী করছি খোঁজখবর নিলেন। স্যার জানতেন আমি অবজার্ভারে কাজ করি। এর মধ্যে স্যার হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করে বসলেন, আচ্ছা, আজকে তোমাগো পত্রিকায় একটা ইলাস্ট্রেশন দেখলাম নৌকার গলুইয়ে মাছের চোখ। খুব সুন্দর ছবি তো? কে আঁকছে তুমি জানো?

আমি বললাম, স্যার আমি এঁকেছি-

স্যার তখন বললেন, এই নৌকা তুমি কই দেখ লা?

আমি বললাম, সিলেটে এ ধরনের নৌকা দেখা যায়।

স্যার বললেন, তুমি তো এই রকম গলুইয়ে মাছের চোখের ছবি নিয়া কাজ করতে পারো। দুইটা নৌকা, চারটা মাছের চোখ। তিনটা নৌকা ছয়টা মাছের চোখ নৌকাগুলা যখন পানির স্রোতে আগাইয়া যাইবো তখন পানির কাঁপনে মাছের চোখও দেখবা কেমন কাঁপবো- এইসব নিয়া কাজ করো দেখবা তুমি এর ফল পাইবা।

আবেদিন স্যারের কথায় আমার চোখের সামনে সব পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি তখন দেখলাম, নদীর পানিতে নৌকা ভাসছে। গলুই ভাসছে। গলুইয়ের সামনে মাছের চোখও ভাসছে। নদীতে পানির কাঁপন- সেই কাঁপনে মাছের চোখেও কাঁপনের ধারা। আমার কী হলো স্যারের এ কথার পর আমি আর স্যারের বাসায় থাকলাম না। দ্রুত চলে এলাম নিজের বাসায়। ডিজাইন সেন্টারের চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়াতে পেইন্টিংস করা আমার একরকম বন্ধই ছিল। চাকরির পাশাপাশি দুটো বাড়তি উপার্জনের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে করতে পেইন্টিং করা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। আবেদিন স্যারের কথায় আমার মধ্যে যেন হুঁশ ফিরল। আমি যেন একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম। ঘরে ঢুকেই বউকে বললাম, আমার ইজেল কই? ক্যানভাস কই? আমার এ রকম অস্বাভাবিক আচরণে বউও যেন বা একটু অবাক হলো। সে আমাকে দেখে ভাবল, আরে! লোকটার কী হলো! বাইরে থেকে ঘরে ফিরেই কি না জানতে চাইছে? ইজেল কই? ক্যানভাস কই?

আমার বউ আমার এ রকম অদ্ভুত আচরণ দেখে বলল, তোমার কী হয়েছে?

আবেদিন স্যারের কথায় আমার মাথার মধ্যে কাজ করার উদগ্র বাসনার বিষয়টা জেঁকে বসল। সেদিন ঘরে ফিরে গিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করে দিলাম। আমার সারাদিনের রুটিন বলতে সকালবেলা উঠে অবজার্ভারে যাই কাজ করতে। অবজার্ভার থেকে আড্ডায় না গিয়ে সোজা বাসায় ফিরি- বাসায় ফেরার পথে রায়সাহেববাজার থেকে ঘরের জন্য বাজার করে নিয়ে আসি। বাজার এনে বউয়ের হাতে দিয়ে বলতাম, আমাকে এক কাপ চা দাও। এক কাপ চা খেয়ে সন্ধ্যার আগে আগেই ঘুমিয়ে পড়তাম। রাত ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ভাত খেয়ে ছবি আঁকতে বসতাম। সারারাত কাজ করতাম। ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়তাম। সকাল দশটার দিকে উঠে নাস্তা পানি খেয়ে অফিসে চলে যেতাম। এভাবেই চলতে লাগল আমার দিনকাল।

একদিন আমি আবেদিন স্যারের বাসায় গেলাম। আমাকে পেয়ে তিনি বললেন, কী ব্যাপার রাইতের বেলা তুমি কী এত কাম করো! সারারাইত দেহি তোমার ঘরের বাতি জ্বালাইন্যা। তুমি কি রাইতে ঘুমাও না? আমি রাইত বারোটায় বাথরুমে গেলেও দেহি তোমার ঘরের বাতি জ্বালাইন্যা, রাইত তিনটার সময়ও দেহি একই কারবারÑ ঘটনা কী?

আমি বললাম, স্যার কাজ করি।

আবেদিন স্যার আমার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে আমাকে আরও ভাল করে দেখতে লাগলেন। কিছু বললেন না।

সে সময় ছুটির দিন আমি বউকে নিয়ে কখনও কখনও আজিমপুরে শ্বশুরবাড়ি যেতাম। সারাদিন থেকে রাতেরবেলা খাওয়া-দাওয়া করে অনেক রাতে ঘরে ফিরতাম। একদিন রাত বারোটার দিকে আমার বাসায় দরজায় কে যেন নক করছে। আমি ভাবলাম, এত রাতে আবার কে এলো? দরজা খুলে দেখলাম আবেদিন স্যারের ছোটভাই জোনাবুল ইসলাম দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তাকে দেখে অবাক। বললাম, এত রাতে কী ব্যাপার!

জোনাবুল ইসলাম বললেন, মিয়া ভাই আপনেরে ডাকছে। কী জানি জরুরী কথা আছে।

জোনাবুল ইসলামের কথা শুনে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম। এত রাতে স্যার আমাকে ডাকছেন কেন?

জোনাবুল ইসলামের সঙ্গে আমি রাত বারোটায় আমি স্যারের বাসায় গিয়ে দেখি স্যার লুঙ্গি আর কাঁধে গামছা নিয়ে রকে বসে আছেন। সিগ্রেট টানছেন। পেছনে পুকুর। স্যার আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।

আমি স্যারের কাছে গেলাম। স্যার আমার দিকে এগিয়ে এসে করলেন কী বেশ জোরে আমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, কাইয়ুম তুমি লাহোরে অল পাকিস্তান ন্যাশনাল এক্সিভিশনে ফার্স্ট প্রাইজ পাইছো। ওরা সন্ধ্যার সময় আমারে টেলিগ্রাম কইরা তোমার খবর জানাইছে। সন্ধ্যার থেকা আমি তোমাকে খুঁজতাছি।

সেই রাতে স্যারের থাপ্পড় খেয়ে আমার টনক নড়ল। নৌকার গলুই, মাছের চোখের ছবি এঁকে আমি পুরস্কার পেয়েছি। সেই থেকে আমি আর কখনও বসে থাকিনি। আমি যতেœর সঙ্গে আমার কাজটা করে গেছি। কাজের ক্ষেত্রে কোন আপোস করিনি। এভাবেই কাইয়ুম চৌধুরী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি রোমন্থণ করেছিলেন।

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

২৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: