মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গাইবান্ধায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যাপক সাফল্য

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা ॥ বাংলাদেশ সরকার ও ব্র্যাক যৌথভাবে ১৯৯৩ থেকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালিয়ে গাইবান্ধা জেলায় এই রোগ নির্মূলে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। নিয়মিত ওষুধ খান যক্ষ্মা থেকে মুক্ত হন এই সেøাগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে গাইবান্ধায় যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষ সহজেই এই রোগ থেকে সুস্থ হচ্ছে। জেলার সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত টেংগরজানি ও খোলাবাড়ি গ্রামে গিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। খোলাবাড়ির গৃহবধূ সাদা রানী বেগম অতিদরিদ্র দিনমজুর আমিনুর রহমানের স্ত্রী। দুটি সন্তান নিয়ে তার কষ্টের সংসার। হঠাৎ করে একটানা ৩ সপ্তাহ যাবত প্রচ- কাঁশ এবং জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। অনেক কষ্টে স্থানীয় ডাক্তারের চিকিৎসা করে তার এ অসুখ ভাল হচ্ছিল না। ফলে সে একই গ্রামের ব্র্যাকের সেবিকা মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে পরামর্শ করতে গেলে তিনি তাকে স্থানীয় ব্র্যাক অফিসে গিয়ে নিয়ে কফ এবং রক্ত পরীক্ষা করান। এতে ধরা পড়ে তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। এ খবর জানার পর সে নিজে এবং তার স্বামী ও আত্মীয়-স্বজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতিদিন বিনামূল্যে প্রদত্ত নিয়মিত ওষুধ খেয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। একই অবস্থা টেংগরজানি গ্রামের দরিদ্র কৃষক লাল মিয়ার। সেও মাত্র ৬ মাসে নিয়মিত চিকিৎসায় এখন সুস্থ। জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকের ৯০ জন কর্মসূচী সংগঠক, ৫শ’ ৩৯ জন স্বাস্থ্য কর্মী এবং ৪ হাজার ৯১ জন স্বাস্থ্য সেবিকা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যক্ষ্মা নিরাময়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার সরকারী গাইবান্ধা বক্ষ্যব্যাধি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আধুনিক হাসপাতাল ছাড়াও ব্র্যাকের ১১টি ল্যাবরেটরিতে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে কফ ও রক্ত সংগ্রহ এবং পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ২০১৪ সালে প্রায় সাড়ে ৩০ হাজার সন্দেহজনক যক্ষ্মা রোগীর কফ পরীক্ষা করে ২ হাজার ৫শ’ ৫২ রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ ৮৫ যক্ষ্মা রোগী ডটস্ চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিয়মিত চিকিৎসা করে আরোগ্য লাভ করেছেন।

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

২৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: