কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নৈরাজ্য করতেই খালেদা লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • কঠোর হুঁশিয়ারি আওয়ামী লীগ নেতাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, খালেদা জিয়ার বিশেষ আদালতে হাজিরা কেন্দ্র করে বুধবারের সংঘর্ষ এবং সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসকে প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনা পরিকল্পিত। শাস্তি নিশ্চিত জেনেই খালেদা জিয়া লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই বিএনপি-ছাত্রদলের ওসব সন্ত্রাসী বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের হামলা-নৈরাজ্য অব্যাহত থাকলে বিক্ষুব্ধ হয়ে জনগণ বিএনপি নেতাদের গাড়িতে হামলা করতে পারে। অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভারও বিএনপি নেতাদের বহন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পৃথক সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর বৈঠক থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালির কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। ওদিন সারাদেশের সকল নির্বাচনী এলাকাতেও সমাবেশ ও বিজয়র‌্যালি করবে তারা। বৈঠক থেকে ৫ জানুয়ারিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করা হলে কঠোরহস্তে তা দমন করারও ঘোষণা দেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। আর ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতেও বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।

বিএনপি-জামায়াত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে- শিল্পমন্ত্রী আমু ॥ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোমেন আমু বলেছেন, জনসমর্থন হারিয়ে দিশেহারা বিএনপি-জামায়াত জোট দেশ-জাতির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা নির্বাচিত সরকার উৎখাতের জন্য একের পর এক চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তবে ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপি হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বাচিত সরকারকে কিছুই করতে পারবে না। বিএনপি নেতাদের ডাকে কেউই রাজপথে নামবে না।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট মোহাম্মদপুর থানা শাখার নবনির্বাচিত নেতারা বৃহস্পতিবার তাঁর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তাঁদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জোটের নেতা মোকারক আলী শিকদার, অরুন সরকার রানা, হাবিবুর রহমান হাবু, মোহাম্মদ শাহরিয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ করেই বাঙালী জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

শাস্তি হবে জেনেই পরিকল্পিত এই হামলা- হানিফ ॥ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বুধবারের হামলার জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও এতিমের অর্থ আত্মসাত মামলায় সাজা নিশ্চিত জেনেই খালেদা জিয়া এই মামলার কার্যক্রম বন্ধ ও বাধাগ্রস্ত করতে চান। এ কারণেই তিনি পরিকল্পিতভাবে বিএনপি-ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বকশীবাজার ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় হামলা চালিয়েছেন।

দলীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ^াসের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে বিএনপি এই সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপি নেতাদের গাড়িতেও দেশের মানুষ হামলা চালাতে পারে। তাই বলি, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ করুন। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার আপনাদের ওপরই বর্তাবে। বুধবারের হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ধানম-িস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকে আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ এবং ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচী চূড়ান্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারি বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ শেষে বিজয় র‌্যালি বের করা হবে। আর ১০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দেয়া হবে। ১০ জানুয়ারি কর্মসূচী সফল করতে ঢাকাসহ আশপাশের জেলার নেতাদের নিয়ে একাধিক বর্ধিত সভা করারও সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ জানান, ৫ জানুয়ারির সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালির জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে এবং এই অনুমতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

৫ জানুয়ারি একই স্থানে বিএনপির সমাবেশের কর্মসূচী প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, অন্য দল কী কর্মসূচী নিয়েছে, তা আমাদের জানার বিষয় নয়। আমরা বিএনপিকে নিয়ে ভাবি না, দেশের জনগণকে নিয়ে ভাবি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সন্ত্রাসী তৎপরতা বা জনগণের জানমাল নষ্টের চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

মাহবুবউল আলম হানিফের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের সম্পাদকম-লীর সদস্যদের মধ্যে ডা. দীপু মনি এমপি, এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতাবিরোধীদের সমুচিত জবাব দেব- মায়া ॥ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এনেছি, ক্ষমতায় এসেছি। আর এই স্বাধীনতার মাসে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের সমুচিত জবাব দিতে চাই।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জয়বাংলা মুক্তিযোদ্ধা লীগ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেক রহমানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি নিজামুদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগর নেতা আবদুল হক সবুজ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আরও বলেন, সময় এসেছে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জবাব দেয়ার। আর চুপ করে বসে থাকলে হবে না। স্বাধীনতাবিরোধীদের কতটুকু জোর-ক্ষমতা আমরা দেখতে চাই। তাদের সকল নৈরাজ্যের জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত নাকি ৫ জানুয়ারি ঢাকা শহর দখল করবে! আমি পরিষ্কার ঘোষণা দিতে চাই- এই ঢাকা মুক্তিযোদ্ধা ও শান্তিকামী মানুষের শহর। আলবদর-রাজাকারদের ঢাকা কেন, বাংলাদেশেই জায়গা হবে না। যারা এদের রক্ষা করে (বিএনপি) তাদের ঢাকা শহরে দাঁড়াতে দেয়া হবে না। ওদিন ঢাকা শহর থাকবে শেখ হাসিনার কর্মীদের দখলে।

গু-াবাহিনী নিয়ে আদালতে খালেদা জিয়া- ড. হাছান ॥ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা বুধবার আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা করেছে। মামলার বিচারে শাস্তি হবে জেনেই গু-াবাহিনী নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। এটা বিএনপি-জামায়াতের ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকা-েরই অংশ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ঠিকানা ৭১’ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেক রহমানের কটূক্তি ও বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকা-ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে কৃষক লীগের এমএ করিম, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া যে বাংলাদেশের আইন, সংবিধান, আদালত কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করেন না- বুধবারের ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করেছে। ঢাকা মেডিক্যালের সামনে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা যেভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা করেছে তাতে আবারও প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি ’৭১-এর পরাজিত শক্তির সঙ্গে জোট করে আমাদের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪

২৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: