মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বীরাঙ্গনা: যুদ্ধের নারী

প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪
বীরাঙ্গনা: যুদ্ধের নারী

লন্ডনের ‘কমলা কালেক্টিভ’ সম্প্রতি ঢাকায় মঞ্চস্থ করেছে তাদের ‘দ্য অফি এ্যাওয়ার্ড’ মনোনীত প্রযোজনা ‘বীরাঙ্গনা’। নাটকটি যৌথভাবে লিখেছেন সামিনা লুৎফা এবং লিসা গাজী; নির্দেশনা দিয়েছেন ফিলিজ ওজজান। বীরাঙ্গনা বলতে বোঝায় ‘সাহসী নারী’ কিংবা ‘যুদ্ধের নায়িকা’। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তানী সেনাবাহীনি কর্তৃক নির্যাতিত দুই থেকে চার লাখেরও বেশি নারী ও কিশোরী ধর্ষিত এবং নির্যাতিত হয়; পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেছিল যে, এদের সকলকে পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে বীরাঙ্গনা হিসেবে গণ্য করা হবে। কিন্তু সমাজে ধর্ষণের শিকার নারীদের লজ্জা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অসম্মানের সঙ্গে চিহ্নিত করা হয় তাই মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের ত্যাগ হারিয়ে যায় প্রচলিত ইতিহাস থেকে, আমাদের চেতনা থেকে এবং বর্তমানে তাঁরা আড়ালে ঢাকা পড়েছেন ইতিহাসের, বিজয় উদযাপনের এবং নির্বাসিত হয়েছে স্বাধীনতার মূলধারা থেকে। এভাবেই বিস্মৃতির অতলে চলে যাচ্ছেন বীরাঙ্গনারা কিন্তু লন্ডনের কমলা কালেক্টিভ এই নীরবতাকে ভাঙতে চায়; বীরাঙ্গনা তারই একটা প্রয়াস মাত্র। নাটকটি রচিত হয়েছে সিরাজগঞ্জের বীরাঙ্গনাদের মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে শুনে, উঠে এসেছে তাদের জীবনের গল্প, রূপকথা এবং চাপা আর্তনাদ। নাটকটি আবর্তিত হয়েছে মরিয়ম নামের একজন তরুণী’কে নিয়ে যে তেঁতুল খেতে ভালবাসে, ভালবাসে মায়ের আঁচলের গন্ধ নিতে এবং ভালবাসে তার স্বামীর হাত ধরে থাকতে। ১৯৭১ সালে সারা বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে; বিভীষিকাময় কালবৈশাখী ক্রমশ অগ্রসর হয় গ্রাম থেকে গ্রামে; প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতিদিন মরিয়ম ও তার পরিবার বাড়ির পেছনে পুকুরে লুকিয়ে থাকে কেননা প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও তরুণীরা এমনকি কিশোরীরাও নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে সারাদেশে। একদিন মরিয়ম সেই কালবৈশাখীর ঝড়ে হারিয়ে যায়। নাটকটিতে বীরাঙ্গনাদের সাক্ষাৎকার ব্যবহার করা হয়েছে ভিডিও প্রজেকশানের মাধ্যমে যা নাটকটিকে অনেকাংশে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছ; এছাড়াও ভিডিও এ্যানিমেশনের কাজও চমৎকার। নাটকটিতে একক অভিনয় করেন লিসা গাজী। নাটকটি চমৎকারভাবে ছায়াচিত্রের মাধ্যমে মরিয়েমের বাবা, স্বামী এবং সন্তানের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যাতে অভিনয় করেন অমিত রহমান। নাটকটির আলোক নির্দেশনায় ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আলোক নির্দেশক নাসিরুল হক খোকন এবং শব্দ পরিকল্পনায় ছিলেন আহসান রেজা। লিসা গাজীর সঙ্গীত রচনায় নাটকটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সোহিনী আলম এবং দেলোয়ার হোসাইন দিলু। মঞ্চ পরিকল্পনা, এ্যানিমেশন এবং পোস্টার ডিজাইন করেছেন ক্যাটলিন এ্যাবোট। ‘বীরাঙ্গনা’ এই বছরের মার্চ থেকে নিয়মিত মঞ্চস্থ হয়েছে লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন থিয়েটারে ইংরেজী ভাষায়; বাংলাদেশের দর্শকের জন্য নাটকটির ভাষান্তর করেছেন লিসা গাজী। ‘বীরাঙ্গনা’ নাটকটি কমলা কালেক্টিভের প্রথম প্রযোজনা। নাটকটি আগামী ২৬ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ এবং ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে মঞ্চস্থ হবে। -লেখা ও ছবি আসলাম অরন্য

প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪

২৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: