রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রোমাঞ্চের ভুবনেও রঙিন ম্যারাডোনা!

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪
রোমাঞ্চের ভুবনেও রঙিন ম্যারাডোনা!
  • অতশী আলম

বিদ্রোহী হিসেবেই তাঁর খ্যাতি সমগ্র বিশ্বে। সারাজীবন অন্যায় আর অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিপ্লবী আচরণ দিয়ে তিনি কামিয়েছেন এই খেতাব। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর অসামান্য ফুটবল সত্তাকেই বড় করে দেখা হয়। নাম তাঁর দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। স্বনামেই বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত। ফুটবলারদের মধ্যে সর্বকালের সেরা দু’জনের একজন। ফুটবলের ঈশ্বর ম্যারাডোনার জীবনটা রূপকথার মতো। উত্থান-পতনে পরিপূর্ণ। বুয়েন্স আইরেসের লানুসের ভিয়া ফিয়োরিতোর এক বস্তিতে তাঁর জন্ম ৩০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালে। কারও কাছে তিনি সাক্ষাত নরকের দূত, কারও কাছে ঈশ্বর। যেভাবেই দেখা হোক না কেন, ম্যারাডোনা ছাড়া অপূর্ণই থেকে যাবে ফুটবল। বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে অনেক অনাহুত ঘটনার জন্ম দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। ১৯৯৭ সালে ৩৭তম জন্মদিনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর একযুগ অনেকটাই নিভৃতে ছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালে আর্জেন্টিনার কোচ হয়ে আবারও নিজেকে পাদপ্রদীপদের আলোয় তুলে আনেন। এরপর বিশ্বকাপে ব্যর্থতা এবং বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে কোচ পদে থাকা নিয়ে টানাপড়েনে আর্জেন্টাইন বোর্ডের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবনের কারণে বেশ কয়েকবার ম্যারাডোনার জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়েছিল। এ কারণে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকাকে নিষিদ্ধও হতে হয়। নিষিদ্ধ ড্রাগ সেবনের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছিল ম্যারাডোনার জীবন নিয়ে। দু’বার তো মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে আসেন। ২০০০ ও ২০০৪ সালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবল তারকা। কিন্তু সে যাত্রায় দুই মেয়ে ডালমা ও জিয়ান্নির শুশ্রƒষায় নবজীবন পান। তারপর থেকে আর নিষিদ্ধ জগতে পা রাখেননি। এক প্রকার ভালই চলছিল জীবনের গতিপথ। তবে হঠাৎ করে ২০১২ সালে কিডনিতে অস্ত্রপচার করার কারণে আরেকবার ধাক্কা খেতে হয় আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরকে। এসবের বাইরে ম্যারাডোনার প্রেমিক সত্তাটাও বারবার দেখেছে বিশ্ব। প্রেমে জুড়ি মেলা ভার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকার! সম্প্রতি গুঞ্জন রটে, ফের বিয়ে করতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর। গুঞ্জন আছে একাধিক প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খেয়েছেন ম্যারাডোনা। একেক সময় শোনা যায় একেক জনের নাম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোকিও অলিভিয়ার ও ভেরোনিকা ওজেদার নামই বেশি শোনা গেছে। আবার কখনও কখনও বান্ধবীদের সঙ্গে তুলকালাম কা-ও ঘটিয়েছেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, ওজেদা নন শেষ পর্যন্ত অলিভিয়াকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ম্যারাডোনা। জোর গুঞ্জন, ম্যারাডোনা-অলিভিয়ার বিয়ে হবে জার্মানি। নতুন বছর ২০১৫ সালের মে মাসে। বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে অলিভিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত ম্যারাডোনা। অথচ এই অলিভিয়াকে নিয়ে কত ধরনের ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ফুটবল মহানায়ক। গত অক্টোবরে তো তাঁকে পেটানোর ভিডিও প্রকাশ পায়! একাধিক প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও ম্যারাডোনা এখন পর্যন্ত বিয়ে করেছেন একবারই। সেটা ১৯৮৪ সালের নবেম্বর মাসে। দীর্ঘদিনের বাগদত্তা ক্লডিয়াকে বিয়ে করার পর ঘর আলো করে আসে দুই মেয়ে জিয়ান্নি ও দালমা। ২০০৪ সালে ক্লডিয়ার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও দুই মেয়ের সঙ্গে এখনও ভাল সম্পর্ক ম্যারাডোনার। এবার ৫৪ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা দ্বিতীয় বিয়ে করেন কি-না সেটাই দেখার। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ম্যারাডোনা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অলিভিয়ার সঙ্গে বিয়ের। সেই গুঞ্জনে এখন ডালপালা মেলেছে। ওই সময় সাবেক স্ত্রী ভেরোনিকা ওজেদা ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র আগের দিন বোমা ফাটিয়ে দেন। তিনি দাবি জানান, দ্বিতীয়বারের মতো ম্যারাডোনার সন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছেন তিনি। নতুন প্রেমিকার সঙ্গে বাগদানের আগ মুহূর্তে এমন ঘোষণা মনে হতে পারে বিয়ে ভাঙ্গার অপকৌশল। কিন্তু ওজেদা চ্যালেঞ্জ করেন প্রয়োজনে ম্যারাডোনা ডিএনএ পরীক্ষা করেও দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে ম্যারাডোনার সন্তান সংখ্যা দাঁড়াবে ছয়ে। মোট চার নারীর গর্ভে ইতোমধ্যেই পাঁচ সন্তান জন্ম দিয়েছেন সাবেক এ আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি ফার্নান্দোর জন্ম হয় এবং সেদিনই ওজেদার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন এ কিংবদন্তি। এরপর থেকে অলিভিয়ার সঙ্গে তাঁর মেলামেশা আরও বেড়ে যায়। আলোচিত-সমালোচিত ম্যারাডোনা ২০১১ সাল থেকে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। এক ছাদের নিচে থাকছেন ২৩ বছর বয়সী যুবতী অলিভিয়ার সঙ্গে। অবশেষে দীর্ঘ চার বছর পর অলিভিয়াকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ কিংবদন্তি। গত বছরের ক্রিসমাসে ছুটি কাটাতে বুয়েন্স আয়ার্সে এসেছিলেন ম্যারাডোনা। তখন দেখা করেছেন পুরনো স্ত্রী ওজেদার সঙ্গে। তাঁর গর্ভে ইতোমধ্যেই ম্যারাডোনা পুত্র দিয়াগো ফার্নান্দোর জন্ম হয়েছে। গত বছর দুবাই গিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী ওজেদা। সেখান থেকে ফিরে বুয়েন্স আয়ার্স বিমানবন্দরে তিনি ম্যারাডোনার সন্তানের মা হওয়ার ঘোষণা দেন। ওজেদা সে সময় বলেন, ‘হ্যাঁ আমি আবার সন্তান সম্ভবা এবং দিয়াগো হচ্ছেন এর পিতা।’ ওজেদা জানিয়েছেন মূলত ম্যারাডোনাকে আগত সন্তানের কথা জানাতেই তিনি দুবাই গিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য, খোলা চোখে ওজেদাকে গর্ভবতী বলে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তখন তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ঘোষণা দেন পিতৃত্ব অস্বীকার করতে হলে ম্যারাডোনাকে ডিএনএ টেস্ট দিতে হবে।

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

২৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: