মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভারতকে ঘিরে চীনের সাবমেরিন বলয়

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪
ভারতকে ঘিরে চীনের  সাবমেরিন বলয়
  • এনামুল হক

ভারত মনে করে, চীন তার (ভারতের) চারপাশে সাবমেরিনের একটি ফাঁস বা বলয় রচনার চেষ্টা করছে। এর জন্য ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রে চীনের নাটকীয় প্রবেশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভারত আরও মনে করে যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সাবমেরিন প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভারত মহাসাগরে নিজের নৌশক্তি মোতায়েনের মধ্য দিয়ে চীনের নৌবাহিনীর দাবার ছকে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সন্দ্বীপ উন্নিথান জানান, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দুটো প্রাক্তন চীনা মিং শ্রেণীর সাবমেরিন মোতায়েন করবে। যেসব ঘাঁটিতে এগুলো মোতায়েন করা হবে সেগুলো ভারতের নৌবাহিনীর পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন বহরের ঘাঁটি বিশাখাপত্তম এবং বালাসোরে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাক্ষেত্র থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।

ভারতের আরবসাগর এলাকার ঘটনাবলীও সমান অশুভ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে জানান হয়, ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী দশকে চীনসাগর থেকে পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন মোতায়েনে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সাবমেরিনগুলো চীনের পছন্দের অস্ত্র। এর উদ্দেশ্য ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রের ওপর আধিপত্যের কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করাই শুধু নয়, উপরন্তু ভারতের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতাকেও নস্যাৎ করে দেয়া। এসব ঘটনার পাশাপাশি এ বছর ভারত মহাসাগরে চীনা সাবমেরিনের আবির্ভাব ঘটতে দেখা গেছে। বেজিং দুটি পরমাণু সাবমেরিন ও একটি প্রচলিত সাবমেরিন পাঠিয়েছে। তার মধ্যে দু’টি আবার কলম্বো বন্দরে গিয়ে ভিড়ে। এ ঘটনায় নয়াদিল্লী উদ্বিগ্নবোধ না করে পারেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূ-রাজনীতিতে আগ্রহী কেউই আজ আর বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বকে অস্বীকার করতে পারে না। ভারতের কাছে বঙ্গোপসাগর হলো ‘পূর্বদিকে তাকাও’ নীতির যাত্রামঞ্চ। নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীনে তা আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, ভারতীয় নৌবাহিনী বিশাখাপত্তমের দক্ষিণে রামবিল্লিতে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন বহরের গোপন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করা সত্ত্বেও। বিশাখাপত্তম নৌঘাঁটিতে শক্তিবৃদ্ধি করে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ৭শ’ কিলোমিটার পাল্লার বি-০৫ ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত অরিহন্ত শ্রেণীর সাবমেরিনগুলোকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের সমুদ্রতটের কাছাকাছি এলাকায় টহল দিতে হবে। তবে ডিআরডিও বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার যে কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন করছে সেগুলোর দ্বারা সজ্জিত হলে অরিহন্ত ও সহযোগী সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরের মধ্য থেকেই পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাকিস্তান ও চীন উভয়কে মোকাবেলা করতে এবং এভাবে পাল্টা আঘাত হানার শক্তিশালী ক্ষমতা যোগাতে পারবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশ কক্সবাজারের কাছে কুতুবদিয়া চ্যানেল এবং পশ্চিমবঙ্গের কাছে রাবনাবাদ চ্যানেলে জমি ও ঘের দেয়া জায়গা হুকুমদখল করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, কুতুবদিয়ায় সাবমেরিন লুকিয়ে রাখার জন্য অবরুদ্ধ কংক্রিটের ঘাঁটি গড়ে তোলা হতে পারে। চীনা সাবমেরিনের এই ঘাঁটি ব্যবহারের সম্ভাবনা ভারতের রণকৌশলগত হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ যুগিয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর এক প্রাক্তন ভাইস এডমিরাল কেএন সুশীল বলেন, ভারতীয় সাবমেরিনেগুলো পোতাশ্রয় থেকে বেরিয়ে আসার পর সহজেই সেগুলোর হদিস বের করা যায়। কিন্তু তারচেয়েও ঢের বেশি উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, ভারতের পাল্টা আঘাত হানার নিশ্চিত ক্ষমতাকে বিপন্ন করে তুলতে চীনের সক্ষমতা। এটা প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্যকে কার্যকরভাবে ক্ষুণœ করে।

তবে ২০১০ সালে চীন পাকিস্তানের সঙ্গে যে স্ট্র্যাটেজিক সাবমেরিন প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে সেটা ভারতীয়দের কাছে অধিকতর ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের কারণ। এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী সাগর থেকে পরমাণু অস্ত্রের আঘাত হানতে সক্ষম একটি স্ট্র্যাটেজিক বাহিনীতে পরিণত হবে। চীনের সহায়তায় পাকিস্তান দু’ধরনের সাবমেরিন গড়ে তুলবেÑ এস-২৬ ও এস-৩০। এগুলো তৈরি হবে সাবমেরিন রিবিল্ড কমপ্লেক্সে (এসআরসি)। এই স্থাপনাটি করাচীর পশ্চিমে ওরমারায় গড়ে তোলা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে ধারণা করা হয়, এস-৩০ সাবমেরিনগুলো চীনের কিং শ্রেণীর সাবমেরিনের পুনর্নির্মিত রূপ হবে। এগুলো হলো ৩ হাজার টন ওজনের প্রচলিত সাবমেরিন যা কোনিং টাওয়ার থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার পাল্লার পরমাণু অস্ত্র সজ্জিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারবে। বেলুচিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে তুবরাতে একটি ভিএলএফ স্টেশনের মাধ্যমে এসব সাবমেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হবে। এস-২৬ ও এস-৩০ প্রকল্প দুটি পাকিস্তানের ফরাসী নির্মিত ৫টি সাবমেরিন বহরের শক্তি বাড়িয়ে তুলবে। এতে করে এই সাবমেরিন বহরের ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীর যুদ্ধ জাহাজগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

২৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: