মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের অপরাধ তৎপরতায় সাহায্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪
জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের অপরাধ তৎপরতায় সাহায্য করলে কঠোর ব্যবস্থা
  • কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি ॥ জুনের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধে কারাগারে আটক জঙ্গী ও সন্ত্রাসী সম্পর্কে দেশের সকল কারাগারে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার প্যারেড মাঠে কারা সপ্তাহ ২০১৪-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। তিনি কারারক্ষী থেকে শুরু করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্দেশ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই, আপনাদের মধ্যে কারাগারে বসে দেশে অপরাধ সংগঠনের জন্য জঙ্গী, সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ সহায়তা প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া কেউ আইন-শৃঙ্খলার বাইরে নয়। কারারক্ষীদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। অন্যথায়, কারাগারের মঙ্গলের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। সভ্য দুনিয়ায় কারাগারকে সংশোধনাগার বলা হলেও বাংলাদেশেও তা প্রতিষ্ঠায় নিবিড়ভাবে সকলকে কাজ করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও কারা মহা-পরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন তাকে স্বাগত জানান। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় সংগীতের পর প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানানো হয়। এরপর একটি খোলা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী কারা বিভাগের বিশেষ এ লুকায়িত সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করে কারা অধিদফতর ও সংশ্লিষ্টদের কয়েকবার ধন্যবাদ প্রদান করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করেছে। আবার যেনো জঙ্গীবাদের উত্থান না ঘটে সে ব্যাপারে কারাগারে দায়িত্বরত সকলে সর্বদা সতর্ক থাকুন। আবার যেনো জঙ্গীবাদের উত্থান না ঘটে সেজন্য অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে হবে। জঙ্গীরা যাতে কারাগার থেকে বাইরে যোগাযোগ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে বিষয়েও কারারক্ষীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

কারা বিভাগের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে কারা বিভাগকে আরও যুগোপযোগী করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া জঙ্গী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে কারাগারের ভেতর থেকে জঙ্গী তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে না পারে সেজন্য কারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানান। জঙ্গী, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক মামলার আসামিরা যাতে কারাগারের ভেতরে কোনভাবে মোবাইল ফোন, মাদক বা কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, লাগেজ স্ক্যানার ও বডি স্ক্যানার সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের তথ্যভা-ার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল অপরাধীর তথ্য নিয়ে একটি ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এই ডাটাবেজের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্যের সমন্বয় করে সহজেই অপরাধী বা ভুয়া পরিচয়দানকারীকে শনাক্ত করা যাবে। এ উদ্দেশে কারাগারে আসা বন্দীদের একটি ডেটাবেজ তৈরি করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে কারা প্রশাসন পরিচালনা করছে। তাই আপনাদের কারাগারে আটক অপরাধীদের সর্বদা শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে হবে, যাতে কেউ কারাগারে এসে আরও বড় অপরাধী হয়ে বের না হয়। তাছাড়া কারাগারে আসা বন্দীদের বন্দী হিসাবে না দেখে সমাজের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সমাজের একজন সদস্য কারাগারের পরিবেশের কারণে অপরাধী হয়ে বের হলে সমাজ আরও কলুষিত হবে। তাই তাদের ভাল হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

কারারক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারা বিভাগের প্রতিটি সদস্য বন্দী সংশোধন ও পুনর্বাসনের মহৎ পেশায় নিয়োজিত। এখানে জনকল্যাণে নিজেদের তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পেশাগত জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০০% পারিবারিক রেশন, ৩০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা এবং বেশ কিছু পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও বেতনক্রম বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো কারারক্ষীদের জন্যও রসদ ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ও এর আগে ৮৩ সালসহ কয়েক বার গ্রেফতার হওয়ার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকবার গ্রেফতার হলেও আমাকে জেলে যেতে হয়েছে একবার। তবে ডিজিএফাআইএর টর্চার সেলেও যেতে হয়েছে। তাছাড়া জেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘ বছর আগের। বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সাল থেকে জেল খেটেছে। দেশের জন্য রাজনৈতিক কারণে জীবনের বহুবছর জেলেই কাটাতে হয়েছে তাকে। আর যখনই জেলে যেতেন তিনি তখনই আমি ও আমার মা, ভাই, বোনরা তার সঙ্গে দেখা করতে যেতাম। মনে হয় আজ সে দিনগুলোর কথা। তাছাড়া আমি নিজেও কারাবন্দী ছিলাম। বন্দী অবস্থায় কারারক্ষীদের সুখ-দুঃখের কথা শুনেছি। কারা অফিসার ও সাধারণ কারারক্ষীরা আমার কাছে গিয়ে তাদের দুঃখের কথাগুলো বলতেন। আমি ক্ষমতায় এসে তাদের সমস্যাগুলোর কয়েকটি ইতোমধ্যেই সমাধান করেছি এবং বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

কারা বিভাগের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল বিভাগেরই একটি করে প্রশিক্ষণ একাডেমি রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিতে কোনো প্রশিক্ষণ একাডেমি তৈরি করা হয়নি। তাই কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ঢাকায় একটি কারা স্টাফ কলেজ স্থাপন করা হবে। এছাড়া কারা প্রশাসনের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, বন্দীরা সাজাভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যাতে সমাজে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার সুযোগ পায় সেজন্যে বিভিন্ন কর্মসূচী আমরা গ্রহণ করেছি।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথতুলে ধরে তিনি বলেন, কারা কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় অফিসার্স মেস নির্মাণ করা হয়েছে। কারারক্ষীদের জাতীয় প্যারেডে প্রথমবারের মত অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশকিছু কারাগারে মহিলা কারারক্ষীদের জন্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, কারাগারগুলোতে আত্ম-কর্মসংস্থান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশের বাজার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের পরিসর আরও বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরও নতুন কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী জুনের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এখানকার জমির প্রায় ৯ একর জায়গায় পার্ক স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে। এতে পুরান ঢাকার মানুষসহ দেশের সব নাগরিক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় ৪ নেতা কারা স্মৃতি জাদুঘর’ দেখার সুযোগ পাবে। তাছাড়া কয়েকটি বহুতল ভবন তৈরি করা হবে। কারা বিভাগে দায়িত্বরতদের জন্য একটি কল্যাণ ফান্ড গঠন করা হবে। এতে উক্ত মার্কেটের আয় জমা করা হবে। বিভাগের সকলের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়া কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে প্রায় ২ একর জায়গা জুড়ে একটি বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থাসহ কনভেনশন সেন্টার স্থাপন করা হবে, যেখানে সিনেপ্লেক্স, সুইমিংপুল, জিমন্যাসিয়ামসহ অন্যান্য বিনোদন ব্যবস্থা থাকবে। এ থেকে অর্জিত আয় কারা কর্মকর্তা কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। বাকি অংশে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রাপ্ত কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট-এর অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। উক্ত স্থান হবে পুরান ঢাকার মানুষের তথা ঢাকাবাসীর বিনোদনের ও উপভোগের স্থান।

শেখ হাসিনা জানান, ১০০ বছরের পুরানো, জরাজীর্ণ খুলনা জেলা কারাগারকে সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারকেও আরও বড় পরিসরে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, নাটোর, নীলফামারী এবং নেত্রকোনা জেলায় নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলায় নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম কারাগারের আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ঝুঁকিপূর্ণ পেরিমিটার ওয়ালের স্থলে নতুন পেরিমিটার ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত এক হাজার বন্দীকে বিশেষ বিবেচনায় কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে যাতে তারা সমাজে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি কারা বিভাগকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চায় দেশ এগিয়ে যাক জাতি শিক্ষিত হোক। আর এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তাই আমরা সারাবিশ্বে বিশ্বমন্দা তৈরি হওয়ার পরও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ এ ধরে রেখেছি। গত ৫ বছরে প্রায় ১ কোটি মানুষকে সরকারী ও বেসরকারীভাবে চাকরি প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২৪-এ নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। বৈদেশিক রফতানি থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিএনপি আমল থেকে বৈদেশিক রিজার্ভ থেকে শুরু করে সবদিক দিয়ে ব্যাপকভাবে এগিয়ে রয়েছি। দারিদ্র্যের বর্তমান হার আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন অবশ্যই ১০ শতাংশ কমিয়ে আনব। এ লক্ষ্যেই ২০৪১ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে বর্তমান সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কারা মহাপরিদর্শক অন্য বাহিনীর মতো কারারক্ষীদের জন্যও সাহসিকতা পদক প্রবর্তন ও কারা বিভাগের চলমান প্রয়োজনীয় সকল সমস্যার সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দীর্ঘ ৭ বছর পর ৪র্থ বারের কারা সপ্তাহ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী কারারক্ষীদের নিয়ের আয়োজিত দরবারে উপস্থিত হন। কারাকর্তৃপক্ষ ও দরবারে উপস্থিত কারারক্ষীদের বিভিন্ন দাবিতে ও প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারারক্ষীদের সাহসিকতা প্রদর্শনে আরও উৎসাহিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো আগামী বছর থেকেই ‘সাহসিকতা পদক’ প্রবর্তন করা হবে। তাছাড়া অন্যান্য বাহিনীর মতো কারা অধিদফতরেও তাজা রসদ ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। কারা মহাপরিদর্শকের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারা বিভাগের বর্তমান জনবল সমস্যার সমাধান ও পদ বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে কারা বিভাগকে উন্নত করা হবে। প্রশিক্ষণ একাডেমি ও স্টাফ কলেজ নির্মাণে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কারা সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দরবারে প্রধানমন্ত্রীকে আইজি প্রিজন্স কারা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন এরপর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কারা বিভাগকে আইজি প্রিজন্সের হাতে একটি ক্রেষ্ট তুলে দেয়া হয়। দরবার শেষে প্রধানমন্ত্রী কারাগার প্রাঙ্গণে ৭ বিভাগের কারাগারের কয়েদীদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের কারা মেলা উদ্বোধন করেন ও এসব স্টল ঘুরে দেখেন।

দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’- এই সেøাগান নিয়ে এবার সারাদেশের ৬৮ কারাগারে কারা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। বের করা হয় সারাদেশের সকল কারাগার নিয়ে কারা বার্তা নামের একটি ম্যাগাজিন, বিভিন্ন দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দীদের বিষয়ে কারাগারের কর্মচারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা, কারারক্ষীদের উৎসাহ যোগানো, কারাগারের পরিস্থিতির উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে নাগরিকদের জানানো এবং সার্বিকভাবে সচেতনতা তৈরি এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। এ সপ্তাহ আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। কারা সপ্তাহে কারা কর্মকর্তাদের বার্ষিক সভা, বিশেষ দোয়া মাহফিল, আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ, কারারক্ষীদের বিশেষ প্যারেড, (ড্রেসী প্যারেডের আদলে) কারা মেলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, বন্দীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বন্দীদের প্রীতিভোজ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বন্দীদের নিয়ে বিশেষ দরবারের আয়োজনসহ নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এছাড়া কারাবন্দীদের উন্নয়নে বন্দীদের সঙ্গে স্বাক্ষাতপ্রার্থী আত্মীয়দের সঙ্গে সিনিয়র জেল সুপার ও জেলার ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সপ্তাহব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশের ৭ বিভাগ ও হেডকোয়ার্টাসের সকল ডিআইজি প্রিজন্স, এআইজি সিনিয়র ও জেলসুপারবৃন্দসহ দেশী-বিদেশী আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অর্পিত সকল দায়িত্ব ঠিকমতো পালনের পাশাপাশি কারা সপ্তাহের অনুষ্ঠান পালনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দীন সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন এবং উদ্বোধন শেষে কারা মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

২৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: