আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নাঈম মোহাইমেনের শিল্পযাত্রা

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • এইচ.এস.এম তারিফ

বুকে যদি থাকে দেশ। রহি যেথায়, করি যাহাই, নাম লিখব প্রিয় বাংলাদেশ। তেমনিভাবে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলছেন শিল্পী নাঈম মোহাইমেন। লন্ডনে জন্মগ্রহণ করে মোহাইমেন বড় হয়ে ওঠেন মাতৃভূমি বাংলাদেশেই। নিউইয়র্ক কিংবা ঢাকা তিনি যেখানেই থাকেন প্রতিটি কাজেই বাংলাদেশকে ফুটিয়ে তোলেন। নিউইয়র্কের অবেরলিন কলেজ থেকে অর্থনীতি এবং ইতিহাস বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেন এ শিল্পী। নাঈম মোহাইমেন লেখক এবং চিত্রশিল্পী হিসেবে ঢাকা এবং নিউইয়র্কে সমাদৃত। তিনি রচনা, ফটোগ্রাফি, ফিল্ম এবং মিক্সড মিডিয়ার মাধ্যমে সীমানা, যুদ্ধ, অভিবাসী পরিচয় এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ভীতি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে থাকেন। তাঁর এই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে নিজেকে আলাদাভাবে পরিচিত করতে পেরেছেন। আর সঙ্গে অর্জন করেছে কিছু স্বীকৃতি। যার মধ্যে গুগেনহেইম ফেলোশিপ অব ক্রিয়েটিভ আর্টস (২০১৪), মারিয়ো মের্জ প্রাইজ (২০১৪) ইত্যাদি পুরস্কার অন্যতম। লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা এ শিল্পী পিতৃস্থল পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠেন। পুরান ঢাকার পুরনো বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার আগে জিনিসপত্র গোছানোর সময় নাঈম মোহাইমেন একটি বাক্সের মধ্যে প্রাচীন কিছু ছবির নেগেটিভ খুঁজে পান। ছবিগুলি ১৯৫৩ সালে তার বাবার কেনা প্রথম ক্যামেরা দিয়ে তোলা হয়েছিল। এই বাক্সের বাইরে ঐ ক্যামেরা দিয়ে তোলা কোন ছবি অথবা নেগেটিভ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঐ বছরের মাত্র ছয় বছর আগে ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ তৈরি করেছিল। সেসময় মোহাইমেনের খুঁজে পাওয়া শতাধিক ছবির মাধ্যমে বেশিরভাগই ছিল গৃহস্থালি জিনিসপত্র এবং দৃশ্যের ছবি যার মধ্যে ছিল বিড়াল, পরিবারের সদস্য, নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র এবং ছুটির দিনের বেড়াতে যাওয়ার ছবি। একইসঙ্গে এই ছবিগুলো ঢাকার নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া বিষয়গুলোর সাক্ষী। পরবর্তীতে মোহাইমেন প্রথমে ১২টি নেগেটিভ পছন্দ করেন এবং সেগুলো পুনর্মুদ্রণ করেন। তারপর তিনি সেগুলোতে বেলেপাথরের নমুনায় কল্পনা তৈরি করেন। এর মাধ্যমে ছবিগুলো তাদের ক্রমিক ধারা থেকে আরও বিমূর্ত ধারণার দিকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আরও আটটি নেগেটিভ পছন্দ করেন যার মাধ্যমে তিনি গৃহস্থালি এবং বাইরের জগতের সীমানাকে চিত্রায়িত করেন (যেমন ব্যালকনি এবং গোবরাট), র‌্যানকিন স্ট্রীটের বাড়ির ব্লুপ্রিন্ট দিয়ে ওভারলে করেন, এর মাধ্যমে শিল্পীর বাসগৃহের পরিসীমার একটি অশরীরি মানচিত্র তৈরি হয়। এই ছবিগুলোর এবং শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর পিতার এবং শিল্পীর সঙ্গে সময়ের সম্পর্কের উপরে উপজীব্য একটি ছোট এবং চিন্তাশীল প্রবন্ধফিল্ম আমাদের অতীতের অপুনরুদ্ধারশীলতা, এবং আধুনিকতা এবং জাতীয়তাবাদের আনুষ্ঠানিক ভাষ্যের গঠনে ব্যক্তিগত ইতিহাসের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই সংগ্রহই আজ এক বিশেষ প্রাপ্তির উপলক্ষ হয়ে হাজির হয় এ শিল্পীর নিকট। এই শীতকালটি নাঈম মোহাইমেনের জন্য বিশেষ উত্তেজনার। কারণ তাঁর শিল্পকর্ম দক্ষিণ প্রশান্তীয় অঞ্চলের অন্য খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গে এশিয়া প্যাসিফিক ব্রুয়ারিস ফাউন্ডেশন সিগনেচার আর্ট প্রাইজের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

২৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: