আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এবার অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ৪ কেজি সোনা আটক

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • কৌশল পাল্টেছে ওরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শুল্ক গোয়েন্দাদের কঠোর নজরদারির ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সোনা পাচার এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। একের পর এক বড় বড় চালান সব ধরা পড়ে যাচ্ছে। এতে চোরাকারবারিরা এখন লোকসানের মুখে। তাই চোরাকারবারিদের কাছে এটি আর নিরাপদ নয়। বাধ্য হয়েই কৌশল পাল্টাতে হয়। সে জন্যই নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নেয় তারা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালকে। কিন্তু সোমবার শুল্ক গোয়েন্দারা সেখানেও হানা দিয়ে হাতেনাতে ধরে ফেলে একজনকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চার কেজিরও ওপর সোনা। যার বাজার মূল্য সোয়া দুই কোটি টাকা।

ধরা পড়া যাত্রীর নাম আনিস মিয়া। বয়স তার ত্রিশের কোঠায়। বাড়ি হাটহাজারীতে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে বিমানে আসেন ঢাকায়। গোয়েন্দাদের কাছে ছিল আগাম তথ্য। সেভাবেই ওঁৎপেতে ছিল তারা।

এদিন সকাল দশটায় বিমানের ফ্লাইট নামার সঙ্গে সঙ্গেই অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের গেটেই তার ভাবভঙ্গি দেখে নিশ্চিত হয় শুল্ক সদস্যরা। তাকে আটক করে নিয়ে আসা হয় কাস্টমস হলে। এখানে প্রথমেই খুলা হয় জুতা। তাতে দেখা যায় ছোট ছোট দু’জুতোয় দুটো করে চারটে পুটলি। সেগুলো খুলে দেখা মেলে সোনার বারের। মোট ৩৬টি সোনার বার। কোমরেও কিছু অলঙ্কার। যার ওজন চার কেজি এক শ’ বিরানব্বই গ্রাম।

জিজ্ঞাসাবাদ করলে আনিস জানায়, দুবাই থেকে ওই ফ্লাইট চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে এ সোনা বুঝে নেন। তার দায়িত্ব ছিল ঢাকায় একজনের কাছে এ সোনা বুঝিয়ে দেয়া।

তাহলে দুবাই থেকে কে আনল এ সোনা? সেখান থেকে বিমানের ওই ফ্লাইটে অপর একজন যাত্রী এ সোনা আনে। তার নাম আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। ওই যাত্রী আগে থেকেই আনিসকে দায়িত্ব দেন জে-২৭ নম্বর সিটের নিচে লুকানো থাকবে ওই সোনা। তিনি দুবাই থেকে চট্টগ্রাম নেমে যাবে সেখানে সোনা রেখে। আনিস চট্টগ্রাম থেকে ওই ফ্লাইটে ওঠে ঢাকার আসার সময় ওই সিটের নিচ থেকে সোনা বুঝে নেয়।

শুল্ক গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এটা চোরাচালানের নতুন কৌশল। মূল টার্মিনাল দিয়ে সোনা আনা কমে যায়। তখনই সন্দেহ হয় নতুন কোন রুট তারা ব্যবহার করছে। সে হিসেবেই গোয়েন্দাবৃত্তি করে জানা যায় অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল দিয়ে আসছে সোনার চালান। কারণ সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের নজরদারি কম। এ সুযোগেই চোরাকারবারিরা সেটা বেছে নেয়। গোয়েন্দারাও তাদের পিছু নেয়। তাতেই আনিস ধরা পড়ে। এ সম্পর্কে আনিস জনকণ্ঠকে জানান, এর আগেও তিনি একই কায়দায় সোনার একটি চালান আনেন। দুবাই থেকে আসা যাত্রীকেও তিনি চেনেন। সে নেমে গেছে চট্টগ্রাম। তার দায়িত্ব শুধু চট্টগ্রাম থেকে একটি টিকেট কেটে ওই ফ্লাইট থেকে সোনা নিয়ে ঢাকায় আসা।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনার মূল নায়ককে ধরা হবে। মামলা হয়েছে বিমানবন্দর থানায়।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাতটি সোনার বার ও অলঙ্কারসহ ফরিদ মাতবর (৪০) নামে একজনকে আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রবিবার গভীর রাতে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল থেকে তাকে আটক করা হয়।

মালয়েশিয়া থেকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে আসা ওই যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার জুতার ভেতরে টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১০০ গ্রাম ওজনের ৭টি স্বর্ণের বার ও ৩৪ গ্রাম স্বর্ণের অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

২৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: