রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চসিক নির্বাচনে চতুর্থবার মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন মহিউদ্দিন

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • বিএনপির চমক নোমান!

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আসন্ন নির্বাচনে ইতোপূর্বেকার হ্যাটট্রিক বিজয় মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র পদে লড়বেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। নিজ দল আওয়ামী লীগের সমর্থন এবং বরাবরের মতো নাগরিক কমিটির ব্যানারেই তিনি প্রার্থী হবেন বলে জানান।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী মে-জুন মাসের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান মেয়র মেয়াদ শেষ হবে আগামী জুলাই মাসে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এবং ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে কোন অসুবিধা নেই। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ইতোমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজ সম্পন্ন করেছে।

বিএনপি যদি নির্বাচন বয়কট না করে তাহলে বরাবরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে মেয়র ও কাউন্সিলার পদগুলোতে। মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৪ সালে প্রথম এ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হন। ২০০০ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০০৫ সালে তৃতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হয়ে হ্যাটট্রিক বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন। ২০১০ সালে পুনরায় প্রার্থী হয়ে তাঁরই শিষ্য নামে খ্যাত এম মনজুর আলমের কাছে হেরে যান। মনজুর আলম নিজেও আওয়ামী লীগ মনমানসিকতার ছিলেন। যে কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁকে ১৩ বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ঐ নির্বাচনে মনজুর আলম বিএনপির সমর্থনে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় লাভ করেন।

আগামী নির্বাচনে মনজুর আলম পুনরায় বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করতে তৎপর রয়েছেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে বিএনপিতে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রীতিমতো নাখোশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচীতে যোগদান করা থেকে প্রায়শ বিরত থাকেন। এই ফাঁকে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন পেতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে মাঠে রয়েছেন। এ ধরনের অবস্থা চলতে থাকার প্রেক্ষাপটে এখন বিএনপির পক্ষ থেকে দু’জন নতুন প্রার্থীর নাম আলোচিত হচ্ছে। তাঁরা হলেনÑ সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকার। যদিও এদের কেউই এখনও বলেননি এ পদে নির্বাচন করার কথা। এমনকি তাঁদের কোন তৎপরতাও লক্ষণীয় নয়। তবে বিএনপি যদি এ নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না যদি শেষ পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ আল নোমানকে এ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়।

অপরদিকে আওয়ামী লীগে মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও আ জ ম নাছির উদ্দিন ও আবদুচ ছালাম মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে আ জ ম নাছিরের বক্তব্য পরিষ্কার। দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তিনি তাঁর জন্য মাঠে থাকবেন। এক্ষেত্রে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি মনোনয়ন পেলে তাঁর জন্য কাজ করে যাবেন। তবে বিকল্প কাউকে ভাবলে সেক্ষেত্রে তিনি এক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে চলে যাবেন।

দীর্ঘদিন নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে নীরব থাকার পর মহিউদ্দিন চৌধুরী সোমবার মুখ খুলেছেন। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ক্যাম্পাসের তার কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভাকাক্সক্ষীদের আগ্রহ এবং চট্টগ্রামের জন্য আগামীতে কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক্ষেত্রে দলের মনোনয়ন অবশ্যই তিনি পাবেন বলে মনে করছেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাও গেল মাসে চট্টগ্রামে এসে বলে গেছেন সর্বসম্মতভাবে দলের পক্ষ থেকে যার নাম প্রস্তাব করা হবে তিনিই এ পদের জন্য মনোনয়ন পাবেন। উল্লেখ্য, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, আ জ ম নাছির সাধারণ সম্পাদক। দুইজনে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলের জন্য কাজ করছেন। কোন ধরনের গ্রুপিং বা বৈরিতা নেই। মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দলীয় হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবে তার প্রতি সমর্থন অবাধ থাকবে বলে আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। অপরদিকে আবদুচ ছালাম নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মনোনীত হয়ে আছেন। একজন সরকারী চাকুরে হিসেবে তিনি যেভাবে পরোক্ষভাবে মেয়র নির্বাচনের জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তৎপরতা চালাচ্ছেন তা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাকে সাবধান করে পত্রও দেয়া হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তে এ পত্র দেয়া হয়েছে গত মাসে। এরপরও কিন্তু আবদুচ ছালাম থেমে নেই। তার ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন, তিনি প্রার্থী হতে যেমন ইচ্ছুক, তেমনি মনোনয়ন লাভের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত বলে জানিয়ে থাকেন। তার এই বক্তব্য বিশ্বাস করেন না দলের নেতাকর্মীরা। সোমবার মহিউদ্দিন চৌধুরী পুনঃপ্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে মুখ খোলার পর এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তাই এখন দেখার বিষয় বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিমত।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

২৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: