মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সৈয়দ কায়সারের মামলার রায় আজ

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার
  • গণহত্যা লুটপাটসহ ১৬ অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। তাকে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, আটক, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ১৬টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের পঞ্চম সাক্ষী মোঃ নুরুল হক ওরফে লাল মিয়া জবাবন্দীতে বলেছেন, হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকাররা সতীশ চন্দ্র ঘোষসহ ৮ জনকে গুলি করে হত্যা করে। আসামির জবানবন্দী শেষে জেরার জন্য বুধবার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

আজ মঙ্গলবার মানবতাবিরাধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সাবেক কৃষিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমাবর এ দিন নির্ধারণ করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ১৩টি মামলায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন দ- প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সৈয়দ কায়সারের মামলার রায়টি হবে ট্রাইব্যুনালের ১৪তম রায়। আর ট্রাইব্যুনাল-২ এ এটি হবে অষ্টম রায়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর আগে রায় প্রদান করেছেন ছয়টি।

এদিকে কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তিতর্ক উপস্থানকালে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতা হয়ে বীরাঙ্গনা মায়ের গর্ভে জন্ম নেয়া ওই যুদ্ধশিশু ও দুই বীরাঙ্গনাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। ওই যুদ্ধশিশু দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাক্ষ্য দেন কায়সারের যুদ্ধাপরাধ মামলায়।

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু হয় ২০১২ সালের ২৮ মার্চ। তদন্ত সংস্থা তদন্ত শেষ করেন ২০১৩ সালের ১৫ মে। একই বছরের ১৫ মে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয। ২০১৩ সালের ২১ মে এ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে কায়সারকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর ২২ মে জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ৩০ জুলাই শর্তসাপেক্ষে জামিন পান। ওই বছরের ১০ নবেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ-নির্যাতনসহ ১৬টি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ৪ মার্চ সূচনা বক্তব্য শুরু করেন প্রসিকিউশন পক্ষ। ৯ মার্চ থেকে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হয়। ২৩ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ৭ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামি পক্ষ ও প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের ২০ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হয়। একই দিন আসামিকে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে ট্রাইব্যুনাল।

কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, রানা দাশগুপ্ত ও তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে কায়সারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তাঁর সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আব্দুস সোবহান তরফদার। গত ৯ মার্চ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মনোয়ারা বেগমসহ রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষী। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

২৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: