হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নগর জীবনে শীত

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর ২০১৪
নগর জীবনে শীত
  • রেজা ফারুক

প্রকৃতি এখন শীতে ম্লান, জবুথবু। আবহমান বাংলার চিরায়ত বৈচিত্রময় প্রকৃতির যে মায়াবি আবেশ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রটি নানা ভাবে স্পর্শ করে যায়- সেই প্রকৃতির আবহের হাত ধরেই প্রতিদিনকার কাজকর্ম, চলাফেরায় আসে বহুমাত্রিক ছন্দ। যদিও জীবনের এই ছন্দের গহনে রয়েছে এক অনন্তকালীন ধারাবাহিকতা। তারপরেও সেই ধারাবাহিকতাকে ছাপিয়ে জীবনের প্রতিটি স্পন্দনে বেজে ওঠে নতুন সুরের মূর্ছনা। বিশেষত বাঙালির জীবন এই রঙবেরঙের ঘূর্নায়মান ঋতু বৈচিত্রের স্বাদ এক ভিন্ন আনন্দকে ছড়িয়ে দিয়ে যায়। আর এই স্বাদ শুধু জীবন যাপনে নয় সবকিছুকেই ছুঁয়ে যায় নিবিড় ভাবে। বাংলার আদিগন্তে রয়েছে মনভুলানো প্রকৃতির বর্ণিল ছোঁয়া। যে ছোঁয়া সবুজ শ্যামল স্নিগ্ধ নিসর্গের অবগাহনে সিক্ত করে তোলে জীবনের প্রতিটি প্রহর। হেমন্তের নতুন ধানের সুগন্ধি কাঁঠালিচাপার গাছের ছায়ায় যখোন শীতের কিশোর এসে বকুল ফুলের মালা হাতে দাঁড়ায়। তখোন প্রকৃতির রূপটা ও থাকে যেনো সেই শীতের কিশোরের বুক পকেটে ভাঁজ করা রুমালের মতোই। যখোন হেমন্ত-শীতের আঁজলায় ফিকে রোদের ঝালর ফোটা বিকেলটাকে তুলে নেয়। তখোনই শীতের কিশোর তার কুয়াশাডোবা রুমালের ভাঁজ খুলে শীতটাকে বিছিয়ে দেয় গ্রাম বাংলার ধূ ধূ মাঠ আর নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার সময়ের রোজকার এক চিলতে অবসরজায়গা ক্ষনে। চারদেিক শুরু হয় শীতকে বরণ করে নেয়ার এক মহা উৎসব একদিকে ভাঁপা, পুলি, নকশি, চিতই, বিবি সাহেব সহ অভিজাত নানা পদের পিঠা এবং সুগন্ধ চালের পায়েশ আর ক্ষীর। অন্যদিকে বদলে যায় জীবনের ধরণ। পাল্টে যায় প্রতিটা মানুষের জীবনাচার।

শীতের আনন্দ যেমন আছে- তেমনি আছে কষ্টও। এই আনন্দ আর কষ্টের আপ্ট্্েরনে করে এসেই যেনো বাংলার শুস্ক নদী, খাল, বিল, জলাশয়, ধূসর মাঠেমাঠে। হলদে সর্শের ক্ষেতে ধল বকের মতো নামে শীথ। আর বদলে যাবে প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত। বাড়ির লনে সন্ধ্যায় আলো জ্বেলে শুরু হয় ব্যাডমিন্টন আর টেনিস খেলার ধুম। পাশাপাশি গ্রামে গঞ্জে পৌষমেলা থেকে শুরু করে যাত্রাপালা, নাটক সহ নান ধরনের গ্রাম্য উৎসবে ছেয়ে যায় সারা বাংলার মাঠ-প্রান্তর। বৃষ্টি বাদলের ঝক্কি না থাকায় অনেকে আবার এই শীতেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনে কেউবা একা, কেউবা সপরিবারে শীত বিহারে গেলেই চোখে পড়ে নানা প্রজাতির অতিথি পাখিদের। গ্রামে খেজুরের রস আর খেজুরের গুরের ক্ষীরের ঘ্রাণ-সৃসি।ট করে এক ভিন্ন প্রেক্ষিতে ভিন্ন মাত্রা। শীতের নিবিড় সান্নিধ্য-উপভোগ করতে কেউবা দূর পাহাড় কিংবা প্রহরই এক নতুন সিস্ফনিতে গুঞ্জরিত হয়। এই গুঞ্জরনে উদ্বেলিত হয় কবিতার ক্রিসেন্থিমাম। কাব্যগাঁথায় গ্রন্থিত হয় সাহিত্যের থোকা থোকা শব্দগুচ্ছ। শীতে যেমন প্রকৃতির আদলটা বদলে যায়। একই ভাবে ঋতু পিয়ানোর ঝংকারের মতো স্পন্দিত হয় হৃৎস্পন্দন। আর হৃদয়ের ঝাপসা বন্দরে ভিড়ে এসে দূরাগত কুয়াশাভারানত নিঝুম স্টিমার।

দিগন্তের জঙ্শনে যখোন এসে থামে শীতের কুজঝটিকা বোঝাই লেট্ট্রেন। তখোন ওই কম্পার্টমেন্টের ভেন্টিলেটর থেকে থেকে সাই করে দূরে উড়াল দ্যায় ফেব্রিকোর মতো নরোম খয়েরি ফারফোট পরা চঞ্চল শালিক জুটি। ফুটি ফুটি রৌদ্রের বাস্কেট ভরে ওঠে মাইনাস জিরো আওয়ারের অনুষ্ণ হাওয়ার কুচি। শিকারি পাখিঅলা এক শীতের দুপুরে মতিঝিলের ভিড় ভাট্রায় ফুরিয়ে যাবে জলেশ্বরীর রেশমী বালিহাঁসগুলোকে আকাশে উড়িয়েদিয়ে। গগনে মের্ঘাত বিকেল নিভে আসার আগে এক ঝলক ঝিলিক দিয়েই মিলিয়ে যায় সন্ধ্যা তারার বনে।

অরণ্যে তখোন শীতার্ত সম্বেেরর মিহিন পদশব্দে জেগে ওঠে ঝরা শিশিরভেজাপাতা আর বন মোরগের লাল ঝুঁটির মুকুটে নড়ে চড়ে বসে ইস্পাত নীল জ্যোস্না ফরেষ্ট বাংলোর গহন পোর্টিকোতে কয়েখ পশ্লা দেবদারুর ছায়ারা বসে মেতে ওঠে সান্ধ্য কফির আড্ডায় আর অদূরে চন্দ্রতপ পাহাড়ের চূড়োয় মহুয়ার ডালে বসে থেকে ডেকে ওঠে রাত জাগা নিশুতি হরিয়াল। শীতের অরণ্য এমনই এক আবহে আবৃত হয়ে থাকে।

ডাকে ধুলোডোবা মন। শীত আসে জুরিগাড়ি করে। বাদামী ঘোড়ার কেশরের শীত আসে চরাচরে। কবিতায়, পল্পে চিত্রকলায় কখনো জলরঙে কিংবা তেলরঙেও আসে শীত।অ্যাব্স্ট্রাক্ট ছবির মতো শীত এসে নিজেই যেনো এক প্রস্ত ব্রাশেরটানে বোগেনভিলিয়ার মতো ফুটে ওঠে মফস্বল শহরের কোনো শীতকাতুরে কিশোরীর কার্ডিগানে। কখনোবা বা মীর্জা গালিবের বিনম্ভ গ্রজলের মতো শীত এসে বসে নির্জন রাত্রির তাকিয়ায় হেলান দিয়ে।

রোঁয়া ঝরা শীতের সকালগুলো ভীষণ স্মার্ট লাগে। লাগে যেনো নিদারুন ধোপ্দুরন্ত। যেনো পেভ্মেন্টের কিনারে ধূলোর জার্সি পরে এক পশলা ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তরুণ পথতরু। আর সারাদিন ধরে ধুলোযোবা আইল্যান্পের শ্যাডে বসে এক সুনসান তারা গাইছে গুণ গুণ চন্দ্রহারা গান। কলতানহীন শীতের ধূসর জাম্পার পরা শীতরে বিকেলগুলি ভেসে যায় বজ্রার মতো। ঘাসে ঘাসে ফোটে শিশির কনার মতো শীতফুল-জোটে কুয়াশার মতো জমাট কিশোরের দল লাটিম আর হ্মি ঠান্ডা মার্বেলে।

ফ্যাশেনের ছোঁয়া : কিন্তু নগর জীবনে শীতের আবহটা একটু ভিন্ন আদলে উদ্ভাসিতহয়। পোশাকে ও আসে বিপুল পরিবর্তন। অবশ্যই গরম কাপড়বি হলো শীতের পোশাক পড়ে শাড়ি, কার্ডি গান, শাল, ব্লেজার, স্যুট, সুয়েটার ছাড়া কি ফ্যাশনেবল শীতকে উপভোগও হয়। তাই শীতে ড্রেসেও চাই নতুনত্ব।

মডেল : ডেভিড, রুমি নোভিয়া ও এ্যানি

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর ২০১৪

২২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: