কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নৌবাহিনী নতুন যুগে প্রবেশ করেছে ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর ২০১৪
নৌবাহিনী নতুন যুগে প্রবেশ করেছে ॥ প্রধানমন্ত্রী
  • নতুন জাহাজ, হেলিকপ্টার, পেট্রোল এয়ারক্রাফট সংযোজন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সময়ের পরিক্রমায় ছোট্ট নৌবাহিনী আজ একটি মর্যাদাশীল নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্ধিত সমুদ্রসীমা ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় এ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইতোমধ্যেই নৌবাহিনীকে একটি কার্যকর ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। দেশ রক্ষার মহান ব্রতে আত্মনিয়োগ করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে তিনি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা এখন আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন ‘বায়ার নেভি’ থেকে ‘বিল্ডার নেভিতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রবিবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে শীতকালীন কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এদিন তিনি ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০১৪/বি এবং মিডশিপম্যান ২০১৩/এ ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, নৌ সদর দফতরের পিএসওগণ, তিন বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডারবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নৌ কমান্ডোসহ দেশী-বিদেশী কূটনীতিক এবং শিক্ষা সমাপনী ব্যাচের মিডশিপম্যানদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এ মহান দায়িত্ব পালনে নারীদের অংশগ্রহণ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নিঃসন্দেহে এ অগ্রযাত্রা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে দেশের নারী সমাজকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে। ১৯৭১-এ নৌ সেনাদের ভূমিকা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পরিচালিত ‘অপারেশন জ্যাকপট’ বাঙালীর স্বাধীনতা অর্জনে বয়ে আনে অসামান্য সাফল্য। নৌবাহিনীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ভারত থেকে সংগৃহীত দুটি পেট্রোলক্রাফট ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ এবং ৪৯ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটিসমূহ একযোগে কমিশন্ড করেন এবং বিএনএস ঈশা খাঁকে প্রথম ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনী এখন একটি মর্যাদাশীল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সুপরিচিতি লাভ করেছে। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র এলাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সুরাহা হয়েছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে আমরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারে সার্বভৌমত্ব অর্জন করি। এই বঙ্গোপসাগরে রয়েছে তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনাময় বিশাল ভা-ার। বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার আমলে অতি স্বল্প সময়ে ১৬টি জাহাজ সংযোজিত হয়েছে। দুটি হেলিকপ্টার ও দুটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২০১৬ সালের মধ্যেই নৌবাহিনীতে সাবমেরিন সংযোজিত হবে। একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে অত্যাধুনিক দুটি করভেট গণচীনে নির্মাণাধীন রয়েছে। আগামী বছর এগুলো নৌবহরে যুক্ত হবে। তাছাড়া বর্তমানে আমরা আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছি। নৌবাহিনীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ড এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসে নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ‘বায়ার নেভি’ থেকে ‘বিল্ডার নেভিতে’ রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের আমলে দেশের নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৬ সালের ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বর্তমানে ২২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৬৩০ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২শ’ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বহু ফ্লাইওভার, সেতু ও নতুন সড়ক নির্মাণ করেছি। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। নিজস্ব তহবিলে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলায় ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এসব কেন্দ্র থেকে ২শ’রও বেশি বিষয়ে সেবা পাচ্ছেন। ২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ১২ হাজার ৯৬৬ পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশে সাড়ে ৩২ কোটিরও বেশি পুস্তক বিতরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা প্রাথমিক থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত ১ কোটি ৪৭ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি, যার প্রায় ৭৫ শতাংশই নারী শিক্ষার্থী। নৌবাহিনীর সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারাই হবেন এই ঐতিহ্যবাহী নৌবাহিনীর ভবিষ্যত কর্ণধার। নৌবাহিনী তথা দেশের স্বার্থকে ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে স্থান দিতে হবে। এমন কোন কাজ আপনারা কখনই করবেন না, যা নৌবাহিনীর মান ও ঐতিহ্যকে ক্ষুণœ করে।

শীতকালীন এ কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে নৌবাহিনীর ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ব্যাচের ১৩ জন, মিডশিপম্যান ব্যাচের ৬০ জনসহ মোট ৭৩ জন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। তন্মধ্যে একজন শ্রীলঙ্কান মিডশিপম্যান রয়েছেন। ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২১৪/বি ব্যাচ হতে এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট ফারজানা জেসমিন বিএনভিআর শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘শহীদ মোয়াজ্জেম পদক’ লাভ করেন। অপরদিকে, ২১৩/এ ব্যাচ হতে মিডশিপম্যান কেএম মোরশেদ আল আসেফ সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করে ‘সোর্ড অব অর্নার’ লাভ করেন। এছাড়া পেশাগত ও শিক্ষাগত বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে মিডশিপম্যান এম রাকিবুল হাসান ‘ওসমানী স্বর্ণপদক’ এবং মিডশিপম্যান মোসাম্মৎ ফাতেমা আক্তার রোয়াইদা ‘নৌপ্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

প্রকাশিত : ২২ ডিসেম্বর ২০১৪

২২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: