মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অমর একুশে

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • ক্যাম্পাস ভাস্কর্য

প্রধান ফটক দিয়ে সামনের দিকে এগোতেই রাস্তার বাম পাশে সবুজ ঘাসে ঘেরা ইটের বেড়ি। দু’হাত উঁচুবেড়ির ওপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে নির্ভীক সৈনিক। পাশেই সাহসী মায়ের আঁচল ভেঙ্গে পড়ছে আন্দোলনে আহত সন্তান। বাঙালী জাতির গৌরবময় ঐতিহ্য বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে এমনিভাবে কংক্রিটের শরীরে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যটিতে। স্তম্ভসহ ৩৪ ফুট উচ্চতার এ ভাস্কর্যটিতে শিল্পী জাহানারা পারভীনের সুনিপুণ শিল্পকার্য ফুটে উঠেছে। চুনাপাথর, সিমেন্ট, ব্ল্যাক আইড, বালি, মডেলিং ক্লে প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়েছে ভাস্কর্যটি নির্মাণে। ১৯৯১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।

সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে এ ভাস্কর্যটি হাজারো শিক্ষার্থীকে মনে করে দেয় শোকবিহ্বলতা, বেদনা আর আত্মত্যাগের অহঙ্কারে দেদীপ্যমান ভাষা আন্দোলনের সেই শপথের কথা। মনে করে দেয় যুগে যুগে বাঙালীর মহান মুক্তিযুদ্ধে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আলোকবর্তিকার মতো মূর্ত হয়ে ওঠা ভাষা আন্দোলনের কথা। মনে করে দেয় তাঁদের রক্তেই মুক্ত হয়েছিল দুঃখিনী বর্ণমালা, মায়ের ভাষা।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রিয় জায়গা এই অমর একুশের চত্বর। মাঝে মাঝে সমাবেশে মানুষের ঢল নামে এর পাদদেশে। নানা উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুও হয়ে ওঠে এ চত্বর। প্রধান রাস্তার পাশে হওয়ায় মানুষের পদচারণায় সর্বদা মুখর থাকে এ অমর একুশে চত্বর। বিশ^বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আসা মানুষ এবং দর্শনার্থীদের প্রথমেই চেখে পড়ে ভাস্কর্যটি। অনেকই কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে দেখে তার অপরূপ শিল্পকার্য। ভাস্কর্যটি শিক্ষা দেয় মাথা নিচু নয়, বরং মাথা উঁচু করেই মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার। জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অধিকার আদায়ের, আর যাবতীয় গোঁড়ামি-সঙ্কীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিক্ষা দেয় ভাস্কর্যটি। জানিয়ে দেয় ভাষা আন্দোলন প্রতিটি ক্রান্তিকালে বাঙালীর হৃদয়ে ধ্বনিত করে তুলেছিল তেজোদীপ্ত বিদ্রোহের সুর। বিকেলে আড্ডার আসর বসে অমর একুশের পাদদেশে। গল্পের ছড়াছড়ি আর ছেলেমেয়েদের হৈ-হুল্লোড় মাতিয়ে ওঠে এর চত্বর। রাত পর্যন্ত থাকে আড্ডার আসর। মায়ের ভাষায় কথা বলা বাংলার দামাল ছেলেদের আনন্দ-উল্লাসে হয়তোবা শান্তি খুঁজে পায় রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর আর জব্বারদের আত্মা। ভাস্কর্যটির মাধ্যমে আমরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে লালন করে থাকি। কিন্তু গৌরবময় ইতিহাসের বিরল এ সাক্ষ্যটি আজ অযতেœ পড়ে আছে। প্রায় দুই বছর আগে ভাস্কর্যটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। সংস্কারে উদ্যোগ না নেয়ায় ভেঙ্গে পড়ছে শরীরের কংক্রিটের অংশগুলো বলছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম। তারপরেও রাতে চাঁদের হাল্কা আলোতে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ধারণ করে ভাস্কর্যটি। সবুজে ঘেরা এ ক্যাম্পাসের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি আকৃষ্ট করে যাচ্ছে দর্শনার্থীদের আর হাজারো মানুষকে উদ্বুুদ্ধ করে যাচ্ছে মাতৃভাষাকে রক্ষার সেই রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে।

জুনাইদ আহম্মেদ

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

২১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: