আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জিয়া ধর্মের রাজনীতি এনে দেশকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সেমিনারে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেছেন, ৭৫-এর পরে জিয়াউর রহমান এদেশে ধর্মের রাজনীতি এনেছেন। দেশকে প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জিয়ার মতে বাঙালী জাতি ৪৭-এর দ্বিজাতি তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। আমরা বলি বাঙালী জাতি ’৭১-এর সঙ্গে যুক্ত। মূলত ’৭১ বাঙালী জাতির দ্রোহের একটি মাইলফলক।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সোশ্যাল এ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ আয়োজিত ‘মানবপন্থী বাংলাদেশ: পথের বাধা পথের সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।

মুনতাসীর মামুন বলেন, সমন্বয়ের রাষ্ট্র গঠনে দ্রোহ একটি উপাদান। সামরিক শাসনের সময় আমরা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারি না। অথচ ৫০-এর দশকে যাঁরা সাহিত্য ও দেশ গঠনে কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে দ্রোহ কাজ করেছে। ’৭১-এর পূর্ব পর্যন্ত এদেশে সবাই ধর্ম প্রচার করেছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মের অতি ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১০০ নম্বরের ধর্মের পরীক্ষা নেয়ার চেয়ে ১০০ নম্বরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ওপর পরীক্ষা নেয়া উচিত। ধর্ম নিয়ে হানাহানি দূর করতে হবে। ধর্ম কখনও জাতীয়তা সৃষ্টি করতে পারে না, শুধুমাত্র আধিপত্য বজায় রাখতে জানে। লিখিত প্রবন্ধে বলা হয়, বাঙালী জাতি দ্রোহের জাতি। দীর্ঘকাল ধরে সকল বাঙালী একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সমাজে অন্যায়-অন্ধকার দেখা দিলেই তারা হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী ও সোচ্চার। ইংরেজ ও পাকীদের হটিয়ে দেয়া তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ধর্ম ও বাঙালী জাতি সত্তা পরস্পরকে খারিজ করে না, তাদের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণœ রেখেই সহাবস্থান সম্ভব যা গভীর অন্বেষণ ও মুক্ত আলোচনার বিষয়। সমন্বয়পন্থী ভাবধারায় ধর্ম ও বিজ্ঞান উভয়কে নিয়েই পথ চলতে হবে। ধর্মকে পুঁজী করে ধর্মের ব্যবসা ও ধর্মীয় গোঁড়ামি বন্ধ করতে সকলকে আরও সুচিন্তিত লক্ষ্যে এগুনো উচিত। অসাম্প্রদায়িক ও জঙ্গীমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দীর্ঘদিনের ইতিহাসের শিক্ষণীয় সবার উপরে মানুষ সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার ওপর জোর দেয়া হয় মূল প্রবন্ধে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, দেশের উন্নয়ন নিয়ে আমি একটুও হতাশ নই। আমি প্রতি মুহূর্তে স্বপ্ন দেখি। ধর্মীয়ভাবে ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি পাঁচটি হলেও কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকে মূল ভিত্তি ইমানের পরিবর্তে জিহাদ বসিয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় বইতো ধর্মের লোকেরাই লেখেন। ইমান নেই বলেই তাঁরা ইমানের পরিবর্তে জিহাদ সংযুক্ত করেছেন।

ঢাবির চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের দেশে রেমিটেন্স আসছে, অর্থনৈতিকভাবে আমরা উপকৃতও হচ্ছি। কিন্তু ধর্মীয়ভাবে এর একটি প্রভাব রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবার-পরিজনকে এক্ষেত্রে সজাগ থাকতে হবে।

কবি সৈয়দ শামসুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিক উল্লাহ খান।

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

২১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: