রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অপরাধীচক্রের দৌরাত্ম্য কমেছে গাজীপুরে

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪
  • দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চলে চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর ॥ দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল জেলা হিসেবে খ্যাত গাজীপুরে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুসহ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে অপরাধীচক্রের একাধিক রাঘব বোয়াল পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। পুলিশের এ কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে জেলায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ভৌগোলিকভাবেই অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমির কারণে রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী উত্তরের জেলা গাজীপুর বন্যা প্রবলমুক্ত এলাকা হওয়ায় এ জেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা, ব্যবসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম এ তিনদিকে নদী ও অপেক্ষাকৃত নিচু ভূমি হওয়ার কারণে সেদিকে উন্নয়নের সম্প্রসারণ না হওয়ায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গাজীপুর জেলা। তাই গত কয়েক বছরে এখানকার লোকসংখ্যা এবং জমির মূল্যও বেড়েছে কয়েকগুণ। আর এ কারণেই মাদক ব্যবসা, জমি জবর দখল, খুন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীর ঘটনাও প্রায়শ ঘটছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পপতি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভূমিদস্যু চক্র গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়দের প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোন কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ক্রয় বা ভাড়া নেয়ার কথা বলে শুধু বায়না করেই জমি দখলে নিয়ে নেন। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই তারা পার্শ্ববর্তী সরকারী বা অন্যের জমিসহ দখলে নেন। এরপর বছরের পর বছর পার হলেও জমির মালিককে মূল্য পরিশোধ করেন না বা জমিও ফেরত দেন না। একপর্যায়ে দখলদাররা স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখায়। ফলে জমির প্রকৃত মালিক অসহায় হয়ে পড়েন। এসব অসহায় মালিকদের অনেকেই বড় বড় শিল্প কারখানার মালিক ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করতেও সাহস পান না।

আবার উল্টো ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় এখানে জমি কিনে জালিয়াত চক্রের কবলে পড়ে থাকেন সাধারণ মানুষও। অভিযোগ রয়েছে, এখানে একই জমি একাধিক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা, ভুয়া দলিল বানিয়ে জমির দখল নেয়া ইত্যাদি নানা ধরনের অপরাধ সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা করছে। পরিস্থিতি ঘটছে এখানকার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করেও। ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের হাতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর রশীদ এসব বিষয়ে জানান, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর এসব অপরাধ সম্পর্কে জানতে পেরে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সরাসরি অথবা গোপনে অভিযোগ শোনার ব্যবস্থাও করেন তিনি। ফলে জনগণের মধ্যে এক প্রকার আস্থা ফিরে আসে। তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি দেখতে পান, ভূমিদস্যুরা বেশ প্রভাবশালী। প্রচুর অর্থবিত্তের মালিকও তারা। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিরীহ প্রকৃতির। এ অবস্থায় প্রভাবশালী আর নিরীহ বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপটি নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ফলে অপরাধীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ জন্য তার বিরুদ্ধেও চক্রগুলো উঠেপড়ে লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। জেলার ঝুট সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, মহাসড়কে যানজট, পতিতাবৃতি অপরাধ দমনেও তিনি বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা, মাওনা ও চন্দ্রা মোড়ে যানজট নিরসনে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অধিকতর কার্যকর করা হয়েছে। ঢাকা বাইপাস সড়কের ভোগড়ায় ওয়াচ টাওয়ার, চন্দ্রা মোড়ে যাত্রীদের বিশ্রামাগার ইত্যাদি নির্মাণের কারণে জনগণ সুফল পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিনের জঞ্জালপূর্ণ গাজীপুরকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ভূমিমুক্ত পরিচ্ছন্ন এবং জনবান্ধব একটি জেলা হিসেবে গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

গাজীপুরের ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদ বলেন, গোটা গাজীপুর জেলা দীর্ঘদিন ধরে জঞ্জালপূর্ণ একটি জনপদ। বর্তমান পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। এখনকার ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, ঝুট ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধাভোগীদের কবল থেকে সাধারণ মানুষ এখন অনেকটাই রেহাই পেয়েছেন। তিনি বলেন, গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতারের পর জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পুলিশ লাইনে এসপি হারুন বেশকিছু আধুনিকায়নের কাজ করেছেন। এর মধ্যে পুলিশ লাইন মসজিদে এসি স্থাপন, পুলিশ লাইন স্কুলের সংস্কার ও পুলিশ লাইনের পুকুরের লিজ বাতিল করে পুলিশ সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে মাছ ধরার ব্যবস্থা করা, পুলিশ লাইনের খেলার মাঠের সংস্কার ইত্যাদি পদক্ষেপ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

২১/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: