কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধার আবেদন

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সম্পাদক সমীপে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তখন ছিল এপ্রিল মাস। মা বাবার অজান্তে প্রশিক্ষন নেই। মে’র মাঝামাঝি ভারতের মেঘালয় প্রদেশের তুরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ট্রেনিং করি। মুক্তিযুদ্ধের ১১নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে যুদ্ধ“করি। একদিন সম্মুখ যুদ্ধ চলাকালে মাথার চুলঘেঁষে গুলি চলে। অল্পের জন্য বেঁচে যাই। যুদ্ধ শেষে আর্থিক অসচ্ছলতায় ছাত্রজীবন শেষ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৫ সালে বিয়ে করি। দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তানকে বহু কষ্টে লেখাপড়া শিখেয়েছি। মেয়ে বিবাহিতা। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সারোয়ার জাহান ডিপোমা ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও স্নাতকোত্তর পাস। সে গত ১৪ নবেম্বর তারিখ সুগার কর্পোরেশনে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে লিখিত পরীক্ষা দেয়। ভাল করার পরও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় স্থান পায়নি। ইতোমধ্যে তার চাকরির বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে। ছোট ছেলে সোলায়মান জাহান ইমন, অনার্স, মাস্টার্স করে বিভিন্ন দফতরের চাকরির জন্য আবেদন করে যাচ্ছে। কিন্তু আমার একটি সন্তানের ভাগ্যেও চাকরি জুটেনি। বড় আশা ছিল, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সন্তানদের চাকরি হলে অভাবের সংসারে কিছুটা দুঃখ হয়তো লাঘব হবে। ব্যক্তি জীবনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জন্মলগ্ন থেকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছি। বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ হয়ে শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে অসহায় মুক্তিযোদ্ধার দুটি শিক্ষিত বেকার সন্তানকে একটি চাকরির সুব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানাই।

এমএ সালাম, কমান্ডার

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা

হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ।

ইমারতের পার্কিং স্থান

রাজধানীতে ইমারত মার্কেটের পার্কিংস্থান গুলো বাণিজ্যিক কাজে দোকানপাট বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান সঙ্কোচন হওয়ার জন্য যানজটের হারও বাড়ছে। অন্যতম প্রধান কারণ যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। বিভিন্ন মার্কেট এর এবং ভবনে পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার জন্য যেখানে-সেখানে এলোমেলোভাবে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। ইমারত নির্মাণের সময় যথাযথভাবে পার্কিংয়ের জায়গা না রাখা, ওই জায়গায় বাণিজ্যিক কাজে দোকানপাট ভাড়া দেয়া, এমনকি সম্পূর্ণ ইমারত বাণিজ্যিক কাজে ভাড়া দেয়ার পরেও পার্কিংয়ের জন্য বরাদ্দ জায়গার বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বাড়িওয়ালা বা ভবন মালিকদের জন্য একটি সাধারণ ঘটনা। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) প্রদত্ত ইমারতের পার্কিং স্থান বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার সংক্রান্ত জরুরী বিজ্ঞপ্তিটি উল্লেখ করা যায়। কিছুদিন আগে উত্তরার সোনারগাঁ জনপথের মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিস লি. -এর জরুরী ভিত্তিতে রোগী নিয়ে যাই। পার্কিং এর স্থানে যথারীতি দোকানপাট থাকায় গাড়ি বাইরে রেখে যেতে হয়। ডাক্তার দেখানো শেষে এসে দেখা যায় গাড়িতে পুলিশের রেকার লাগানো। যারা ওই পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা এবং এ বিষয়ে রাজউকের নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। যা পিড়াদায়ক।

এম আলম

উত্তরা, ঢাকা।

আত্মঘাতী বক্তব্য আর নয়

কুমিল্লা টাউন হলে সম্প্রতি ২০ দলের আয়োজনে এক জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া তাঁর বক্তৃতায় র‌্যাব-পুলিশকে জাতিসংঘের শান্তিমিশনে না নেয়ার যে আবেদন জানিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। এটি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অন্যায় আবদার বলে দেশের মানুষ মনে করেন। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর দেশ এবং নেতৃত্বদানকারী দেশও বটে। পৃথিবীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশে শান্তিরক্ষী মিশনে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও গুরুদায়িত্ব পালনকারী দেশও বটে। কাজেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি বিশাল জনসভায় এমন আবেদন করেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে জিএসপি সুবিধা নেয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তাও দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিক শ্রেণী পছন্দ করেনি। যদি বেগম জিয়া কখনো প্রধানমন্ত্রী হন, নিশ্চয় জাতিসংঘের শান্তিমিশনে বেশি বেশি বাংলাদেশী সেনাসদস্য ও পুলিশ পাঠাতে সচেষ্ট হবেন। তাই এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত নয় কি?

রণজিত মজুমদার

সোনাগাজী, ফেনী।

প্রশ্ন ফাঁস হয় কেন

পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেলে সেই পরীক্ষা মূল্যহীন হয়ে যায়। কারণ পরীক্ষা মানেই ভাল ছাত্র আর মন্দ ছাত্রের যাচাই করা এবং মেধাবী ছাত্রদের খুঁজে বের করা। প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেলে সঠিক মেধাবীদের খুঁজে বের করা যায় না। প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেলে সেই প্রশ্ন পেয়ে মন্দ ছাত্রও অনেক বেশি নম্বর্র পেতে পারে, লেখাপড়া অনেক কম করেও। সেক্ষত্রে যারা অধিক লেখাপড়া করে তারা ঠকে যায়। আসলে অধিক পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবি! এই পৃথিবীতে যারা অধিক বেশি লেখাপড়া করেছে তারাই ততবেশি জ্ঞানী হয়েছে এবং সৌভাগ্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর পড়ে পরীক্ষা দিয়ে যারা অধিক নম্বর পেয়েছে, ভাল ডিভিশন পেয়েছে, তারা শুধু সার্টিফিকেটই পেয়েছে। কিন্তু জ্ঞানী হতে পারেনি। বেশি জ্ঞানী হতে হলে অধিকু লেখাপড়া করতে হয়। আর মন্দ ছাত্রদের কাছে যেসব মন্দব্যক্তি প্রশ্ন বিক্রি করে থাকেন তাঁরা জঘন্য অন্যায় করে থাকেন। অপরাধের শাস্তি তাঁদের পেতেই হবে। এ ব্যাপরে কতৃপক্ষের নরিব থাকা কোনো ভাবেই সংগত নয়।

দিপু প্রামাণিক

ঢাকা।

স্টেডিয়াম চাই

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন জয়পাড়া একটি প্রসিদ্ধ স্থান। এখানে একটি বিরাট হাট আছে। উপজেলা সদরটিতে স্কুল-কলেজ আছে ও একটি খেলার মাঠ আছে। এই মাঠটি স্টেডিয়ামে উন্নীত করা প্রয়োজন। খেলাধূলার বিকাশে মাঠটি স্টেডিয়াম করাহলে ক্রীড়াক্ষেত্রে এলাকাটি এগিয়ে যাবে।

আবদুল মাজেদ চোকদার

জয়পাড়া, ঢাকা।

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা শুনে ভোক্তা সাধারণরা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। দাম বাড়ানো হলে দেশের সিংহভাগ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্ব স্ব বিভাগের জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া সংগত। লোকসানও হয়, তবুও অন্তত ভর্তুকি দিয়ে হলেও গ্যাস বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর জন্য অনুরোধ থাকছে।

‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর পক্ষেই দেশের শতকরা ৯৯ ভাগ সাধারণ জনগণ।’ এই উচ্চারণ এক বৃদ্ধের, তার মতে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো না হলে এ সরকারের জনপ্রিয়তা আরও আরও বেড়ে যাবে। সুতরাং যারা দাম বাড়ানোর পক্ষে সাফাই গাইছেন, মূলত-তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছেন। কুপরামর্শ দিয়ে সরকারের জনপ্রিয়তায় ভাটা লাগাতে চাইছেন। বর্তমানে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার- জনগণের অতি প্রিয় দল। তাই গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নয়, বরং জনগণের কথা ভাবাউচিত-জনগণের কল্যাণে কাজ করা জরুরী। কারণ, জনগণ যে বর্তমান সরকারের পাশে আছে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা।

ভুলে ভরা পাসপোর্ট

পাসপোর্ট ডেলিভারি নেয়ার সময় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টগুলোতে (এম আরপি) প্রায়ই নাম-ঠিকানা বা বয়স ভুল ধরা পরছে। যা পাসপোর্টের আবেদনকারীদের সংক্ষুদ্ধ করছে। কারণ পাসপোর্টে ব্ত্তৃান্তসমূহের ইতিহাস লেখক কম্পিউটারে সাধারণত এ ভুল করে থাকে। পরে ছবি তোলার স্থানে এত ভিড় এবং ধাক্কা-ধাক্কির মধ্যে কোন ভুল আছে কিনা তা তাড়াতাড়ি দেখতে বলে। স্বল্পসময়ে সেই ভিড়ের মধ্যে সংশোধন করার পরিবেশ নেই। তারপর লেখাপড়া না জানা, বা কম লেখাপড়া জানা বিশেষত মহিলাদের পাসপোর্টে প্রায়ই ভুল নিয়ে হৈ চৈ করতে দেখা যায়। তারপর এটি সংশোধন করা আরও কষ্টকর এবং ঝামেলার কাজ। কর্মকর্তারা তখন পাঠাবেন এই বিল্ডিং হতে ওই বিল্ডিং, তারপর এই রুম থেকে ওই রুমে দৌঁড়াদৌড়ি করতে হয়। ভুল সংশোধন ছাড়াও পাসপোর্ট তৈরির যাবতীয় কাজ বিশেষ সংস্থারর দায়িত্বে দেয়ার পরও পাসপোর্ট অফিসে শৃঙ্খলা তো দূরের কথা বিশৃঙ্খলা আরও বেড়েছে। ইদানীং পাসপোর্টে যে হারে ভুল দেখা যাচ্ছে, এতে বার বার পাসপোর্ট আবেদনকারীরকে অফিসে আসা-যাওয়া করতে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয় এবং পাসপোর্টও নষ্ট নয়। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের চরম দুর্ভোগ ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা অতীব জরুরি।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

ফরিদাবাদ, ঢাকা।

নাজুক সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো

সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুব নাজুক অবস্থায় আছে। আমাদেও জানা যে ভাল স্কুলগুলোর মধ্যে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো অন্যতম। অথচ এখন পরিস্তিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অভিভাবক নেই বললেই চলে। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে ঢিলেঢালাভাবে চলছে। উচ্চপর্যায়ে কোন রকম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। দেখা যায় কোন কোন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কোন রকমে চলছে। কারও কথা কেউ মানছেন না। বিশেষ করে একাডেমির ক্ষেত্রটা একেবারে নাজুক অবস্থায়। এ ক্ষেত্রটা দেখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক। কারণ প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন মিটিং ও প্রশাসনিক কাজ নিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকতে হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটা দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার ফলে একজন সিনিয়র শিক্ষক দিয়ে কোন রকমে দায়সারা দায়িত্ব পালন চলে। এতে কারও কথা কেউ শুনছেন না। যার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা যারা অভিভাবক আছি তারা শুধু প্রাইভেট টিউটরের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে উচ্চপর্যায়ের কোন ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রধান শিক্ষকরা ধরাকে সরা জ্ঞাণ মনে করেন এবং প্রতিনিয়ত দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাঁর কোন ধরনের জবাবদিহিতা নেই। তাই এ ব্যাপারে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রতি সুনজর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ বখতিয়ার হোসেন

ছাগলনাইয়া, ফেনী।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

২০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: