মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জঙ্গলে মঙ্গলে বাঙালী রানী

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

অরণ্যের গান শুনেছেন তিনি। অরণ্যবাসীর প্রাণের স্পর্শ পেয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রকৃতি সুরক্ষার নয়া কণ্ঠস্বর। গহীন সেই অরণ্যে প্রকৃতির সন্তানদের কাছে সভ্য জগতের একজন হয়েও হলেন তিনি তাদেরই চোখে তাদেরই রানী। তারাও আপন করে নিয়েছে বাঙালী বংশোদ্ভূত এই নারীকে। আদিম সন্তানদের জীবন আধুনিক সভ্যতার বিষক্রিয়ায় সঙ্কুচিত হয়ে পড়তে পারে- এই আশঙ্কা তাকে পীড়িত করে। পরিবেশবান্ধব পৃথিবীর খোঁজে এখন তাঁর নিরন্তর পথচলা। চাওয়া তাঁর, বিশুদ্ধ প্রকৃতিকে ঘিরে যাদের জীবন চলে, তাকে দূষিত করা যাবে না। সংশয় তাঁর, তেলের খোঁজে কোম্পানিগুলো ব্যবসার নামে যেভাবে অরণ্যবাসীদের বসতভূমি ধ্বংস করছে, তাতে প্রকৃতির সামঞ্জস্য নষ্ট তো হবেই, পরিবেশের মূল শিকড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, ব্রিটিশ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এবং ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাগ্রহণকারী সারাহ বেগম সাহস ও শক্তিমত্তার ডানায় ভর করে এখন আমাজন জঙ্গলের রানী হয়েছেন। বনবাসীদের আপনজনে পরিণত হয়েছেন। হয়েছেন বনবাসীর বধুয়া।

আমাজনের গহীন অরণ্যে অর্থাৎ রেইন ফরেস্টে গিয়েছিলেন সারাহ বেগম তথ্যচিত্র নির্মাণে। কিংস্টোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের ডিগ্রীধারী সারাহ সেখানকার হাজারো অরণ্যচারী নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে আদি সভ্যতার ধারক প্রাচীন গোত্র ওয়ারানিকে। নগ্নতা যাদের কাছে প্রশ্নহীন অভিব্যক্তি। সারল্যে ভরা যাদের জীবন। সেই তাদের সঙ্গে থেকে, তাদের পর্যবেক্ষণ করার মতো দুরূহ কাজটি সম্পন্ন করেছেন, আর নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘আমাজন সোল’ বা আমাজন হৃদয়। দুঃসাহসী রোমাঞ্চপ্রিয় সারাহ আধুনিক সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন একদল মানুষ, নিরাবরণ যাদের সমাজ, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছেন, তাদের একজন হয়ে গেছেন। সারাহ কোন একজন বাঙালী হিসেবে সাহস শুধু নয়, মানবসভ্যতার কল্যাণ ও মঙ্গলে পৃথিবীর এক প্রান্তের সভ্যতা বিচ্ছিন্ন প্রকৃতির সন্তানদের রক্ষার ব্রত নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী সারাহ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছেন মানবের আদি ধারার চিত্র। যুগান্তকারী এক সৃষ্টির ভেতর দিয়ে তিনি হাঁটছেন। আর সে কারণেই ওয়ারানি গোত্রের কাছে সারাহ তাই রানীর আসনে অলঙ্কৃত। তিনি যে তাদের একজন হতে পেরেছেন, বিশ্ববাসীকে জানাতে পেরেছেন, বাঙালী তথা বাংলাদেশী হিসেবে তো গৌরবেরই। সারাহর আবেদন বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে যাক- মানবসভ্যতার আদি ধারা সংরক্ষিত হোক এমনটাই তাঁর মতো আমাদেরও কাম্য। সেইসঙ্গে নির্বিঘ্নে হোক তাদের আগামীর পথ।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

২০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: