মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্ব শান্তির জন্য সুসংবাদ

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বৈরিতা দু’পক্ষের কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না; অহেতুক বাড়ে টেনশন, ছড়ায় বিদ্বেষ। আর বিশ্বপ্রেক্ষাপটে দু’টি রাষ্ট্রের ভেতর বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করলে তা কেবল ওই বড় দু’টি রাষ্ট্রের জন্যই নেতিবাচক হয়ে ওঠে না বরং দু’টি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য, বলা সমীচীন গোটা বিশ্বের জন্যই অস্বস্তিকর এবং উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রদত্ত এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে সুসংবাদ এবং এই শুভবুদ্ধির জন্য বিশ্বের কল্যাণকামী মানুষের সাধুবাদ তিনি পাবেন। বলা দরকার ওবামার ভাষণের প্রায় কাছাকাছি সময়ে জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। জানা গেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলা হবে। ওয়াশিংটনেও খুলবে কিউবা তার দূতাবাস।

দীর্ঘ অর্ধ শতকের বেশি সময় ধরে দু’টি রাষ্ট্রের ভেতর সুসম্পর্ক না থাকার বিষয়টি আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিস্ময়কর বলেই মনে হয়। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দুই পরাশক্তির ঠা-া লড়াইয়ের মোড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার মিত্র কিউবার সঙ্গে আমেরিকার সাপে-নেউলে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায়ের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

১৯৫৯ সালে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি বাতিস্তা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং কিউবায় একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন চালু হয়। দায়িত্ব নেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। পরের বছরই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কিউবা। এরপর শুধু বৈরিতা ও বিদ্বেষ পোষণের ইতিহাস। ১৯৬০-৬১ সালে কিউবায় মার্কিন শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর জাতীয়করণ হয়। এজন্য কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি আমেরিকা। প্রতিবাদে কিউবার সঙ্গে বৈদেশিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আমেরিকা। শুরু হলো বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা। সিআইএর মদদে আমেরিকায় নির্বাসিত কিউবার নাগরিকরা ক্যাস্ত্রোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে অভিযান চালাল। ‘বে অব পিগস’-এর এই অভিযান ব্যর্থ হয়। ২০০১ সালে মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে তথ্য পাচারের অপরাধে পাঁচ কিউবার নাগরিক শাস্তি পেলেন। এদেরই ‘কিউবান ফাইভ’ বলে। ২০০৮ সালে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর অবসর গ্রহণের পর কিউবার প্রেসিডেন্ট হন রাউল ক্যাস্ত্রো। ধীরে ধীরে কিউবায় সংস্কার শুরু হলো। কিউবায় মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াত বাড়ল। কিন্তু পাঁচ বছর আগে মার্কিন ত্রাণকর্মী এ্যালেন গ্রস বন্দী হওয়ার পর দু’দেশের ভেতরকার তিক্ততা চরমরূপ নেয়। সম্প্রতি উভয় দেশই বন্দী মুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রসর হয়।

নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দুই রাষ্ট্রপ্রধান পরস্পর করমর্দন করেন। সেটিই ছিল সম্পর্কের বরফ গলবার সূচনা। এরপর পোপ ফ্রান্সিসের সহযোগী ভূমিকায় দু’দেশের প্রশাসনিক আলোচনায় অগ্রগতি সাধিত হয়। যার ফলে উভয় রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে স্বস্তিদায়ক ঘোষণাটি এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা দু’টি দেশের বৈরিতার অবসানের পর পরস্পর বন্ধুরাষ্ট্রে পরিণত হোকÑ এটাই প্রত্যাশা। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকারও করেছেন। বিশ্ব শান্তির জন্য প্রাপ্ত সুসংবাদটি আগামীতে বয়ে আনুক আরও কিছু শুভবার্তা। এ মুহূর্তে এটাই বিশ্ববাসীর চাওয়া।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

২০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: