মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অযোগ্যতা ঢাকতে জিয়া পরিবার কুৎসা রটাচ্ছে

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪
  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

মাঝেমধ্যে ভাবি একজন শিক্ষিত মানুষ কেন, কি কারণে ‘অশিক্ষিত মিলিটারি জিয়া পরিবারের’ নেতৃত্বে রাজনীতি করে? অর্থাৎ বিএনপি করে। দীর্ঘদিন এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি। খুঁজতে খুঁজতে এবং কিছু শিক্ষিত মানুষকে দেখে দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কেবল আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণেই তারা বিএনপি করে। তাদের মধ্যে পাকিস্তানপ্রেম আছে, পাকিস্তানী মিলিটারি জান্তাকে পরাভূত করে বাংলাদেশ বানানোর জ্বলন আছে, স্বাধীনতার বিরোধিতাও করতে পারছে না প্রকাশ্যে। সে কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতার আড়ালে মূলত স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য বিএনপির ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. মঈন খান, ড. ওসমান ফারুক, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াÑ এদের আর যাই বলা হোক অশিক্ষিত বলার কোন সুযোগ নেই। তারা শিক্ষিত নন এমন কথা তাঁদের চরম শত্রুও বলবে না। কিন্তু তারপরও তারা বিএনপি করছেন। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে লো-প্রোফাইলে। আরেকটি সম্প্রদায় আছে যাদের বাপ-চাচা রাজাকার ছিল (যেমন রাজাকার চখা মিয়ার পুত্র মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর), ছেলে রাজাকারের সন্তান বলে নিজের পরিচয় দিতে লজ্জা পাচ্ছে অথচ পাকিস্তানপ্রেম আছে, তাই বিএনপি’র ছাতাই একমাত্র আশ্রয়স্থল। আরেকটি গ্রুপ আছে যাদের শিক্ষাই হলো ভারত বিরোধিতা। এরা আওয়ামী লীগকে প্রো-ভারতের জায়গায় দাঁড় করিয়ে বিএনপিই তাদের মূল ঠিকানা মনে করে সুখ পায়।

লেখার শুরুতে আমি ‘অশিক্ষিত মিলিটারি জিয়া পরিবার’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছি। নইলে যে মানুষটি বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, যে মানুষ জাতির আজন্ম স্বপ্ন-সাধ, আপন জাতি-রাষ্ট্র পিতা, ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করে, তাঁর আজীবন সংগ্রাম এবং দেশপ্রেম নিয়ে যে অর্বাচীন প্রশ্ন তোলে, তাকে উন্মাদ বলা হবে না মাতাল বলা হবে, তারচেয়েও বড় কথা হলো সে একটা গণ্ডমূর্খ তার মায়ের মতোই। সেই উন্মাদের নাম হলো তারেক রহমান- অর্ধশিক্ষিত মিলিটারি জিয়া ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। এই সন্তানের নামে তার মায়ের মতোই অনেক মুখরোচক কাহিনী আছে। এই গুণধর সন্তান শুনেছি সেন্ট জোসেফ স্কুল বা শাহীন স্কুল ডিঙ্গাতে পারছিল না বলে ঢাকার বাইরে কোন এক অখ্যাত স্কুল থেকে কোনরকমে ম্যাট্রিক পাস করেছে (তাও বাইরে থেকে খাতা সাপ্লাই), এরপর কোথায় লেখাপড়া করেছে কেউ জানে না। যেমন তার মা বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা কেউ বলে ‘৬ সাবজেক্ট ফেল ম্যাট্রিক পাস’ আবার কেউ দাবি করে কিছুদিন কলেজেও পড়েছেন? তবে মা-বেটার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যেভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে তার প্রভাব পড়েছে দলে। যে কারণে মীর্জা ফখরুল, রিজভী বা গয়েশ্বর বাবুরা যত কথা বলেন তার বেশিরভাগই মিথ্যে বলেন। মনে হয় তারা মিথ্যের কারখানা থেকে বেরিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

তারেক রহমান তার মায়ের মতো স্কুল-কলেজ পার হতে না পারলেও দুর্নীতির সূচকে চ্যাম্পিয়ন। নানান দুর্নীতি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন কর্মকাণ্ডের দায় মাথায় নিয়ে পলাতক আসামি হিসেবে লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। এই কীর্তিমানের আরও কিছু কীর্তি তুলে ধরছি। ১. আশির দশকে ধানম-ি থানায় কিছু সময়ের জন্য যেতে হয়েছিল। সে সময়কার থানার ওসির (নাম বললাম না) মুখে শুনেছি ডব্লিউ+ডব্লিউসহ ধরা পড়েছিল। পরিচয় দেয়ার পর ওসি তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে নিয়ে মা খালেদার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে ছেলেকে কন্ট্রোল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, ২. আমাদের সাংবাদিকতা জগতের বাতিঘর আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, “একদিন ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে দেখি মেজর সাহেব (জিয়া) এক বালককে বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলেছেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন খালেদা জিয়া। তিনি কিছু বলছেন না। ছোট্ট বালককে কেন মারছেন বলতেই জিয়াউর রহমান বললেন, আরে ভাই বলবেন না, তার কুকর্মের জন্য শাহীন স্কুল থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। মেয়েদের সঙ্গে যত সব কুকর্ম করে বেড়ায়। এই সেই তারেক রহমান মামলার ভয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছে, ৩. একজন সিনিয়র ডাক্তারের মুখে শুনেছি তারেক যাকে বিয়ে করেছে এবং এখন লন্ডনে আছে, সে খুব ভাল মেয়ে ছিল। তারেক তাকে জবরদস্তি বিয়ে করেছে ক্ষমতার দাপটে। এই তারেক লেখাপড়ায় ‘আদু ভাই’ হলে কি হবে বৈষয়িক বুদ্ধিতে টনটনা, ৪. এরশাদের সময় শোনা গেছে মাত্র তিন দিনে একটি শিল্প ঋণ পাস করিয়ে টাকা তুলে নিয়েছিল। ব্যারিস্টার মওদুদ তখন এরশাদের মন্ত্রী ছিলেন, ৫. তারপর টাকা তোলার এবং রাখার জন্য হাওয়া ভবন গড়ে তোলা, ৬. ফুর্তি করার জন্য খোয়াব ভবন, ৭. ৪৮ স্যুটকেস নিয়ে মার সঙ্গে সৌদি আরব গমন (তখন এটি মুখরোচক খবর ছিল যে, ওই স্যুটকেসগুলো বিদেশী মুদ্রা ভর্তি ছিল)। আর এখন তো লন্ডনের এক অভিজাত এলাকায় বসবাস।” গাফ্ফার চৌধুরী বুধবার আরও বলেছেন- “এক সময় হাওয়া ভবন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা বা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন হাওয়া ভবন নেই, মায়ের সঙ্গে দেখা হয় না, অর্থসম্পদও শেষ হয়ে আসছে... মামলার ভয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছে, দেশে এসে মামলা ফেস করার মতো সাহসও নেই। তাকে নিয়ে বলার কিছু নেই।”

এই সেই তারেক রহমান যে লন্ডনে বসে লোক ভাড়া করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে বেআদবি করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। ভাবলে গা শিউরে ওঠে, এই উন্মাদ বলে কিনা বঙ্গবন্ধু ‘রাজাকার?’ ছিলেন। এর আগে বলেছে “বঙ্গবন্ধু নয়, পাকবন্ধু”, বঙ্গবন্ধু ‘পাকিস্তানী পাসপোর্ট’ নিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন; বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি, করেছেন তার বাপজান; বঙ্গবন্ধু প্রথম রাষ্ট্রপতি নন, প্রথম রাষ্ট্রপতি তার বাপজান, বিদেশের মাটিতে বসে এতবড় ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছে ‘রং হেডেড’- ভাবা যায়, কত বড় ধৃষ্টতা? কত বড় বেআদবি? এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল, তারেকের লন্ডনের সভায় বিএনপির রিজভী আহমদও উপস্থিত ছিলেন।

গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, “তাকে নিয়ে বলার কিছু নেই, যা ইচ্ছা বলুক, তাতে বঙ্গবন্ধুর কিছু আসে যায় না। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা তার নেই, .... বিলেতে গিয়ে এখন ‘উন্মাদ’ হয়ে গেছে। ‘উন্মাদ’ অবস্থায়ই তার পরিণতি হবে।”

অবশ্য একা তারেক ‘উন্মাদ’ হয়নি- গোষ্ঠীসুদ্ধ সব এখন উন্মাদ-অর্ধ উন্মাদ। ক’দিন আগে এক টিভি চ্যানেলে দেখলাম তারেকের মা খালেদা জিয়া বলছেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়।” বস্তুত বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এত বিরাট এবং বিশাল যে, তার নাগাল না পেয়ে জিয়া পরিবার এখন মিথ্যা, নোংরা ও কুৎসা রটনায় নেমেছে। মীর্জা ফখরুল বলেছেন, “বুদ্ধিজীবী হত্যা নাকি করেছে মুজিব বাহিনী, অর্থাৎ বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট বা বিএলএফ।” যে বিএলএফ ছিল ৭১-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযোদ্ধা ফ্রন্ট বা বাহিনী।

এরপর একা তারেককে উন্মাদ বলা হবে কেন? মোটামুটি পুরো লটই তো উন্মাদ-অর্ধ উন্মাদ। ভিত্তিহীন বানোয়াট কথা বলে, তা যত বড় মিথ্যাই হোক, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের ব্যর্থ চেষ্টার বাইরে খালেদা বা জিয়া পরিবারের করারইবা কি আছে। প্রথম প্রায় ৮ বছর ক্ষমতার বাইরে, চেহারার হাসি দিনে ফুরিয়ে যাচ্ছে, ৮ বছর আগের ৫ বছরও (২০০১-২০০৬) ব্যর্থতা আর অপকর্মের জ্বালা, ২০১৩ সালে বছরব্যাপী নির্বাচন ঠেকানোর জন্য মানুষ হত্যা, যাত্রীবাহী রেলগাড়ি, বাস, টেম্পো, অটোরিকশা, কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বা ‘সাঈদীর মুক্তির দাবিতে পবিত্র কাবায় মানববন্ধন’-এর মতো মিথ্যা নিউজ ছেপে বা হেফাজতের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে (কোরআন-হাদিসে আগুন দিয়ে) যখন ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানো গেল না, বরং সিপিএ বা আইপিইউতে যথাক্রমে স্পীকার ড. শিরীন শরমিন চৌধুরীর এবং সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ৫ জানুয়ারির পার্লামেন্টের প্রতি আন্তর্জাতিক ফোরামের স্বীকৃতি লাভ, এরপর খালেদা-তারেকের উন্মাদ হওয়া ছাড়া আর কি? ‘বঙ্গবন্ধু রাজাকার’, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি’, ‘শেখ হাসিনা রং হেডেড’Ñএসব পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কি?

পক্ষান্তরে এ ৮ বছরে প্রথমে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার এক কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোটার বাতিল, ছবিসব আইডি কার্ড ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন, পাঠ্য বইয়ের ইতিহাস বিকৃতি সংশোধন, দুর্নীতির দায়ে তারেককে গ্রেফতার এবং একটি স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান (যে নির্বাচনে খালেদার আসন ছিল মাত্র ২৯টি, বাকি সব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির পক্ষে) এবং গত ৬ বছরে খাদ্য উৎপাদন তিন কোটি ৭০ লাখ টনে উন্নীত করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা, জিডিপি টানা ৬ শতাংশের ওপর ধরে রাখা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা, একটার পর একটা ফ্লাইওভার নির্মাণ করে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টিয়ে দেয়া, সর্বোপরি যত কর্মসূচীই খালেদা দিচ্ছেন জনগণ কোনটাতেও সাড়া দিচ্ছে নাÑ এরপর খালেদা-তারেকের সুস্থ থাকার সুযোগ কোথায়? যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের অর্থ খেয়ে বসে আছেন অথচ ওদিকে জামায়াত নিষিদ্ধ করার বিল সংসদে আনছে বলে আইনমন্ত্রী ঘোষণা দিলেও কিছু করতে পারছেন না, এরপর মা-বেটার উন্মাদ হওয়া ছাড়া আর তো কোন পথ নেই।

নিবন্ধের শুরুতে বলেছিলাম এরপরও যেসব শিক্ষিত লোক বিএনপিতে আছেন, বুঝতে হবে তারা হয় অসহায়, নয়ত কোথাও না কোথাও তাদের হাত-পা বাঁধা। নইলে তারেক-খালেদা যেই দলের নেতানেত্রী সেই দলে কোন শিক্ষিত ভদ্রলোক থাকতে পারে না।

ঢাকা ॥ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

২০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: