মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সন্ত্রাসীদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। উদ্দেশ্য ওইসব সন্ত্রাসীর মাধ্যমে বিস্ফোরক সংগ্রহ করা। চালকবিহীন কোয়াড হেলিকপ্টার বা ড্রোনে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। সেই বিস্ফোরক যোগাড় করতেই এমন পরিকল্পনা। বিস্ফোরক বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি থাকায় দীর্ঘ মেয়াদী এমন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে জঙ্গী সংগঠনটি। বিস্ফোরক ভর্তি কোয়াড দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা চলছে। রিমান্ডে থাকা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।

গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শহীদ ফারুক হোসেন সড়ক এলাকা থেকে কোয়াড হেলিকপ্টার বা ড্রোনের কাঠের তৈরি একটি রেপ্লিকা, ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ও উগ্রমতবাদ সংবলিত বইপত্রসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হয় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য মোঃ তানজিল হোসেন বাবু (২৬) ও মোঃ গোলাম মাওলা মোহন (২৫)। ৫ দিনের রিমান্ডে থাকা দু’জনকে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ হওয়ার পর হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে জঙ্গী সংগঠন সৃষ্টি করে। তাদের প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা। শেখ হাসিনা ইসলামের শত্রু বলেও প্রচার চালাচ্ছে সংগঠনটি। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তাদের অপারেশন সফল করতে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য তারা চালকবিহীন ড্রোন বানিয়ে তাতে বিস্ফোরক ভর্তি করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এমন পরিকল্পনা বহু দিনের। তবে বাস্তবায়নের জন্য গত ৬ মাস ধরে কাজ করছে জঙ্গী সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিকতায় তারা ড্রোন তৈরি করে।

সূত্র বলছে, ড্রোন তৈরির প্রযুক্তিটি তাদের বাজারে কিনতে পাওয়া খেলনা উড়োজাহাজ নির্মাণের প্রযুক্তি থেকে ধার করা। দেশে-বিদেশে অনেক খেলনা উড়োজাহাজ কিনতে পাওয়া যায়, সেসব উড়োজাহাজ অনেকক্ষণ ধরে আকাশে উড়তে পারে। কিন্তু ভারি কোন বস্তু বহনে সক্ষম নয়। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গ্রেফতারকৃত সদস্যরা সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চালকবিহীন খেলনা উড়োজাহাজ বা ড্রোন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিল। তারা প্রায় সে প্রযুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের তৈরি সেই ড্রোন ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ তলা ভবনে হামলা চালাতে সক্ষম।

ড্রোনে খুবই উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। যাতে বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। ড্রোনটি দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো। তারা একসঙ্গে অনেক ড্রোন তৈরি করে সিরিজ হামলা চালানোর পরিকল্পনাও করছিল। সিরিজ হামলা চালাতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক প্রয়োজন। সম্প্রতি বিস্ফোরক বিক্রির ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। এজন্য আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে থাকা সন্ত্রাসীদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে। যদি দলে ভেড়ানো সম্ভব না হয় তাহলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বা গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করে বিস্ফোরক সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে পার্শ¦বর্তী দেশ থেকেও তারা উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক আনার চেষ্টা করছে। এমন প্রচেষ্টার সূত্র ধরেই জঙ্গী সংগঠনটি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খানের ছেলে রিসাদ কামাল খানকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়। রিসাদ কামাল খান রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী লেখা সংবলিত হিযবুত তাহরীরের লিফলেটসহ রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্র বলছে, পুরো নাশকতার ছকটি তারা কয়েকটি ধাপে সাজিয়েছে। এক বা একাধিক গ্রুপ ড্রোন তৈরি করছে। গ্রেফতারকৃতরা ড্রোন তৈরি গ্রুপের সদস্য। এ গ্রুপের আরও ৪ জন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আরেকটি গ্রুপ ড্রোনে বিস্ফোরক সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। তারা উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক যোগাড় করতে নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। এই গ্রুপটির আবার সাবগ্রুপ আছে। বিস্ফোরক দলের একটি অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের দলে ভেড়ানোর টার্গেট নিয়ে কাজ করছে। দলে ভেড়ানো সম্ভব না হলে গভীর সর্ম্পর্ক করে অথবা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এই গ্রুপেরই আরেকটি সাবগ্রুপ সীমান্ত এলাকায় কাজ করছে। তারা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক আনার চেষ্টা করছে।

হামলার টার্গেট নির্ধারণ করবে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা। তাদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী হামলা হবে। হামলার জন্য আগাম রেকি করার দায়িত্বে রয়েছে আরেকটি গ্রুপ। রেকি করার পর গ্রিন সিগন্যাল দিলেই শুরু হবে হামলা। তাদের সিরিজ হামলারও টার্গেট রয়েছে।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪

২০/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: