মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দিল্লীতে কয়েকদিন

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪
  • সাদিয়া তাবাস্সুম (বৃষ্টি)

(পূর্ব প্রকাশের পর)

খেতে বসে বড় মামা হোটেল বয়কে জিজ্ঞেসা করছিলেন, পুরান দিল্লীর বিখ্যাত খাবারের কথা। হোটেল বয় খুব আগ্রহের সঙ্গে জিলেপীর কথা বলেছিল। জিলাপির কথা শুনে সকলেরই জিলাপি চেখে দেখার ইচ্ছা হলো। বড় মামা গরম দেখে এক কেজি জিলেপী কেনার জন্য কিছু রুপী বয়ের হাতে ধরিয়ে দিল। আমরা ভাল হিন্দি বুঝি না। আর হোটেল বয়ও খুব ভালভাবে ইংরেজি বোঝে না, বাংলাতো নয়ই। তবুও খুব কষ্টে সে বুঝল এবং তড়িঘড়ি করে জিলাপি আনতে গেল। মিনিট পনের পর সে ফিরল ঠা-া জিলাপি নিয়ে। হাজার হোক, পুরান দিল্লীর বিখ্যাত খাবার। একবার তো টেস্ট করতেই হয়। আমি, আব্বু, আম্মু কেউ খুব বেশি খেলাম না। কিন্তু বড় মামা আর বড় মামী বেশ আগ্রহ নিয়ে পুরো জিলাপি সাবাড় করে দিলেন। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে, আমি, আব্বু, আম্মু উঠে বড় মামার রুমের সামনে গিয়ে দেখি, একটা কাগজে লেখা, ডোন্ট ডিস্টার্ব মি। দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেও, দরজা না ধাক্কিয়ে নিজেদের রুমে এসে বসে রইলাম। দুপুর হয়ে আসছে, এমন সময় দেখি, বড় মামা রুম থেকে বেরিয়ে খুব দুশ্চিন্তার সঙ্গে আমাদের জিজ্ঞাসা করছেন, তোমাদের কি অবস্থা? আগাগোড়া কিছুই টের না পেয়ে চুপ করে রইলাম তিনজনই। বড় মামা বুঝতে পেরে বললেন, তার মানে তোমাদের কারও কিছুই হয়নি। তোমরা ভাল আছ। আমাদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ রাতের বেশিরভাগ সময়ই বাথরুমে কাটাতে হয়েছে।

আমরা আরও চারদিন দিল্লীতে ছিলাম। কুতুব মিনার, আলাই মিনার, পুরানকেল্লা সহ, নয়াদিল্লীর অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়ালাম। শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ্ আবু সাঈদ স্যারের লেখা ‘ওড়াউড়ির দেশ’ ভ্রমণলিপিতে পড়েছিলাম যে, যদি কোন ব্যক্তি পুরো ভারতবর্ষ ঘুরে দেখতে পারে, তাহলে তার পৃথিবীর অর্ধেকই প্রায় দেখা হয়ে যাবে। সত্যি বলতে কি, সেদিনের সেই বইয়ে পড়া কথাটি যে কতটা সত্য, তার প্রমাণ আমি আমার দিল্লী ভ্রমণের মধ্য দিয়েই পেয়ে গেছি।

(সমাপ্ত)

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪

১৯/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: